kalerkantho

দর-কষাকষি আওয়ামী লীগের দৃষ্টান্ত : রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০৩:০২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দর-কষাকষি আওয়ামী লীগের দৃষ্টান্ত : রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে দর-কষাকষি বাজে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আরেক নেতা বলেছেন, ৩০ এপ্রিলের মধ্যে জানা যাবে বিএনপি থাকবে কী থাকবে না। আওয়ামী নেতাদের উদ্দেশে আমি বলতে চাই, খালেদা জিয়া আপসহীন নেত্রী হিসেবেই জনগণের কাছে প্রতিষ্ঠিত। তিনি কখনোই কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি, কোনো স্বৈরাচারের কাছেই আত্মসমর্পণ করেননি। দর-কষাকষির দৃষ্টান্ত কার আছে সেটি আওয়ামী নেতারা নিজেরাই জানেন, আর না জানলে আপনাদের নেত্রীকে জিজ্ঞেস করুন। সরকারি দলের উদ্দেশে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী এসব কথা বলেন।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাতকে (নুসরাত জাহান রাফি) নিপীড়ন চালিয়ে তার মুখ বন্ধ করতে গায়ে আগুন দিয়ে বর্বর কায়দায় হত্যার ঘটনায় সেখানকার আওয়ামী লীগের মিডনাইট এমপি, আওয়ামী লীগের স্থানীয় সভাপতি থেকে শুরু করে বড় বড় নেতারা জড়িত। তাঁদের সঙ্গে সহযোগিতা করেছে এসপি থেকে থানার ওসি পর্যন্ত। ফলে তাঁদের এমপি-নেতা ও পুলিশ প্রশাসনকে জনরোষ থেকে বাঁচানোর জন্য ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। সোনাগাজীর ঘটনার মতোই ক্ষমতাসীন দলের বেপরোয়া নেতাকর্মীরা গোটা দেশকে ধর্ষণের উপত্যকায় পরিণত করেছে।’

তিনি বলেন, সারা দেশে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা নারীর প্রতি সহিংসতায় ইতিহাসে সর্বকালের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। নারী নিপীড়ন ও খুন তাদের (ক্ষমতাসীন দল) অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ১৯৭২-৭৫ এর চাইতেও এখন দেশের অবস্থা ভয়াবহ। প্রতিদিন একটির পর একটি লোম শিউরে ওঠার মতো ঘটনা ঘটলেও গণবিচ্ছিন্ন এই সরকারের কোনো বিকার নেই। 

তিনি বলেন, পিজি হাসপাতালে শেখ হাসিনার নির্দেশ মতোই তাঁকে (বেগম জিয়াকে) কষ্ট দেওয়া হচ্ছে। তিনি মুক্তি পেয়ে নিজের পছন্দ মতো হাসপাতালে চিকিত্সা নেবেন। 

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় মৃত্যদণ্ডপ্রাপ্ত কারাবন্দি দলের নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবর গুরুতর অসুস্থ উল্লেখ করে রিজভী বলেন, বাবর সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে ভীষণ অসু্স্থ। কয়েক দিন আগে তাঁকে চিকিত্সার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও যথাযথ চিকিত্সা না দিয়ে পুনরায় কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়। এটা অমানবিকতা ছাড়া আর কিছুই নয়। বাবরকে সুচিকিত্সা দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। একই ভাবে গুরুতর অসুস্থ যুবদলের কারাবন্দি সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর সুচিকিত্সাসহ বন্দি নেতা সৈয়দ মেহেদি আহমেদ রুমী, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, হাবিব উন নবী খান সোহেল, আসলাম চৌধুরী, ফজলুল হক মিলন, মীর সরফত আলী সপু, সোহরাব উদ্দিন, শহিদুল ইসলাম বাবুল, শেখ রবিউল ইসলাম, শেখ মোহাম্মদ শামীম, হযরত আলী, মিয়া নুরউদ্দিন অপু ও ইসহাক সরকারের মুক্তির দাবিও জানান রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে দলের নেতা নাজমুল হক নান্নু, অধ্যাপিকা সাহিদা রফিক, আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য