kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

ঋণ খেলাপিদের সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপনের ওপর স্থিতাবস্থা হাইকোর্টের

ওই প্রজ্ঞাপন ‘দুষ্টের পালন, শিষ্টের দমন’ : হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ মে, ২০১৯ ১৬:৩০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ওই প্রজ্ঞাপন ‘দুষ্টের পালন, শিষ্টের দমন’ : হাইকোর্ট

ঋণ খেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে গত ১৬ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতার ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ২৪ জুন পর্যন্ত এই স্থিতাবস্থা দেওয়া হয়েছে। 

বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) করা এক আবেদনে এ আদেশ দেওয়া হয়। আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মো. মনিরুজ্জামান। 

আদালত ওই প্রজ্ঞাপনকে ‘দুষ্টের পালন, শিষ্টের দমন’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, যারা ব্যাংক লুট করে নিয়ে গেছে তাদেরই দুধ-কলা দিয়ে পুষছেন। এই সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে আরো এক লাখ হাজার কোটি টাকা পাচারের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। আদালত বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক কিভাবে ঋণ খেলাপিদের পক্ষ নেয়? আদালত বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা ব্যবসা বান্ধব নয়। সুদখোরদের ব্যাংক হয়ে গেছে। 

আদালত বলেন, প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সেটাই আমাদের দেখার বিষয়। আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘ওয়ান ডিজিট সুদ’ ব্যবস্থা কার্যকর করতে পারলেন না। অথচ শতকরা ২ ভাগ ডাউন পেমেন্ট নিয়ে তাদের শতকরা ৯ ভাগ হার সুদে বাকী ঋণ পরিশোধের সুযোগ করে দিচ্ছেন। আর যারা প্রকৃত ব্যবসায়ী তাদের কাছ থেকে শতকরা ১৪/১৫ ভাগ হারে সুদ নেওয়া হচ্ছে। এই বৈষম্য কেন?

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনকে হাইকোর্টের সঙ্গে প্রতারনা বলে উল্লেখ করেছেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। তিনি বলেন, আদালতের আদেশ অকার্যকর করতেই বাংলাদেশ ব্যাংক এই প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।  
তবে বাংলাদেশ বাংকের আইনজীবী বলেছেন, খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্যই কৌশল হিসেবে এই প্রজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে।

আজ আদেশের পর অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, ঋণ খেলাপিদেরকে নতুন করে একটা সুযোগ দিয়ে ২ শতাংশ সুদ জমা দিয়ে ১০ বছরের জন্য ঋণ পুনঃ তফসিলের জন্য সার্কুলার দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ফলে ঋণ খেলাপিরা ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে খেলাপির তালিকা থেকে মুক্তি পাবে। সিআইবিতে তাদের নাম থাকবে না। এর পর তারা আবার নতুন করে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার সুযোগ পাবে। এর মাধ্যমে ব্যাংকের মেরুদণ্ড ভেঙ্গে যাবে। এ কারণে এই সার্কুলার স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছিলাম। আদালত স্থিতাবস্থার আদেশ দিয়েছেন। এই আদেশের পর ওই প্রজ্ঞাপনের সুবিধা কেউ নিতে পারবে না।

এর আগে গত ১৬ মে একই আদালত এক আদেশে ২৪ জুনের মধ্যে ঋণ খেলাপিদের তালিকা দাখিল করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেন। এই নির্দেশের মধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ খেলাপিদের সুবিধা দিয়ে সার্কুলার জারি করে। 

এইচআরপিবি’র করা এক রিট আবেদনে হাইকোর্ট গত ১৩ ফেব্রুয়ারি এক আদেশে ঋণ খেলাপির তালিকা দাখিলের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে রুল জারি করেন। রুলে আর্থিক খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিন, ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ, সিটি ব্যাংকের সাবেক সিইও মামুন রশিদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন প্রতিনিধি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধির সমন্বয়ে কমিশন গঠনের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং এই কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের দুই সচিব, আইন সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। 
এই আদেশের পরও ঋণ খেলাপির তালিকা দাখিল না করায় গত ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ১৫ দিনের মধ্যে তালিকা দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ অবস্থায় গত ১৬ মে ঈদের ছুটি শেষে আদালত খোলার এক সপ্তাহ’র মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা