kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

বারিধারায় এটিএম বুথ হত্যাকাণ্ড

বিয়ে ভেঙে দেওয়ায় হত্যা করল সহকর্মী!

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ মে, ২০১৯ ২৩:০১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিয়ে ভেঙে দেওয়ায় হত্যা করল সহকর্মী!

গ্রেপ্তার কফিল। ছবি: কালের কণ্ঠ

রাজধানীর বারিধারার জে ব্লকে যমুনা ব্যাংকের এটিএম বুথে নিরাপত্তাকর্মী মোহাম্মদ শামীম হত্যা রহস্য প্রায় চার মাস পর উন্মোচিত হয়েছে। হত্যাকারী আর হত্যার শিকার দুজনই এলিট ফোর্স সিকিউরিটি কম্পানির কর্মী এবং একই এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এ ঘটনায় নিহতের সহকর্মী কফিলকে গ্রেপ্তার করেছে, যে অকপটে হত্যার বর্ণনা দিয়েছে। জবানবন্দি মতে- বদনাম করে বিয়ে ভেঙে দেওয়া, পাওনা টাকা ফেরত না দেওয়া এবং কম্পানির তত্ত্বাবধায়কের কাছে অভিযোগ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে কফিল একাই হাতুড়ি-রডের আঘাতে হত্যা করে শামীমকে।

পিবিআই কর্মকর্তারা জানান, গত বুধবার (১৫ মে) কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ি উপজেলার পূর্বধনিরামের গ্রামের বাড়ি থেকে কফিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত শুক্রবার ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে কফিল ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

গত ২১ জানুয়ারি ভোরে রাজধানীর প্রগতি সরণির বারিধারার জে ব্লকে ২৬ নম্বর ভবনে যমুনা ব্যাংকের এটিএম বুথে নিরাপত্তাকর্মী শামীমের লাশ পাওয়া যায়। পূর্বধনিরাম গ্রামের ধনে মাহমুদের ছেলে শামীম ছয়-সাত বছর ধরে এলিট ফোর্সের কর্মী ছিলেন।

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ভাটারা থানায় হত্যা মামলা করেন। অভিযোগের সূত্র ধরে থানা পুলিশ তদন্ত করছিল। গত ১৫ মার্চ মামলাটি ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর আদালতের নির্দেশে গত ৩ এপ্রিল পিবিআই-এর ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ মামলাটির তদন্ত শুরু করে।

পিবিআই ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করে এই হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হয়েছে।

কফিলের জবানবন্দি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে নিজ গ্রামের ছেলে কফিলকে ঢাকায় এনে শামীমই চাকরি দেয়। তখন সুবাস্তু নজরভেলি টাওয়ারের সামনে শামীমের বাসায়ই থাকতো কফিল। পরে নয়ানগর মুন্সিবাড়ি এলাকার মেসে ওঠে সে। মেসের কাছের চায়ের দোকানদার সাবিনার বোনের সঙ্গে কফিলের পরিচয়ের সূত্রে বিয়ের কথা হয়। ওই সময়ে শামীমকে দুই হাজার টাকা ধার দিয়েছিল কফিল যা ফেরত দিচ্ছিল না সে। 

এ ছাড়া সাবিনার স্বামীর কাছেও শামীম বলে যে কফিলের আর্থিক অবস্থা ও চরিত্র ভালো নয়। এতে সাবিনা তার বোনের সঙ্গে কফিলের বিয়ে ভেঙে দেয়। এসব ঘটনায় শামীমকে হত্যার পরিকল্পনা করে কফিল এবং ঘটনার তিন দিন আগে নতুনবাজার থেকে হাতুড়ি, সাদা প্যান্ট, জ্যাকেট এবং মুখোশ কিনে একটি ব্যাগে লুকিয়ে রাখে।

গত ২০ জানুয়ারি রাতে গুলশান ২ নম্বরে ইউসিবি বুথে দায়িত্ব পালন শেষে রাতে বারিধারায় জে ব্লকে শামীমের কর্মস্থলের কাছে দায়িত্ব পালন করতে যায় কফিল। ভোরে (২১ জানুয়ারি) সেখানে পোশাক পাল্টে মুখোশ পরে সে যমুনা ব্যাংকের বুথে গিয়ে ঘুমন্ত শামীমের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে। এ সময় বুথের সিসি ক্যামেরাও ভেঙে ফেলে সে। শামীমকে হত্যার পর ফের নিজ বুথে এসে পোশাক পাল্টে ইউনিফর্ম পরে এবং হত্যায় ব্যবহৃত পোশাক ও অস্ত্র ব্যাগে লুকিয়ে রাখে। পরে শামীমের লাশ উদ্ধারের খবর শুনে কফিল স্বাভাবিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে। এমনকি শামীমের লাশ ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামে নিয়ে যাওয়ার জন্য তার পরিবারকে সে সহায়তাও করে।  

মন্তব্য