kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

১৫ আগস্টের শহীদদের পাশে সমাহিত জায়ান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ০৮:৫৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১৫ আগস্টের শহীদদের পাশে সমাহিত জায়ান

শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলায় নিহত শিশু জায়ান চৌধুরীকে সমাহিত করা হলো ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে শহীদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের কবরের পাশেই। বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদ ১৮ জনের কবরের পাশে এত দিন একটি কবরের জায়গা ফাঁকা ছিল। এই কবরটিতেই গতকাল বিকেলে বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাতি জায়ানকে দাফন করা হয়।

প্রিয় জায়ানকে শেষবারের মতো দেখতে দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বনানীতে তাঁর ফুফাতো ভাই শেখ ফজলুল করিম সেলিমের বাসায় যান। প্রধানমন্ত্রী বনানীর ২/এ সড়কের ৯ নম্বর বাড়িটিতে প্রবেশের পর সেখানে এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শেখ সেলিম, জায়ানের দাদা মতিনুল হক পারুল চৌধুরীসহ উপস্থিত স্বজনদের অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রধানমন্ত্রী জায়ানের দাদার হাত ধরে তাঁকে সান্ত্বনা দেন। প্রধানমন্ত্রী বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে শেখ সেলিমের বাসা থেকে বেরিয়ে আসেন।

বিকেল ৫টার দিকে জায়ানের মরদেহ চেয়ারম্যানবাড়ি মাঠে আনা হয়। বাদ আসর জায়ানের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলামসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় বেশ কয়েকজন নেতা, মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন সদস্যসহ বহু মানুষ।

জানাজার আগে শেখ সেলিম এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সমবেতদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের ভালোবাসায় আমরা অনেক শক্তি পাচ্ছি। শোক কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করছি। আপনারা জায়ানের বাবার জন্য দোয়া করবেন। সে শ্রীলঙ্কার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।’

শেখ সেলিম বলেন, ‘জায়ানকে ১৫ আগস্টের শহীদদের কবরের পাশে সমাহিত করা হচ্ছে। ৪৪ বছর ধরে ওখানে একটি কবরের জায়গা ফাঁকা ছিল। কেউ বিষয়টি খেয়াল করেনি এত দিন। জায়ান ভাগ্যবান, সে ১৫ আগস্টের শহীদদের পাশে সমাহিত হচ্ছে।’

জানাজা শেষে জায়ানের মরদেহ বনানী কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সমাহিত করার পর বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

এর আগে গতকাল দুপুর পৌনে ১টায় জায়ানের মরদেহ শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের একটি বিমানে ঢাকায় পৌঁছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জায়ানের লাশ গ্রহণ করেন তার নানা শেখ সেলিম। সেখান থেকে মরদেহ সরাসরি বনানী ২ নম্বর রোডে শেখ সেলিমের বাড়িতে নেওয়া হয়।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি শেখ সেলিমের মেয়ে শেখ আমেনা সুলতানা সোনিয়া তাঁর স্বামী মশিউল হক প্রিন্স ও দুই ছেলেকে নিয়ে শ্রীলঙ্কায় বেড়াতে যান। সেখানে গত ২১ এপ্রিল এক বোমা হামলায় নিহত হয় জায়ান, গুরুতর আহত হন জায়ানের বাবা। বর্তমানে তিনি শ্রীলঙ্কায় একটি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

মন্তব্য