kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

মুন্সীগঞ্জে শাহিন হত্যা

৭ জনের যাবজ্জীবন, ১৬ জন খালাস

আদালত প্রতিবেদক   

২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০৩:১২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৭ জনের যাবজ্জীবন, ১৬ জন খালাস

পূর্বশত্রুতার জেরে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর থানাধীন আলামিন বাজারে শাহিন হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া একই রায়ে ১৬ জন বেকসুর খালাস পেয়েছেন। 

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক মনির কামাল মামলার রায় ঘোষণা করেন। 

দণ্ডিতরা হলো সোহেল চৌকিদার, এমারত চৌকিদার, আওলাদ চৌকিদার, মো. বাঁধন, রনি কাজী, রাজা খাঁ ও মাসুদ তালুকদার। 

যাবজ্জীবন দণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে অতিরিক্ত দুই মাস বিনাশ্রম কারাভোগ করতে হবে।

দণ্ডিত রাজা খাঁ বাদে পলাতকদের আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আসামিরা আদালতে আত্মসমর্পণ করলে অথবা গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে দণ্ড কার্যকর হবে বলে রায়ের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় খালাস পাওয়া ব্যক্তিরা হচ্ছেন রনি সিকদার ওরফে কানা রনি, জসীম ওরফে চৌরা জসিম, মুক্তার হাওলাদার, আমজাদ হোসেন, জহুরুল কাজী, শাহীন চৌকিদার, সাব্বির শেখ, শাকিল শেখ, রাসেল হাওলাদার, মিঠু হাওলাদার (মিঠু), জুয়েল মোল্লা, সেতু মোল্ল¬া, রুবেল মৃধা, ভুট্টু চৌকিদার, বাবু খাঁ ও রিমন খাঁ।

এদের মধ্যে প্রথম আটজন পলাতক। অন্যরা আদালতে হাজির ছিলেন। খালাসপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকলে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খালাস পাওয়া পলাতকদের বিরুদ্ধে আগে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রিকল করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বিবরণে প্রকাশ, বিচার চলাকালে চার্জশিটের ২৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। গত বছরের ৭ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুন্সীগঞ্জ সিআইডির পরিদর্শক আবদুর রহিম ২৩ জনকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করেন।  

চার্জশিটে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের ৬ মার্চ ঢাকা থেকে দোহারগামী আরাম পরিবহনের বাসে করে শ্রীনগরের বাড়িতে যাচ্ছিলেন শাহিন। ওই সময় শ্রীনগর থানার আলামিন বাজার বাসস্ট্যান্ডের পূর্ব পাশের ব্রিজে ওত পেতে ছিল আসামিরা। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সেখানে এলে তারা বাসটি থামিয়ে ভেতরে ঢুকে শাহিনকে খুঁজে বের করে।

পূর্বশত্রুতার জেরে সোহেল পিস্তল দিয়ে শাহিনের বুকের বাঁ দিকে, রাজা বুকের ডান পাশে, রাসেল পেটে আর বাঁধন বাঁ পায়ের হাঁটুর ওপরে গুলি করে মারাত্মক জখম করে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে ভুট্টু, রনি ও আওলাদ রামদা দিয়ে শাহিনকে এলোপাতাড়ি কোপায় এ সময়। এরপর ফাঁকা গুলি করতে করতে আসামিরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এলাকার লোকজন শাহিনকে উদ্ধার করে ফুলতলা রাজ্জাক হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিত্সাধীন অবস্থায় শাহিন মারা যান।

ওই ঘটনায় শাহিনের ফুফু কানন বেগম শ্রীনগর থানায় একই বছরের ১১ মার্চ ২৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাটি করেন। 

মন্তব্য