kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

রাষ্ট্র মেরামতে সুজনের ১৮ দফা সংস্কার প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ মে, ২০১৯ ০৮:২১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাষ্ট্র মেরামতে সুজনের ১৮ দফা সংস্কার প্রস্তাব

‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কার ও নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) পক্ষ থেকে রাষ্ট্র মেরামতের তাগিদ দিয়ে ১৮ দফা সংস্কার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে দেওয়া প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও নির্বাচনপদ্ধতির পরিবর্তন, কার্যকর জাতীয় সংসদ পরিণত করা, স্বাধীন বিচার বিভাগ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান। 

বৈঠকে এসব সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বলা হয়, “একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে আমাদের রাজনীতিতে ভারসাম্যহীনতা এবং সংকটময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অতীতে অনেকবার আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে জাতিগতভাবে আমরা রাজনৈতিক সংকট সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ১৯৯০ সালে স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলনকালে ‘রাজনৈতিক দলসমূহের পারস্পরিক আচরণবিধি’  বা তিন জোটের রূপরেখা স্বাক্ষর ছিল এই ধরনের উদ্যোগের একটি সফল পরিণতি। তবে রূপরেখা স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে উদ্যোগটি সফল হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তা ছিল ব্যর্থ; যে ব্যর্থতার দায়ভার আজও জাতিকে বহন করতে হচ্ছে। আমরা মনে করি, এই ধরনের সংকটের স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। আর এ জন্য চাই তিন জোটের রূপরেখার আদলে একটি সমঝোতা স্মারক বা জাতীয় সনদ প্রণয়ন ও স্বাক্ষর।”

মূল প্রবন্ধ ও সংস্কার প্রস্তাবগুলো পাঠ করেন সুজনের প্রধান সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার। অনুষ্ঠানের সভাপতি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, ‘রাষ্ট্রের মেরামত জরুরি হয়ে পড়েছে। দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, এটা বারবার প্রমাণিত হয়েছে। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো কিছু একটা বের করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, সুজনের নির্বাহী সদস্য সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, প্রকৌশলী মুসবাহ আলীম, সুজনের জাতীয় কমিটির সদস্য ড. সি আর আবরার, রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, আব্দুল্লাহ আল ক্বাফি রতন প্রমুখ।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগের রাতে কেউ ভোট যেন না দিতে পারে সে জন্য ভোট সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত হওয়া দরকার এবং ভোটের দিন সকালেই ব্যালট বাক্স কেন্দ্রে পাঠানো দরকার।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আমাদের শাসনব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। তাই আশা করছি, শাসনব্যবস্থা ঠিক করা তথা রাষ্ট্রকে মেরামতের জন্য আমাদের সম্মানিত রাজনীতিবিদ রাজনৈতিক সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে সদিচ্ছা প্রদর্শন করবেন, যাতে বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণ ঘটানো যায়।’

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য হারিয়ে যাচ্ছে। সুদক্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে না। জনগণকে ক্ষমতাহীন করে ফেলা হয়েছে। বলা হচ্ছে, মানুষ রাস্তায় নামছে না। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো কি জনগণের দাবিগুলো সামনে নিয়ে মানুষকে সংগঠিত করে তুলতে পারছে? এই অবস্থার উত্তরণে আমি মনে করি, জনগণকে ক্ষমতায়িত করে তুলতে হবে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে, বিচার বিভাগ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে এবং ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা