kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

নাগরিক অবস্থান থেকে ধর্ষণবিরোধী রোডমার্চের ঘোষণা

নাগরিক অবস্থান থেকে ধর্ষণবিরোধী রোডমার্চের ঘোষণা    

২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:৪৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নাগরিক অবস্থান থেকে ধর্ষণবিরোধী রোডমার্চের ঘোষণা

ছবি: কালের কণ্ঠ

নুসরাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত সোনাগাজীর ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনসহ সকল অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও পুলিশের ভূমিকার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবিতে শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগে এক নাগরিক অবস্থান পালন করে যৌন নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীজোট। 

ওসি মোয়াজ্জেম ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিনকে বাঁচাতে প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন দলের একটি অংশ তৎপর বলেও সমাবেশ থেকে অভিযোগ করা হয়। সমাবেশ থেকেই রোডমার্চের ঘোষণা দেওয়া হয়।

প্রগতিশীল আন্দোলনকর্মী আকরামুল হক বলেন, এক দুজন সদস্যের কারণে পুরো পুলিশ প্রশাসনের বদনাম কখনো কাম্য নয়। তড়িৎ গতিতে নুসরাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে আইনের শাসন নিশ্চিত করা হোক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর সোনিয়া আমিন প্রশাসনের ভেতরে থাকা ধর্ষক খুনিদের আশ্রয় দাতাদের খুঁজে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। বিচারহীনতার রাষ্ট্র থেকে উত্তরণের জন্য আইনের শাসন সুনিশ্চিত করাই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন।

প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ও গবেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মেজবাহ কামাল যৌন নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীজোটের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করে সরকারকে নির্মোহ থেকে বিচারকাজ পরিচালনার তাগিদ দেন। নুসরাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ বিএনপি জামাতের যে ঐক্য তার নিন্দা করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দলের কাছ থেকে এ ধরনের কাজ অপ্রত্যাশিত বলেও জানান তিনি।

যৌন নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীজোটের আহবায়ক শিবলী হাসান বলেন, পুলিশ বাহিনী যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন না করার কারণে দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করছে। পুলিশ প্রশাসনকে জবাবদিহিতার আওতায় না আনলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব না। পুলিশের বিরুদ্ধে যেহেতু সরাসরি অভিযোগ তাই পুলিশের তদন্ত কখনো সেখানে গ্রহণযোগ্য সমাধান হতে পারে না। ফেনীর পুলিশ সুপার লিখিতভাবে অভিযুক্ত ওসির পক্ষ কিভাবে নেন সেই প্রশ্ন তুলেন তিনি।

তিনি বলেন, পুলিশের এ তদন্ত কতোটুকু কার্যকরী হবে সেই ব্যাপারে অনিশ্চত, তাই নুসরাত হত্যাকাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আমরা বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করছি। তিনি আরো বলেন, নারী নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনা যখন পুলিশের কাছে যায় তখন তদন্ত কর্মকর্তা নিপীড়কের পক্ষ নেয় তাই বিচার পাওয়া দুরূহ হয়ে যায়। এই অবস্থা থেকে দ্রুত উত্তরণ না ঘটাতে পারলে এই সমাজ বা দেশকে রক্ষা করা সম্ভব নয়। সবশেষে তিনি ঢাকা থেকে সোনাগাজীতে খুব শিগগিরই রোডমার্চের ঘোষণা দেন এবং পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী ধর্ষণবিরোধী এই রোডমার্চ ও র‍্যালি চলবে বলে জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে সংহতি প্রকাশ করেন সচেতন নাগরিক গোষ্ঠী, নিজেরা করি, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সফল নারী ব্যবসায়ী আইরিন রাব্বানী, সাংস্কৃতিক আন্দোলনকর্মী সানজিদা কাজী, টুটলি রহমান, কানিজ আলমাস, সোনিয়া পান্নি, জেরিন দেলোয়ার, নাশিদ কামাল, মুনমুন রহমান, তাম্মি প্রমুখ।

মন্তব্য