kalerkantho

সোমবার । ২০ মে ২০১৯। ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৪ রমজান ১৪৪০

ড্রেজিংয়ে ৪৩৭১ কোটি টাকার প্রকল্প

ড্রেজিংয়ের মেগা প্রকল্পে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে মৃতপ্রায় নদীতে

আবদুল্লাহ আল মামুন    

১৯ এপ্রিল, ২০১৯ ০৯:০২ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ড্রেজিংয়ের মেগা প্রকল্পে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে মৃতপ্রায় নদীতে

দেশের উত্তরাঞ্চল, কিশোরগঞ্জ ও জামালপুরসহ বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের চারটি বড় নদী খননে চার হাজার ৩৭১ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নকাজ শুরু করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এ প্রকল্পের আওতায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তুলাই ও পুনর্ভবা নদীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং করা হবে। ড্রেজিংয়ের পর এই চারটি নদীতে শুষ্ক মৌসুমেও ৩৫০ ফুট প্রশস্ততা এবং অন্তত ১০ ফুট গভীরতা থাকবে। আর ভাঙনের হাত থেকে স্থানীয়দের রক্ষায় দুটি নদীর তীরে রাবার ড্যাম বসানো হবে।

তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, চারটি নদী খনন করার ফলে জামালপুর, ময়মনসিংহ, শেরপুর ও কিশোরগঞ্জসহ আশপাশের জেলার নদীগুলোতে পানির প্রবাহ বাড়বে। এতে এই চার নদীর সঙ্গে সংযুক্ত ঝিনাই, কাচামাটিয়া, ভোগাই, কংশসহ আশপাশের মৃতপ্রায় ১০-১২টি নদীতে প্রাণ ফিরে আসবে। পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি ওই সব জেলায় ফসল চাষে সেচ কার্যক্রম ও মাছ চাষও বাড়বে বলে প্রত্যাশা তাঁদের। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এসব তথ্য জানিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘১০ হাজার কিলোমিটার নৌপথ আমরা তৈরি করতে চাই। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা নদীগুলোকে জীবন ও জীবিকার হাতিয়ারে পরিণত করব। বাংলাদেশ যে নদীমাতৃক দেশ তা বিশ্বে তুলে ধরতে পারিনি। গৃহীত সব প্রকল্পের কাজ শেষ হলে শুধু কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবেই বাংলাদেশ হবে নদীমাতৃক দেশ।’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে যমুনা নদীর ভাঙন ঠেকানো। প্রতিবছর যমুনা নদীতে ব্যাপক ভাঙন সৃষ্টি হয়ে গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে। তবে নদী শাসন করে ভাঙন ঠেকাতে পারলে এই প্রকল্পের পুরো সুফল পাওয়া যাবে। এ ছাড়া এটি ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের নদীপথের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হতে পারে। ভৈরব থেকে নরসিংদী, ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর জেলার ওপর দিয়ে যমুনা নদী হয়ে ভারতের সঙ্গে সরাসরি জাহাজ চলাচলের পরিকল্পনা রয়েছে। তখন এই রুট নৌ প্রটোকলভুক্ত করার প্রয়োজন হবে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, গত বছর সেপ্টেম্বরে ‘পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তুলাই ও পুনর্ভবা নদীর নাব্যতা উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার’ শীর্ষক প্রকল্প মেয়াদ শুরু হয়। মূলত চলতি বছরের শুরুতে এর কার্যক্রম শুরু হয়। শেষ হবে আগামী ২০২৪ সালের ৩০ জুন।’

আরো জানা গেছে, সীমান্ত নদী পুনর্ভবা দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার শিবরামপুর ইউনিয়নে উৎপন্ন হয়ে বিরল উপজেলা দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে আবার নওগাঁ জেলায় ঢুকেছে। দিনাজপুর জেলার মধ্যে প্রবাহিত অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০ কিলোমিটার। নদীটির সর্বনিম্ন প্রস্থ ৩০ মিটার ও সর্বোচ্চ ২৪০ মিটার। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এই নদীর বেশির ভাগ অংশ শুকিয়ে যায় এবং সেখানে ধান চাষ করা হয়। এক্সকাভেটর ও ড্রেজার দিয়ে নদীটি খনন করা হবে। পুনর্ভবার দিনাজপুর শহরের উজানে পানি সংরক্ষণে রাবার ড্যাম বসানোর পরিকল্পনাও রয়েছে এ প্রকল্পে।

এদিকে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ বর্তমানে প্রায় ২৮৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ২০০ মিটার প্রস্থ। শুধু বর্ষা মৌসুমে এই নদীতে কার্গো ও বড় ট্রলার চলতে পারে। এ নদীর উৎসমুখ জামালপুরের পুলীকাণ্ডি থেকে কটিয়াদীর টোক পর্যন্ত ২২৭ কিলোমিটার নদী খনন করা হবে। এ নদীর তলদেশের প্রশস্ততা থাকবে ৩০০ ফুট এবং নদীর উপরিভাগের প্রশস্ততা করা হবে ৩৫০ ফুট। ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের ফলে এ নদীতে পানি বাড়ার পাশাপাশি মৃতপ্রায় ঝিনাই, বংশী ও বানর নদীতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন দিয়ে ধরলা নদী ব্রহ্মপুত্র নদে মিশেছে। বর্ষাকালে এ নদে পানিপ্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় অনেক এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। এর প্রশস্ততাও বেড়ে যাচ্ছে। বর্ষাকালে এ নদীতে কার্গো ও বড় ট্রলার চলাচল করে। শুষ্ক মৌসুমে নদীটি প্রায় শুকিয়ে যায়। ফলে আশপাশের এলাকায় কৃষিকাজে বিপর্যয় ও নৌ যাতায়াত বিঘ্নিত হয়। প্রকল্পের আওতায় ৬০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এ নদীর পুরোটায় ক্যাপিটাল ড্রেজিং করা হবে। এর ফলে সারা বাছর নদীটি যান চলাচলের উপযোগী হবে। পাশাপাশি সেচ কার্যক্রম ও মাছ চাষ বাড়বে।

মৃতপ্রায় তুলাই নদীও খনন করা হবে এ প্রকেল্পর আওতায়। বর্তমানে বর্ষা মৌসুমে নদীর দুই পার উপচে পানি প্রবাহিত হয়। উচ্চতাগত পার্থক্যের কারণে এ নদীতে পানি ধরে রাখা দুরূহ ব্যাপার। শুষ্ক মৌসুমে নদীটি প্রায় শুকিয়ে যায়। এ সময় কোনো প্রকার নৌযান চলাচল করতে পারে না। বছরের পুরো সময় নৌযান চলাচলের উপযোগী করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা রয়েছে। এ ছাড়া নদীর পানি সংরক্ষণে রাবার ড্যামও বসানো হবে।

মন্তব্য