kalerkantho

সোমবার । ২৪ জুন ২০১৯। ১০ আষাঢ় ১৪২৬। ২০ শাওয়াল ১৪৪০

অনলাইনে রেলের টিকিট না পাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার সিএনএসের

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ মে, ২০১৯ ১৮:৩০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



অনলাইনে রেলের টিকিট না পাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার সিএনএসের

রেলযাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে রেলওয়ে অ্যাপ চালু করেছিল বাংলাদেশ রেলওয়ে। এই অ্যাপ এবং ওয়েবসাইটে রেলের ৫০ শতাংশ টিকিট বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু অ্যাপটি লঞ্চ করার পর এবং ঈদের টিকিট বিক্রি শুরুর আগে থেকেই অনলাইনে টিকিট কাটতে পারছেন না রেল যাত্রীরা। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে সিএনএসের ওয়েবসাইট এবং অ্যাপ ব্যবহার করে টিকিট কাটার চেষ্টা করে ব্যর্থ হতে হয়েছে এই প্রতিবেদককে। আজ থেকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও এতদিনের দুর্ভোগের কথা অস্বীকার করেছে সিএনএস।

রেলওয়ের আইটি প্রতিষ্ঠান সিএনএসের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ। প্রতি ঈদ কিংবা লম্বা কোনো ছুটির আগেই তাদের সার্ভার ডাউন হয়ে যায়। কিন্তু তেলেসমাতি ব্যাপার হলো; সার্ভার ঠিক হওয়ার পর দেখা যায় টিকিট হাওয়া! একই ঘটনা ঘটছে অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে। অনেকে ঢুকতেই পারছেন না অ্যাপে; আর যারা ঢুকতে পারছেন, তারা টিকিট কাটতে পারছেন না।প্রয়োজনীয় সুবিধা যুক্ত না করেই স্রেফ লোক দেখানো একটা অ্যাপ লঞ্চ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন, তারা অ্যাপটির মাধ্যমে টিকেট ক্রয় করলেও ট্রেনের ছাড়ার চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর পাচ্ছেন টিকেট। অনেকেই অভিযোগ করছেন, ঈদের আগে যাত্রীরা যাতে অনলাইনে টিকিট কাটতে না পারেন, সেজন্য ইচ্ছাকৃতভাবে এসব কারসাজি করা হচ্ছে।

যাত্রীদের এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কালের কন্ঠ অনলাইনে সিরিজ প্রতিবেদন (রেলের ডিজিটালাইজেশনে বড় বাধা 'সিএনএস', সিএনএসের কারসাজি : ঈদের আগে ভোগান্তিতে রেলযাত্রীরা) প্রকাশ করা হয় সিএনএসের নানা অপকর্ম নিয়ে। প্রতিবেদন বলা হয়, সেবা তো দূরে থাক, অদক্ষ এই কম্পানি এখন রেলযাত্রীদের বিরক্তি আর হয়রানির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু অদক্ষতাই নয়; কম্পানিটির কর্মীরা জড়িয়ে পড়েছেন দুর্নীতিতে।এরপর গতকাল অ্যাপসের মাধ্যমে রেলের কাঙ্ক্ষিত টিকিটসেবা দিতে না পারায় দুঃখপ্রকাশ করেন রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। মন্ত্রী বলেন, 'অ্যাপসে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সিএনএসের সঙ্গে ২০০৭ সাল থেকে চুক্তি। এ চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে আর বাড়ানো হবে না। সিএনএসের ব্যর্থতার দায় আমরা এড়াতে পারি না। তাই অবশ্যই সিএনএসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

