kalerkantho

রাফির ভিডিও প্রচার

ওসির বিরুদ্ধে ডিজিটাল মামলা, অভিযোগ তদন্তে পিবিআই

আদালত প্রতিবেদক   

১৫ এপ্রিল, ২০১৯ ১৯:২৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ওসির বিরুদ্ধে ডিজিটাল মামলা, অভিযোগ তদন্তে পিবিআই

ফেনীর সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেছেন এক আইনজীবী। আজ সোমবার ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মাদ আস সামশ জগলুল হোসেন মামলায় আনা অভিযোগ তদন্ত করতে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্পটিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তা দিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামি ৩০ এপ্রিল দিন ধার্য করেন।   

যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদ করায় আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দির ভিডিও ধারণ ও তা ফেইসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৬/২৯/৩১ ধারার অভিযোগে ব্যারিস্টার সৈয়দ সয়েদুল হক সুমন বাদী হয়ে ট্রাইব্যুনালে নালিশী মামলাটি করেন।
 
আরজিতে বলা হয়, গত ২৭ মার্চ ওই ছাত্রীকে অধ্যক্ষ তার কক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠলে দুজনকে থানায় নিয়ে যান ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। ওসি নিয়ম ভেঙে জেরা করতে নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন। মৌখিক অভিযোগ নেওয়ার সময় দুই পুরুষের কণ্ঠ শোনা গেলেও সেখানে নুসরাত ছাড়া অন্য কোনো নারী বা তার আইনজীবী ছিলেন না।

অভিযোগে বলা হয়, যেহেতু ওসি নিয়ম বহির্ভূতভাবে অনুমতি ব্যতিরেকে ভিডিও ধারণ করে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচার করেন। অপমানজনক ও আপত্তিকর ভাষা প্রয়োগ করেন যা প্রচলিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ অনুযায়ী দন্ডনীয়।   
ফেইসবুকে ভাইরাল হওয়া এই ভিডিও নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা। তাদের মতে, ভিকটিমের এ ধরনের ভিডিও ধারণ অপরাধের মধ্যে পড়ে।

উল্লেখ্য, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৬ ধারায় বলা হয়েছে. আইনগত কর্তৃত্ব ব্যতিরেকে অপর কোনো ব্যক্তির পরিচিতি তথ্য সংগ্রহ, বিক্রয়, দখল, সরবরাহ বা ব্যবহার করা একটি অপরাধ। এর শাস্তি পাঁচ বছর কারাদণ্ড। 

আইনের ২৯ ধারায় বলা হয়েছে, মানহানিকর তথ্য প্রকাশের শাস্তি তিন বছর কারাদণ্ড। এছাড়া আইনের ৩১ ধারায় বলা হয়েছে, ‘ওয়েবসাইট বা ডিজিটাল বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করা যা বিভিন্ন শ্রেনি বা সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা, ঘৃণা বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে বা অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে অথবা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটায় বা ঘটিবার উপক্রম হয়, তা একটি অপরাধ।’

প্রসঙ্গত, গত ৬ এপ্রিল (শনিবার) সকালে রাফি আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় যান। এ সময় মাদরাসার এক ছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করছে- এমন সংবাদ দিলে তিনি ওই বিল্ডিংয়ের চার তলায় যান। সেখানে মুখোশ পরা চার-পাঁচজন তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। রাফি অস্বীকৃতি জানালে তারা তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। গত ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

উল্লেখ্য, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির মৃত্যুর পর ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে বেশকিছু অভিযোগ ওঠে। নিহত নুসরাতের পরিবারকে সহযোগিতা না করার অভিযোগে ইতোমধ্যে সোনাগাজী থানা থেকে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। 

অন্যদিকে, ২৭ মার্চ নুসরাত জাহান রাফিকে নিজ কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে আটকের পর থেকে কারাগারে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা