kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

ওয়াসার এমডিকে হাইকোর্ট

বাসা পর্যন্ত নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়া আপনার দায়িত্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ মে, ২০১৯ ১৯:২১ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বাসা পর্যন্ত নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়া আপনার দায়িত্ব

ওয়াসার এমডিকে উদ্দেশ্য করে হাইকোর্টে বলেন, ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বলেছেন যে শতকরা একশভাগ পিওর পানি উৎপাদন করেন। এটা যেমন সত্য কথা, তেমনি এটাও ঠিক যে আপনার (ওয়াসার এমডি) দায়িত্ব বাসা পর্যন্ত পিওর ও নিরাপদ পানি পৌঁছানো। কারণ আপনার সংস্থার নাম ওয়াসা।

বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর আদালত উল্লেখিত মন্তব্য করেন। এসময় আদালতে ওয়াসার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন এম মাসুম এবং রিট আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন মো. তানভির আহমেদ।

হাইকোর্টে দাখিল করা ওয়াসার ব্যবস্থাপনার পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী তাকসিম এ খান স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঢাকা ওয়াসার ১০টি জোনের ৫৯টি এলাকায় ময়লা পানি পাওয়ার প্রবণতা বেশি। গত তিনমাসে ওয়াসার হটলাইনের মাধ্যমে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে পাওয়া ২৯২টি অভিযোগের ভিত্তিতে এই তালিকা করা হয়েছে বলে ওয়াসার এমডির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রতিবেদন গতকাল হাইকোর্টে উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। এর আগে গত ১৩ মে ওয়াসার এমডি তার প্রতিবেদন পাঠান হাইকোর্টের নির্দেশে ওয়াসার পানি পরীক্ষার জন্য গঠিত কমিটির আহ্বায়কের কাছে। কমিটির আহ্বায়ক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পাস) মো. জহিরুল ইসলাম ওয়াসার এমডির এই প্রতিবেদন হাইকোর্টে উপস্থাপনের জন্য পাঠিয়ে দেন। 

এদিকে ওয়াসার পানি পরীক্ষা সংক্রান্ত খরচ ও পরীক্ষা পদ্ধতি বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাবিতা রিজওয়ানা রহমানের বক্তব্য জানতে আগামী ২১ মে তাঁকে আদালতে উপস্থিত হতে অনুরোধ জানিয়েছেন হাইকোর্ট। 

প্রতিবেদন উপস্থাপন করে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতকে বলেন, এই ১০টি জোনের ময়লা পানি প্রবণ এলাকা থেকে ৩৫৫টি নমুনা সংগ্রহ করা হবে। এরপর তা তিনটি ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হবে। ফলে মোট নমুনার সংখ্যা দাঁড়াবে ১০৬৫টি। এই ১০৬৫টি নমুনা থেকে রোগজীবাণু ও ভৌত রাসায়ণিক সংক্রান্ত পরীক্ষা করতে খরচ হবে ৭৫ লাখ ৬১ হাজার পাঁচশ টাকা।

এ সময় আদালত বলেন, এই বাজেট দেখে মনে হচ্ছে ওরা পানি বিশুদ্ধ করে আমাদের খাওয়াবে। আদালত বলেন, আমরা মনে করেছিলাম, ওয়াসার ১১টি জোন থেকে ২২টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করলেই হবে। আমরা মনে করি যে, ২৯২টি অভিযোগের মধ্যে কয়েকটি পরীক্ষা করলেই প্রমাণিত হবে। আমরা সাধারণ জ্ঞান থেকে বিষয়টি চিন্তা করছি। আদালত বলেন, এই প্রতিবেদন দেখে বোঝা যাচ্ছে না যে একই নমুনা আলাদা আলাদা ল্যাবে পরীক্ষা করা হবে কীনা। তবে এটাও ঠিক যে আমরা টেকনিক্যাল বিষয়টি জানি না। তাই বিশেষজ্ঞদের মতামত জানা দরকার। এরপরই আদেশ দেওয়া যথাযথ হবে। 

এ সময় রিট আবেদনকারী আইনজীবী তানভির আহমেদ বলেন, ওয়াসার এমডির স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনেই বলা হচ্ছে ৫৯টি এলাকার পানি ময়লা। তাহলে উনি কিভাবে বলেন যে, ওয়াসার পানি শতভাগ পিওর। যারা ওয়াসার পানি নিয়ে প্রতিবাদ করেছেন তাদের হয়রানি করা হচ্ছে। তাই আশংকা করছি, পানি পরীক্ষা কমিটির ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারেন। একারণে হয়তো কমিটি সঠিক প্রতিবেদন দিতে পারবে না। তাই ওয়াসার এমডি যাতে কমিটির ওপর কোনো প্রভাব বিস্তার করতে না পারেন সেজন্য আদেশ চাচ্ছি। 

পরে আদালত বলেন, এই মুহূর্তে আদেশ দিচ্ছি না। তাছাড়া আমরা মনে করিনা যে কমিটির ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন। কারণ কমিটির সদস্যরা সমাজে সম্মানিত ব্যক্তি।

এরপর আদালত আগামী ২১ মে সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাবির অনুজীব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সাবিতা রিজওয়ানা রহমানকে আদালতে উপস্থিত হতে অনুরোধ জানিয়ে আদেশ দেন। আদালত বলেন, তবে ওই সময় যদি তার কোনো কাজ থাকে তবে বিকেলে আসলেও হবে।

গতবছর ৬ নভেম্বর হাইকোর্টের দেওয়া এক নির্দেশে ঢাকা ওয়াসার পানি পরীক্ষার জন্য চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়, বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এবং আইসিডিডিআরবি’র প্রতিনিধির সমন্বয়ে এ কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির নামের তালিকা গত ১৮ এপ্রিল অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে পাঠায় মন্ত্রণালয়। 

এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মোহাম্মাদ সাঈদ-উদ-রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘নমুনা সংগ্রহ করে তার নির্দিষ্ট পরীক্ষার পর বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন তৈরি করতে একটি তহবিলের পাশাপাশি ল্যাবরেটরিসহ ঢাকা ওয়াসার সামগ্রিক প্রচেষ্টা দরকার। এসব কাজের জন্য যদি তহবিল গঠনও করা হয় এবং বিরতিহীনভাবে ওয়াসার তিনটি ল্যাবরেটরিতে একযোগে কাজ করলে এ প্রতিবেদন তৈরি করতে কমপক্ষে চার মাস সময় প্রয়োজন।’ 

এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানান, কমিটি একটি কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করেছে। তা আদালতে উপস্থাপনের জন্য সময় দরকার। এরই ধারাবাহিকতায় আদালত পানি পরীক্ষার জন্য কত টাকা প্রয়োজন তা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চান। একারণে মন্ত্রণালয় খরচের পরিমাণ উল্লেখ করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন পাঠায়। 

ওয়াসার এমডি স্বাক্ষরিত ময়লা পানি প্রবণ এলাকার তালিকা

মডস জোন-১: যাত্রাবাড়ি, বাসাবো, মুগদা, রাজারবাগ, কুসুমবাগ, জুরাইন, মানিকনগর, মান্ডা, ধোলাইপাড় ও মাতুয়াইল। 

মডস জোন-২: ভাগলপুর, লালবাগ, বকশীবাজার ও শহীদনগর।

মডস জোন-৩: জিগাতলা, ধানমন্ডি, শুক্রাবাদ, কলাবাগান, ভুতেরগলি ও মোহাম্মদপুর।

মডস জোন-৪ শেওড়াপাড়া, পীরেরবাগ, মনিপুর পাইকপাড়া, কাজীপাড়া ও মিরপুর।

মডস জোন-৫: মহাখালী ও তেজগাঁও।

মডস জোন-৬: সিদ্ধেশ্বরী, শাহজাহানপুর, খিলগাঁও, মগবাজার, নয়াটোলা, রামপুরা, মালিবাগ ও পরীবাগ।

মডস জোন-৭: কদমতলী, ধনিয়া, শ্যামপুর, রসুলবাগ, মেরাজনগর, পাটেরবাগ, শনিরআখড়া, কোনাপাড়া ও মুসলিম নগর।

মডস জোন-৮: বাড্ডা, আফতাবনগর ও ভাটারাসহ চারটি এলাকা।

মডস জোন-৯: উত্তরা, খিলক্ষেত, ফায়েদাবাদ, মোল্লারটেক ও রানাভোলা।

মডস জোন-১০: কাফরুল, কাজীপাড়া, মিরপুর, কচুক্ষেত ও পল্লবী। 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা