kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা : তিন বাড়িওয়ালার সাক্ষ্য

আদালত প্রতিবেদক   

১৭ এপ্রিল, ২০১৯ ১৭:৪২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা : তিন বাড়িওয়ালার সাক্ষ্য

ফাইল ছবি

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার মামলায় তিন বাড়িওয়ালা সাক্ষ্য দিয়েছেন। জঙ্গিরা ছদ্মনামে তাদের বাড়িতে ভাড়া নিয়েছিল। হামলার পর পুলিশের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন বলে জানান। এ নিয়ে মামলায় ৩১ জন সাক্ষী দিয়েছেন। 

আজ বুধবার ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষিরা তাদের জবানবন্দি দেন। বিচারক মো. মজিবুর রহমান সাক্ষিদের জবানবন্দি গ্রহণপূর্বক আসামিদের পক্ষে আইনজীবীদের করা জেরা লিপিবদ্ধ করেন। সাক্ষ্য গ্রহন শেষে পরবর্তী সাক্ষির জন্য আগামি ২৪ এপ্রিল দিন ধার্য করেন। 

ট্রাইব্যুনালে বাড়িওয়ালা আনোয়ারুল আজিম, জাহাজ বাড়ির মালিক মমতাজ পারভীন ও রিনা খান জবানবন্দি দেওয়ার পর তাদের জেরা করেন আসামিদের আইনজীবীরা। 

আনোয়ারুল তার জবানবন্দিতে বলেন, ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি এমএ হাসান পাঁচ জন থাকবে জানিয়ে আমার মিরপুর মধ্য পাইকপাড়া (বউবাজার) ১৫৯ নং বাসায় ভাড়া নেয়। হাসানের সঙ্গে ইশতিয়াক আহমেদ, সুনীল রায়, রুবেল হোসেনসহ অজ্ঞাত একজন ওঠে। তারা ফ্লোরে থাকতো। তেমন কোন জিনিসপত্র ছিল না। যুবক বয়সের কিছু লোকজন মাঝে-মধ্যে আসতো। অনেক সময় থাকতো আবার চলে যেত। হাসানকে জিজ্ঞাসা করলে তাদের কেউ একসঙ্গে লেখাপড়া করে আবার কখনো আত্মীয় বলতো। এভাবে তারা প্রায় ৫ মাস থাকে। পরে বাসা ছেড়ে দেয়।’

তিনি বলেন, ‘কিছু দিন পর জঙ্গিরা গুলশান হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায়। জঙ্গি হামলায় দেশি-বিদেশী অনেক লোক নিহত হয়। ৫ জন জঙ্গিও সেনাবাহিনীর অভিযানে নিহত হয়। মিডিয়া ও পুলিশের দেখানো ছবি দেখে চিনতে পারি আমার বাসায় যারা ভাড়া থাকতো। যারা আসা যাওয়া করতো তাদের মধ্যে ওই মৃত জঙ্গিরা কেউ কেউ ছিল। পুলিশের মাধ্যমে পরে জানতে পারি, জঙ্গিরা আমার বাসায় ৪র্থ তলায় ভাড়া থেকে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দিত। জঙ্গিরা ছদ্ম নাম (ভুয়া নাম-ঠিকানা) ব্যবহার করে আমার বাসায় ভাড়া উঠেছিল। হাসানের প্রকৃত নাম রাকিবুল হাসান রিগ্যান বলেও জানতে পারি।’

মমতাজ বলেন, ‘২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাত ১২টার পর আমার বাসার পঞ্চম তলায় পুলিশ অভিযান চালায়। ৫ম তলায় বিভিন্ন ভার্সিটির ছেলেরা থাকতো। আমি শুনেছি ওই অভিযানে ১১ জন ছাত্র মারা গেছে। রিগ্যান নামে একজন পাঁচ তলা থেকে লাফ দেয়। আহত অবস্থায় পুলিশ তাকে আটক করে।

এরপরে একদিন আমার বাসায় এসে পুলিশ আমাকে জিজ্ঞাসা করে, এ বাড়ির বাড়িওয়ালা কে? আমি অসুস্থ, তখন আমি দরজার এক পাল্লা খুলে বলি, আমিই বাড়িওয়ালা। তখন আমার স্বামী অসুস্থ হয়ে বরিশাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পুলিশ আমাকে কিছু জিজ্ঞাসা করবে বলে থানায় নিয়ে যায়। আমি অসুস্থ বলে আমার ওষুধের বক্সও নিয়ে যায়। জিজ্ঞাসা করে ছেড়ে দেব বলে নিয়ে গেলেও আমাকে চার/সাড়ে চার মাস জেলে রাখা হয়।’

রিনা বলেন, ‘২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি ৪/৫ জন ছাত্র আমার বাসায় ভাড়া ওঠে। তারা বাইরে খুব একটা বের হত না। একদিন আমি তাদের বাসায় গিয়ে বলি, তোমরা তোমাদের জাতীয় পরিচয়পত্র আর ছবি দেবে। আমি রাত ১১ টার দিকে এসে দেখবো তোমরা কি করো। দুই দিন পরে গিয়ে দেখি ওরা চলে গেছে। এরপর পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারি, আমার বাসায় যারা ভাড়া ছিল গুলশানের হামলার সঙ্গে জড়িত।’

সাক্ষ্যগ্রহনের আগে কারাগারে থাকা মামলার আট আসামি হামলার মূল সমন্বয়ক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরীর সহযোগি আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা ওরফে র‌্যাশ, ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী নব্য জেএমবি নেতা হাদিসুর রহমান সাগর, নব্য জেএমবির অস্ত্র ও বিস্ফোরক শাখার প্রধান মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব ওরফে রাজীব গান্ধী, হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী আবদুস সবুর খান (হাসান) ওরফে সোহেল মাহফুজ, শরিফুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদকে এজলাসে হাজির করা হয়।

গত বছরের ২৬ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।  এর আগে ২৩ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজম বিভাগের পরিদর্শক হুমায়ূন কবির আটজনকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করেন। 
২০১৬ সালের পহেলা জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিসানে হামলা চালিয়ে বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। তাদের গুলিতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। বেকারির ভেতরে জিম্মি তেরোজনকে উদ্ধার করতে যৌথ বাহিনীর চালানো ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’ নামক অভিযানে পাঁচ জঙ্গি ঘটনাস্থলে নিহত হয়। 

তিনদিন পর ৪ জুলাই রাজধানীর গুলশান থানায় নিহত পাঁচ জঙ্গিসহ অজ্ঞাতদের আসামি করে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা করে পুলিশ। 

মন্তব্য