kalerkantho

কৃত্রিম পায়ে রাসেল ফিরে গেলেন বাসায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ১৮:৫৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কৃত্রিম পায়ে রাসেল ফিরে গেলেন বাসায়

চার সপ্তাহ লাগেনি, এক সপ্তাহেই কৃত্রিম পা লাগিয়ে সিআরপি থেকে রাজধানীর বাসায় ফিরেছেন রাসেল।

সাভারে পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্রের (সিআরপি) দেওয়া কৃত্রিম পা সংযোজনের পর স্বাভাবিক চলাফেরা করছিলেন তিনি। রাজধানীতে গ্রিন লাইন বাসের চাপায় পা হারানো রাসেল সরকার। বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিকে সিআরপি থেকে বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন তিনি। 

রাসেল জানান, প্রথমে তিনি ঢাকার বাসায় যাবেন। তারপর সেখান থেকে তিনি নিজ গ্রাম গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়িতে ফিরবেন। এর আগে গত ১৮ এপ্রিল সকালে সিআরপির অঙ্গ সংযোজন বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ শফিক রাসেলের কৃত্রিম পা সংযোজন করেন।

মোহাম্মদ শফিক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা রাসেলকে চার সপ্তাহের পর্যবেক্ষণে রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্ত রাসেল অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত ও পরিশ্রমি ব্যক্তি। তিনি চার সপ্তাহের অনুশীলন মাত্র এক সপ্তাহে শেষ করেছেন। তিনি এখন সম্পূর্ণভাবে স্বাভাবিক মানুষের মতো চলাফেরা করতে পারছেন। রাসেল যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন সিআরপির পক্ষ থেকে তার পায়ের যাবতীয় চিকিৎসা বিনামূল্যে প্রদান করা হবে। তবে সেক্ষেত্রে একদিন আগে সিআরপিকে তার অভিহিত করতে হবে। এমনকি রাসেল যদি ব্যবসা করেন সেক্ষেত্রেও তাকে আর্থিক সহযোগিতা করবে সিআরপি।’

যাওয়ার আগে রাসেল বলেন, ‘আমি সিআরপির কাছে কৃতজ্ঞ। সিআরপি ছাড়া মনে হয় আমার আর হাঁটা-চলা সম্ভব হতো না। ধন্যবাদ সিআরপি ও এই সংস্থার সব কর্মকর্তা কর্মচারীদের।’ তিনি বলেন, ‘গ্রিন লাইন আমাকে পঙ্গু করে দিয়েছে। তাদের কাছেও আমার খোঁজ রাখার দাবি জানাই। সিআরপির মতো যেন তারাও আমার পাশে থাকেন।’

গাইবান্ধার পলাশবাড়ি এলাকার বাসিন্দা রাসেল সরকার দালাদের মাধ্যমে মালোয়েশিয়া গিয়ে সর্বশান্ত হয়ে দেশে ফিরে রাজধানীর আদাবর এলাকায় স্থানীয় একটি ‘রেন্ট-এ-কার’ প্রতিষ্ঠানের প্রাইভেটকার চালাতেন। ২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারে কথা কাটাকাটির জের ধরে গ্রিন লাইন পরিবহনের বাসের চালক ক্ষিপ্ত হয়ে রাসেলকে চাপা দেয়। এতে তার বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

মন্তব্য