kalerkantho

সোমবার । ২৪ জুন ২০১৯। ১০ আষাঢ় ১৪২৬। ২০ শাওয়াল ১৪৪০

আলোচনাসভায় মেনন

ঋণখেলাপি নিয়ে প্রজ্ঞাপনের আগে সংসদে আলোচনা করা উচিত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ মে, ২০১৯ ০২:২৯ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ঋণখেলাপি নিয়ে প্রজ্ঞাপনের আগে সংসদে আলোচনা করা উচিত

রাশেদ খান মেনন। ফাইল ছবি

ব্যাংকিং খাতে অর্থ লুটের সমালোচনা করে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, ঋণখেলাপির বিষয়ে পার্লামেন্টে আলোচনার জন্য নোটিশ দিয়েছিলাম। কিন্তু সেটি আলোচনায় আসেনি। ঋণখেলাপিদের জন্য প্রজ্ঞাপন জারির আগে অবশ্যই পার্লামেন্টে আলোচনা করা উচিত।

গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘দুর্নীতি, ঋণখেলাপি ও ব্যাংকিং খাতে নৈরাজ্য বন্ধে বাজেটে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার চাই’ শীর্ষক আলোচনাসভায় মেনন এসব কথা বলেন। ওয়ার্কার্স পার্টি ঢাকা মহানগর কমিটি এ আলোচনাসভার আয়োজন করে।

আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেনন বলেন, দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড় করায় পুঁজিবাজার। অথচ এ পুঁজিবাজারকে দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছে না। এরশাদ সরকারের আমলে পুঁজিবাজারে ধস শুরু হয়। সেটি ১৯৯৬ ও ২০১০ সালেও হয়েছে। এখনো পুঁজিবাজারকে দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছে না।

মেনন বলেন, ‘আমরা দেখেছি যাদের কোনো প্রতিষ্ঠান নেই, তাদেরও পুঁজিবাজার থেকে টাকা তোলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আমার কাছে এ রকম ১০টি তালিকা রয়েছে, যেগুলোর কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। অথচ এরা আইপিও এবং ফান্ড বৃদ্ধির নামে কোটি কোটি টাকা পুঁজিবাজার থেকে তুলে নিয়েছে।’ তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে আর্থিক খাতের অবদান সবচেয়ে বেশি। কিন্তু সরষের মধ্যে ভূত থাকলে এই খাত উন্নয়নে অবদান রাখবে কিভাবে?

ধানের দাম কম এবং সরকারের ধান ক্রয় পদ্ধতির সমালোচনা করে মেনন বলেন, কৃষকরা ধানের দাম পাচ্ছে না। এখানেও দুর্নীতি হচ্ছে। কৃষকের কাছ থেকে এক লাখ টন ধান নেওয়া হবে, বাকিটা মিল মালিকদের কাছ থেকে নেওয়া হবে। এটি কেন? ছিয়ানব্বই সালে ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ধান কেনা হয়েছিল বলে কৃষকরা ধানের ন্যায্য দাম পেয়েছিল। সরকার বলে এত গোডাউন পাব কোথায়? সরকার এত বড় বড় প্রজেক্ট করছে, তাহলে কেন প্রতিটি ইউনিয়নে সাইলো করতে পারবে না?

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমালোচনা করে মেনন বলেন, ‘দুদক কী অবস্থায় আছে, আমরা তা জানি। এখন সরকারি কর্মচারীরা দুর্নীতি করলেও অনুমতি ছাড়া তাদের ধরা যাবে না। অথচ প্রাইমারি শিক্ষকদের ধরতে অনুমতি লাগে না দুদকের। এই হচ্ছে দুদকের চেহারা।’

আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড আবুল হোসেন। বক্তব্য দেন সাংবাদিক স্বদেশ রায়, ওয়ার্কার্স পার্টি ঢাকা মহানগর কমিটির নেতা বেনজীর আহমেদ প্রমুখ।

মন্তব্য