kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

ব্ল্যাকমেইল করে বার বার ধর্ষণ

পুলিশ কনস্টেবল বাদলও তাঁকে সাহায্যের কথা বলে ধর্ষণ করে

ওমর ফারুক    

২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০৯:২১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্ল্যাকমেইল করে বার বার ধর্ষণ

প্রতীকী ছবি

শুধু গত ৩১ মার্চই নয়, এর আগেও ব্ল্যাকমেইল করে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া এক তরুণীকে। ফেসবুক ফ্রেন্ডের কাছে বারবার ধর্ষিত হওয়ার পর বিচার চাইতে গিয়ে মেয়েটি ফের ধর্ষিত হয় এক পুলিশ কনস্টেবলের কাছে। এ ঘটনায় পুলিশ কনস্টেবল বাদল হোসেন ও ফেসবুক ফ্রেন্ড জয় ঘোষ ওরফে অর্ক দুজনকেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা বর্তমানে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে। এরই মধ্যে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডও পেয়েছে পুলিশ। দু-এক দিনের মধ্যে তাদের কারাগার থেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, যাত্রাবাড়ী থানার সাব-ইন্সপেক্টর সুব্রত বিশ্বাস।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানীর ওয়ারী এলাকার বাসিন্দা ওই মেয়ের সঙ্গে জয় ঘোষের বছর দেড়েক আগে ফেসবুকে পরিচয় হয় (একই ধর্মের তারা)। ওই সময় জয় ঘোষ বিদেশে থাকত। গত বছর দেশে ফিরে সে ওই তরুণীর সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা জানায়। গত ২৭ সেপ্টেম্বর তারা প্রথমে গুলিস্তান এলাকায় সাক্ষাৎ করে। এরপর ২৬ ডিসেম্বর তরুণীকে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একটি বাড়ির পাঁচ তলায় নিয়ে যায় জয়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করে ভিডিও করে রাখে। এরপর সন্ধ্যায় ভৈরব বাস টার্মিনালে গিয়ে মেয়েটিকে ঢাকার গাড়িতে তুলে দেয়।

কদিন পরই সেই ভিডিও দৃশ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে দেবে বলে মেয়েটিকে ভয় দেখায় জয় ঘোষ। তার কাছ থেকে ভিডিওটি নেওয়ার জন্য মেয়েটি ধরনা দিতে থাকে এবং গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ফকিরাপুল এলাকার বিভিন্ন হোটেলে সে আরো অন্তত ১৫-২০ বার ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারির পর থেকে জয় ঘোষের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় ওই মেয়ে। এ অবস্থায় জয় ঘোষ তরুণীর এক বান্ধবীকে জানায়, যদি ওই তরুণী তার সঙ্গে দেখা না করে তাহলে তার বাবা-মায়ের কাছে সব বলে দেবে। সেই বান্ধবী তাকে পরামর্শ দেয়, শেষবারের মতো জয়কে ম্যানেজ করতে পারে কি না দেখার জন্য। মেয়েটি এরপর ভিডিওটি ফেরত নেওয়ার জন্য আবার উদ্যোগ নেয়। তরুণী গত ৩১ মার্চ সাক্ষাৎ করে জয়ের সঙ্গে। জয় ঘোষ আবারও তাকে শাহবাগ এলাকার একটি বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে। কিন্তু তার চাওয়া সেই ভিডিও ফেরত দেয়নি। বরং এবারের ধর্ষণ দৃশ্য তরুণীর মোবাইল ফোনে ধারণ করে সেটি নিয়ে নেয়। এরপর তরুণীকে গুলিস্তান এলাকায় নামিয়ে দিয়ে চলে যায় জয় ঘোষ।

আর এ সময়ই পুলিশ কনস্টেবল বাদল হোসেন সিভিল ড্রেসে হাজির হয় সেই তরুণীর কাছে। পুলিশ পরিচয় জেনে মেয়েটি তার সহযোগিতা চায়। সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে কনস্টেবল বাদল তাকে যাত্রাবাড়ী থানার দনিয়া এলাকার একটি বাড়ির ছয় তলার ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। সেখানে দুই পুলিশ কনস্টেবল পরিবার নিয়ে বসবাস করে। সেখানে নিয়ে রাতের বেলা তাকে ধর্ষণ করে পুলিশ কনস্টেবল বাদল।

এ ঘটনার খোঁজ নিতে গিয়ে দুই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। ধর্ষিতার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে—পুলিশ পরিচয় জানা সত্ত্বেও যাত্রাবাড়ী থানায় ধর্ষণের মামলার করার সময় এজাহারে বাদলের পুলিশ পরিচয় লেখা হয়নি। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুব্রত বিশ্বাস গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যখন মামলাটি করা হয়েছিল তখন শুধু বাদল হোসেন নামেই করা হয়। পরে তাকে আটকের পর জানা যায় যে সে পুলিশ কনস্টেবল।’ তিনি আরো জানান, দনিয়ার যে বাড়িটিতে মেয়েটিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সেটার মালিক, দারোয়ান ও পুলিশ কনস্টেবলদের সঙ্গে কথা হয়েছে। সবাই জানিয়েছে ৩১ মার্চ রাতে বাদল হোসেন তার স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে ওই বাড়িতে তুলেছিল তরুণীকে। তবে ধর্ষণের শিকার তরুণী সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন, কনস্টেবল বাদল নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়েই তার সঙ্গে কথা বলে। পুলিশ জেনেই তার কাছে সহযোগিতা চেয়েছিল সে। বাদল তাকে বলেছিল দানিয়া এলাকায় দুই পুলিশ আছে। সেই বাসায় গিয়ে জয় ঘোষকে ডেকে আনা হবে। কিন্তু তাকে রাত ১২টার দিকে একটি কক্ষে নিয়ে দরজা লাগিয়ে দেয় বাদল। এ সময় সে চিৎকার করলে তাকে ভয় দেখানো হয়। তার চিৎকার শুনে কেউ এগিয়ে আসেনি বলে তার দাবি।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, বাদল হোসেন ও জয় ঘোষ দুজনের বাড়িই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। ধারণা করা হচ্ছে তারা একে অপরের পরিচিত। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর আমরা সব তথ্য পেয়ে যাব।’

মন্তব্য