kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

উত্তরায় ভ্রাম্যমাণ আদালত

দুই লাখ টাকা জরিমানা মুঘল অ্যারোমাকে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ মে, ২০১৯ ০২:২১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দুই লাখ টাকা জরিমানা মুঘল অ্যারোমাকে

অভিজাত রেস্তোরাঁ হিসেবে পরিচিত ‘মুঘল অ্যারোমা’। অবস্থান উত্তরা-১ নম্বর সেক্টরে। চাকচিক্যময় পরিবেশ ভেতরে ও বাইরে। ক্রেতাদের থাকে উপচে পড়া ভিড়। মনোরম পরিবেশে ‘মজাদার’ সব খাবার পরিবেশন করা হয়। কিন্তু সেসব খাবারের সত্যিকার মান কেমন তা উন্মোচিত হয়ে যায় কিচেনে ঢুকতেই। ভ্রাম্যমাণ আদালত গতকাল সোমবার অভিযান চালায় এখানে। রেস্তোরাঁটির রান্নাঘরের পরিবেশ দেখে বিস্মিত হন ম্যাজিস্ট্রেট। পচা-বাসি খাবার বিক্রি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে তিনি রেস্তোরাঁটিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভ্রাম্যমাণ আদালত এই অভিযান চালান। রমজান মাসে ডিএমপির অভিযান জোরদার করা হয়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন হোটেল ও রেস্টুরেন্টে হাজির হচ্ছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। হোটেলগুলোর রান্নাঘরে ঢুকেই অবাক হচ্ছে সবাই। নামকরা হোটেল ও রেস্টুরেন্টে মিলছে নোংরা অস্বস্তিকর পরিবেশ।

ডিএমপির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে গতকাল দুপুরে একটি দল পৌঁছয় উত্তরা এলাকায়। ডিবি ও ক্রাইম বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত পুলিশের দলটি উত্তরা-১ নম্বর সেক্টরে অভিযান শুরু করে। মুঘল অ্যারোমা রেস্টুরেন্টে ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত হতেই স্টাফরা দ্রুত মালপত্র সরানোর চেষ্টা করে। মালিক আলাউদ্দিন আহমেদ তখন উপস্থিত ছিলেন না। অভিযানকালে ম্যানেজারসহ স্টাফরা নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেন ম্যাজিস্ট্রেটকে। সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন তাঁরা। পরে ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশের সহায়তায় রান্নাঘরে ঢুকে দেখতে পান চরম অস্বস্তিকর দৃশ্য। নোংরা মেঝে, মাছি ঘুরছে চারদিকে। ফ্রিজে পচা-বাসি খাবার। একই ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হচ্ছে রান্না করা খাবার ও কাঁচা মাংস। ভ্রাম্যমাণ আদালত ফ্রিজে পচা-বাসি খাবার রাখা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুতের অভিযোগে রেস্তোরাঁটিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করে।

এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত উত্তরা-৩ নম্বর সেক্টরের ‘লা বামাবা’ রেস্টুরেন্টে গিয়ে নোংরা পরিবেশ দেখতে পান। সেখানে জরিমানা করা হয় ৩০ হাজার টাকা। একই এলাকার খাজানা রেস্টুরেন্টকে জরিমানা করা হয় ২০ হাজার টাকা। এ হোটেলে যে লবণ ব্যবহার করা হচ্ছিল তাতে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছিল না।

ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘খাবার পরিবেশনে পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করলেও খাবার প্রস্তুতে তা অনুপস্থিত। পচা-বাসি খাবার নানা কৌশলে টাটকা দেখিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। ভোক্তাদের সঙ্গে রীতিমতো অবিচার করা হচ্ছে। প্রায় প্রতিটি রান্নাঘরে মিলছে নোংরা পরিবেশ। খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল ও পচা-বাসি খাবার পরিবেশন প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা