kalerkantho

চড়া দাম মাছ ও সবজির

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০৯:২৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চড়া দাম মাছ ও সবজির

কারওয়ান বাজারে সিটি করপোরেশনের তৈরি করা শেডের নিচে বসে শজনে ও বরবটি বিক্রি করছিলেন হামিদুর মিয়া। তাঁর দোকানে প্রতি কেজি শজনের দাম ৬০ টাকা আর বরবটি ৩০ টাকা। তাঁর বসার স্থান থেকে পাঁচ-ছয় গজ দুরেই খুচরা বাজার। গতকাল সোমবার সেখানে প্রতি কেজি শজনে ৮০ টাকা আর বরবটি ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল।

গতকাল এমন চিত্র ছিল ঢাকার প্রায় সব খুচরা বাজারেই। ফড়িয়ারা প্রতি কেজি বেগুন ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি করলেও খুচরা বাজারে তা বিক্রি হয়েছে ৫৫-৬০ টাকায়।

পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই মৌসুমে সবজির উৎপাদন কম হওয়ায় সরবরাহ কিছু কমে যায়। এতে দামও চড়া থাকে।

তবে কারওয়ান বাজারে সবজির পাইকারি বিক্রেতা কামাল হোসেন বলেন, ‘বেশির ভাগ সবজিই খুচরা বাজারে পাইকারি বাজারের চেয়ে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে আমাদের কিছু করার নেই।’ তবে তিনি স্বীকার করেন, সবজির দাম এখন বেশ চড়া।

রাজধানীর কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে প্রতি কেজি ৬০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যায়নি। অনেক সবজি বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে। মাস দুয়েক ধরে সবজির মতোই চড়া মাছের দামও। প্রতি কেজি ৩৫০-৪০০ টাকায় যেসব মাছ পাওয়া যেত তা কিনতে এখন লাগছে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা।

গতকাল ঢাকার খুচরা বাজারগুলোতে ৫০০-৬০০ টাকার নিচে কোনো টেংরা মাছ বিক্রি হতে দেখা যায়নি। অথচ সচরাচর ৪০০-৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হয় ওই মাছ। প্রতি কেজি পাবদা মাছ ৫০-১০০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছিল ৫৫০-৬০০ টাকায়। ২২০-২৫০ টাকা দরের কাচকি মাছ বিক্রি হচ্ছিল ৩০০-৩৫০ টাকায়। ১১০-১২০ টাকা দরের তেলাপিয়া কিনতে হয় ১৫০ টাকায়। রুই মাছের দাম কেজিপ্রতি ৩০-৫০ টাকা বেশি।

রামপুরা কাঁচাবাজারের মাছ বিক্রেতা অমিনুল ইসলাম জানান, মাংসের দাম বাড়ায় মাছের ওপর চাপ বেড়েছে। এ ছাড়া সরবরাহও কিছুটা কম। সে কারণে দাম বেড়েছে।

এদিকে গরুর মাংসের দাম দিন দশেক আগেই হঠাৎ বেড়ে ৫৫০ টাকায় স্থির হয়েছে। গরুর মাংসের বেশির ভাগ দোকানে দামের তালিকা টানিয়ে রাখতে দেখা গেছে। মাংসের দাম বাড়ার পেছনে পথে পথে চাঁদাবাজি, অতিরিক্ত খাজনা আদায়সহ কয়েকটি কারণকে দায়ী করে আসছে ব্যবসায়ীরা।

গরুর মাংসের দাম বাড়লেও কমেছে ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দাম। ফার্মের মুরগির প্রতি হালি ডিমের দাম ৩২ টাকা। তবে প্রতি ডজন মেলে ৯৫ টাকায়। বিভিন্ন সুপারশপে ডিমের হালি ৩৬ টাকা। এদিকে তিন-চার দিনের ব্যবধানে কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির মাংসের দাম কমেছে ৫-১০ টাকা। দাম আরো কমতে পারে বলেও আভাস দিয়েছে খুচরা বিক্রেতারা। গতকাল দেশি মুরগি ৫০০-৫২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। 

খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩০ টাকায় স্থিতিশীল থাকলেও বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে ঢাকার কিছু পাইকার। কারওয়ান বাজারে পাইকারি বিক্রেতারা দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করছে ২৫-২৬ টাকা কেজি দরে। একই স্থানে কিছু ব্যবসায়ী গতকাল হঠাৎ করে ৩০ টাকা দাম চায়।

কারওয়ান বাজারে কেনাকাটা করতে যাওয়া শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘যারা বাজার অস্থির করার পাঁয়তারা করে তাদের কখনো বিচার হয়নি। একবার ধরে বিচার করলেই সব সোজা হয়ে যাবে।’

রমজান সামনে রেখে তেল, চিনি, ছোলা, ডালের বাজারে অস্থিরতা লক্ষ্য করা যায়নি। বিভিন্ন কম্পানির প্রতি কেজি প্যাকেটজাত চিনি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শুধু চিনি শিল্প করপোরেশনের আখের চিনি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজি দরে। প্রতি কেজি খোলা চিনির দাম ৫৫ টাকা। প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১০৫-১০৬ টাকা। তবে বিভিন্ন কম্পানির দুই লিটারের বোতলজাত তেল সর্বোচ্চ ২১০ টাকা এবং পাঁচ লিটারের বোতল সর্বোচ্চ ৫১০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। প্রতি কেজি ছোলা ৭০ থেকে ৮০ টাকায় এবং দেশি মসুর ডাল ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে আমদানি করা মসুর ডাল ৬০-৬৫ টাকায়ও পাওয়া যায়।

মন্তব্য