kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

‘এক আদেশ দিতে ৭ বছর, মূল মামলা নিষ্পত্তি হবে কবে?’

আশরাফ-উল-আলম    

২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০৮:৪০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘এক আদেশ দিতে ৭ বছর, মূল মামলা নিষ্পত্তি হবে কবে?’

ঢাকার মিরপুর এলাকার সেনপাড়া পর্বতায় ৫.৩০ শতাংশ জমির মালিক এ কে এম মোস্তাক হোসেন লিটন ও তাঁর ভাই এ কে এম নুর-ই ইসলাম। জমিটির ওপর তিনতলা একটি ভবন রয়েছে। ভবনটি চতুর্থ তলা থেকে সপ্তম তলা পর্যন্ত বর্ধিত করতে ডেভেলপার কম্পানি মেন্স বিল্ডার্স লিমিটেডের সঙ্গে দুই ভাই চুক্তি করেন ২০১০ সালের ২৭ অক্টোবর। চুক্তি অনুযায়ী ডেভেলপার কম্পানি ভবনের চতুর্থ তলা থেকে সপ্তম তলা পর্যন্ত শৈল্পিক সৌন্দর্য, প্রাকৃতিক আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে এমন একটি আবাসিক/বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করার কথা। নির্মাণের পর দুই ভাই পাবেন বর্ধিত অংশের

৪০ শতাংশ। আর ডেভেলপার কম্পানি পাবে ৬০ শতাংশ। রাজউক ও অন্যান্য সংস্থার অনুমতি নেবে ডেভেলপার কম্পানি। চুক্তির পর সর্বোচ্চ ১৮ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করবে বলে ডেভেলপার কম্পানির সঙ্গে রেজিস্ট্রি চুক্তি হয়। ওই সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে আরো ছয় মাস সময় বাড়ানো যাবে। একই বছরের ১ ডিসেম্বর দুই ভাই ডেভেলপার কম্পানিকে আমমোক্তারনামা দেন। কিন্তু এক বছরের মধ্যেও কাজ শুরু না করায় ওই দুই ভাই ঢাকার জজ আদালতে চুক্তিপত্র ও আমমোক্তারনামা বাতিল করতে ২০১১ সালের ২৭ অক্টোবর দেওয়ানি মামলা করেন। একই সঙ্গে চুক্তি করে কাজ না করার জন্য ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণও দাবি করেন।

মামলাটি চলাকালে ২০১২ সালের ৯ জানুয়ারি ডেভেলপার কম্পানি যাতে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই বাড়িতে নির্মাণকাজ করতে না পারে এবং আমমোক্তারনামা বলে ওই জায়গা বেদখল করতে না পারে সে জন্য অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হয়। ঢাকার দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালতের তৎকালীন বিচারক ডেভেলপার কম্পানি ও তার চেয়ারম্যান রবিউল হককে ওই সময় কারণ দর্শানোর আদেশ দেন। এরপর সাত বছর পার হলেও ওই নিষেধাজ্ঞার আবেদনের ওপর আর আদেশ হয়নি।

এদিকে মামলা দায়েরের পর ডেভেলপার কম্পানি ঢাকার আরবিট্রেশন আদালতে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের জন্য মামলা করে। কিন্তু চুক্তিপত্র অনুযায়ী যথাসময়ে নির্মাণকাজ শুরু না করায় আদালত ডেভেলপার কম্পানির আবেদন খারিজ করে দেন। কিন্তু দেওয়ানি মামলার শুনানি বা বিচারকাজ শেষ না হওয়ায় বাড়ির মালিক ওই দুই ভাই বাড়ি বর্ধিত করার কাজ করতে পারছেন না।

মামলার নথিতে দেখা যায়, ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে গত সাত বছরে অসংখ্যবার শুনানির তারিখ পড়েছে। বাদী মোস্তাক ও নুর-ই-আলমের আইনজীবী সঞ্জীব চন্দ্র দাস কালের কণ্ঠকে জানান, প্রতিবারই অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আবেদনের ওপর শুনানি করা হয়। তবে আদালত পরে আদেশ দেবেন বলে জানান। কিন্তু পরে আর আদেশ হয় না। প্রতি তারিখেই গিয়ে দেখা যায়, আবার শুনানির জন্য নতুন তারিখ দেওয়া হয়েছে। প্রথম দিকে বিবাদী মেন্স ডেভেলপার কম্পানির চেয়ারম্যানের পক্ষে আইনজীবীরা শুনানিতে অংশ নিতেন। এখন আর তাঁরা শুনানির সময় থাকেন না। কাগুজে হাজিরা দিয়ে চলে যান। নিষেধাজ্ঞার আবেদনের ওপর শুনানি না হওয়ায়, মূল মামলার শুনানিও শুরু করা যাচ্ছে না। দেওয়ানি মামলার বিচারের সব প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে।

বাদী এ কে এম মোস্তাক হোসেন লিটন জানান, তিনি হতাশ। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর মামলার পেছনে সময় দিচ্ছেন তিনি। কিন্তু বিচার পাচ্ছেন না। একদিকে হচ্ছেন হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার। অন্যদিকে আর্থিকভাবেও হচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত। এর থেকে পরিত্রাণ দরকার। তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘এক আদেশ দিতে কেটে গেল সাত বছর, তাহলে মূল মামলা নিষ্পত্তি হবে কবে?’

মন্তব্য