রেলমন্ত্রীর বক্তব্যের পর আত্মপক্ষ সমর্থন করে একটি বিবৃতি দিয়েছে সিএনএস কর্তৃপক্ষ। তাতে বলা হয়েছে, 'ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রয় শুরুর পর থেকে অনলাইনে টিকিট প্রাপ্তি সম্পর্কে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন এবং সোশ্যাল মিডিয়অয় নেতিবাচক মন্তব্য প্রকাশিত হচ্ছে। এমনকী অনলাইনে কোন টিকিট ক্রয় করা যাচ্ছে না বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।' এরপর ৩০ মে এবং ৩১ মে সন্ধ্যা ৭.১৫ মিনিট পর্যন্ত টিকিট বিক্রির তথ্য তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, 'বিবরণ থেকে স্পষ্ট যে, অনলাইন বা অ্যাপসে টিকিট কাটা যাচ্ছে না এ বক্তব্য সঠিক নয়। সিএনএস লিমিটেড টিকেটিং সিস্টেম পরিচালনাকারী একটা আইটি প্রতিষ্ঠান, যারা বাংলাদেশ রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে অ্যাপস, অনলাইন এবং কাউন্টারের মাধ্যমে টিকিট বিক্রয়ের সিস্টেমটি পরিচালনা করে আসছে।' 

টিকিট বিক্রয়ের হিসেবে সিএনএস জানিয়েছে, ৩০ মের জন্য অনলাইনে বরাদ্দ মোট ১১১৫০ টিকিটের বিপরীতে ৭৮.৩৮% টিকিট বিক্রি হয়েছে। আর ৩১ মের জন্য বরাদ্দ ১১৫২৩ টিকিটের বিপরীতে বিক্রয় হয়েছে ৬৮.১৪% টিকিট। ঈদের আগে যখন রেলের টিকিটের জন্য হাহাকার শুরু হয়ে যায়, তখন এত পরিমাণ টিকিট কেন অবিক্রিত থেকে গেল, সে বিষয়ে কোনো সুদুত্তর দিতে পারেনি সিএনএস। তাছাড়া দিনের পর দিন সার্ভার ডাউন থাকা, সকাল ৮টার মাঝেই টিকিট শেষ হয়ে যাওয়া, 'রেল সেবা' অ্যাপ দিয়ে টিকিট কাটার নানাবিধ সমস্যার বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। বৃহস্পতিবার সকালেও রেলওয়ের অ্যাপ দিয়ে টিকিট কাটতে গিয়ে টেকনিক্যাল সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে এই প্রতিবেদককে।

সিএনএস তাদের বক্তব্যে বলেছে, 'প্রতিদিন বরাদ্দকৃত প্রায় ১১ হাজার টিকিটের বিপরীতে ২ লক্ষ যাত্রী টিকিট ক্রয়ের চেষ্টা করেন। এর মধ্যে মাত্র ৫% যাত্রী টিকিট ক্রয়ে সমর্থ হন। ৯৫% ব্যর্থ হন। সুতরাং এই বিপুল সংখ্যক টিকিট প্রত্যাশী অভিযোগ জানাবেন এটাই স্বাভাবিক। এই বিপুল সংখ্যক যাত্রীর টিকিট না পাওয়ার বিষয়ে সিএনএস লিমিটেডের কোনোপ্রকার সম্পর্ক নেই।'

রেলের টিকিট বিক্রির সার্ভারে প্রতিদিন কয়েক লাখ হিট হবে এটা স্বাভাবিক। ঈদ বা লম্বা ছুটির আগে এই হিট বেড়ে যাবে বহুগুণ। সেই সক্ষমতা তৈরি করার বদলে নিজেদের সাফাই গাইছে প্রতিষ্ঠানটি। এতদিন এভাবেই অনলাইনে টিকিট বিক্রি করে এসেছে প্রতিষ্ঠানটি। কালের কণ্ঠ অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পর আরও অনেক গণমাধ্যম বিষয়টিকে গুরুত্বসহাকারে নিউজ আকারে প্রকাশ করে। গণমাধ্যমের কাছে রেলযাত্রীরা দাবি জানিয়েছে, এই অদক্ষ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে দক্ষ কোনো প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে রেলকে। সরকার যে রেল উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তাতে বড় বাঁধা হিসেবে দাঁড়িয়েছে এই সিএনএস।

মন্তব্য