kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

বালিশকাণ্ডে সরকারি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিলের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ মে, ২০১৯ ১৭:৫৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বালিশকাণ্ডে সরকারি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিলের নির্দেশ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে আবাসন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে করা রিট আবেদনের ওপর শুনানি মূলতবি করেছেন হাইকোর্ট। তবে ওই অভিযোগ তদন্তে গঠিত সরকারের দুটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঈদের ছুটি শেষে আদালত খোলার এক সপ্তাহের মধ্যে এই রিপোর্ট দাখিল করতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার এ আদেশ দেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের করা এক রিট আবেদনে এ আদেশ দেওয়া হয়। আজ আদালতে তিনি নিজেই শুনানি করেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন রিট আবেদনের বক্তব্য উপস্থাপনের পর অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য শোনেন আদালত। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশের পর মন্ত্রণালয় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এই কমিটিকে সাতদিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। এই রিপোর্ট আসার পর আদালত সিদ্ধান্ত নিলে সেটাই যথাযথ হবে। এরপর আদালত আদেশ দেন।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গ্রিনসিটি প্রকল্পের ২০ ও ১৬ তলা ভবনের ১১০টি ফ্ল্যাটের জন্য অস্বাভাবিক মূল্যে আসবাবপত্র কেনা ও তা ভবনে উঠানোর খরচ দেখানোর ঘটনা ঘটেছে। এনিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হবার পর বিষয়টি তদন্তের জন্য দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। 

গত ১৬ মে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের থাকার জন্য গ্রিন সিটি আবাসন পল্লীতে ২০ তলা ১১টি ও ১৬ তলা ৮টি ভবন হচ্ছে। এরই মধ্যে ২০ তলা আটটি ও ১৬ তলা একটি ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য একটি বৈদ্যুতিক চুলার দাম ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৭শ ৪৭ টাকা এবং তা ভবনে তুলতে খরচ ধরা হয়েছে ৬ হাজার ৬শ ৫০ টাকা, একটি বালিশের দাম ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৯ ম ৫৭ টাকা এবং তা ভবনে তুলতে খরচ ধরা হয়েছে ৭শ ৩০ টাকা। একটি বৈদ্যুতিক কেটলির দাম ৫ হাজার ৩শ ১৩ টাকা যা তুলতে খরচ দেখানো হয়েছে ২ হাজার ৯শ ৪৫ টাকা। একটি টিভির দাম ধরা হয়েছে ৮৬ হাজার ৯শ ৭০ টাকা তা ভবনে তুলতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭ হাজার ৬শ ৩৮ টাকা, এই টিভি রাখার কেবিনেটের দাম ধরা হয়েছে ৫২ হাজার ৩শ ৭৮ টাকা। এভাবে বিভিন্ন পণ্য ও তা ভবনে তুলতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রতিবেদন যুক্ত করে রিট আবেদন করেন ব্যারিস্টার সুমন।

পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশেল পর রবিবার গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ইফতেখার হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ডেলিগেটেড ওয়ার্ক হিসেবে গণপূর্ত অধিদপ্তর নির্মাণাধীন ৬টি ভবনে আসবাবপত্রসহ অন্য আনুষঙ্গিক কাজের জন্য দাপ্তরিক প্রাক্কলন প্রণয়নপূর্বক ৬টি প্যাকেজে ই-জিপিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্যাকেজ সমূহের প্রতিটির ক্রয়মূল্য ৩০ কোটি টাকার নিম্নে প্রাক্কলন করায় গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদন ও ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়। এক্ষেত্রে দাপ্তরিক প্রাক্কলন প্রণয়ন, অনুমোদন ও ঠিকাদার নিয়োগে মন্ত্রণালয়ের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে একজন অতিরিক্ত সচিব এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে একজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে আলাদা দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের পেমেন্ট বন্ধ রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, আলোচ্য কাজের বিপরীতে এখনো ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে বিল পরিশোধ করা হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের আলোকে বাজার মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিল পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা