kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

'৭১-এ সংঘটিত গণহত্যার স্বীকৃতি চাইলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়

বিশেষ প্রতিনিধি, নিউইয়র্ক   

২৬ মার্চ, ২০১৯ ১০:৩৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



'৭১-এ সংঘটিত গণহত্যার স্বীকৃতি চাইলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়

১৯৭১ সালে পাকিস্তানিরা বাংলাদেশে যে নির্মম গণহত্যা চালিয়েছে তার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চেয়েছেন  একটি আন্তর্জাতিক প্যানেল। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত ‘গণহত্যা দিবস’ পালন উপলক্ষে আয়োজিত একটি বহুজাতিক আলোচনা অনুষ্ঠানে এই দাবিটি উঠে আসে। এতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন।  

অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক ও প্যানেল আলোচকরা নিজ দেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের গণহত্যার উদাহরণ টেনে বলেন, ‘বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে সংঘটিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অবশ্যই হওয়া প্রয়োজন’। এতদিনেও কেন এই স্বীকৃতি অর্জিত হয়নি, তার জন্যে দুঃখও প্রকাশ করেন তারা। 

আলোচনা অনুষ্ঠানটিকে প্যানেল-১ ‘অতীত থেকে শিক্ষা গ্রহণ’ এবং প্যানেল-২ ‘ভবিষ্যত গণহত্যা প্রতিরোধ’ এই দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। গ্লোবাল সেন্টার ফর দ্য রেসপন্সিবিলিটি টু প্রটেক্ট এর পরিচালক ড. সাইমন অ্যাডামস্ প্রথম প্যানেলটির সঞ্চালনা করেন। এতে আর্মেনিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি মহের মার্গারিয়ান, কম্বোডিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি সোভান কে, ক্রোয়েশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ভ্লাদিমির দ্রোবনজ্যাক এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ম্যারিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব মো. খুরশেদ আলম প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন। 

জাতিসংঘে নিযুক্ত লিচেস্টেইন এর স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত ক্রিচিয়ান উইনেসের এর পরিচালনায় দ্বিতীয় প্যানেলটিতে আলোচক ছিলেন রুয়ান্ডার স্থায়ী প্রতিনিধি ভ্যালেনটাইন রাগয়োবিজা, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের অ্যাসিম্বলি অব দ্য স্টেট পার্টির ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং শ্লোভাকিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি মাইকেল মিলিনার এবং রাটগারস্ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও জেনোসাইড বিশেষজ্ঞ অ্যালেক্স হিনটন।  

আন্তর্জাতিক এই প্যানেল আলোচনার শুরুতে উদ্বোধনী ভাষণ দেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন তিনি। তার বক্তব্যে উঠে আসে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ এর নামে রাজধানী ঢাকায় পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী সংঘটিত নির্মম ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত গণহত্যার কথা। তিনি বলেন, ‘২৫ মার্চ রাজধানী ঢাকাকে মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত করার সেই নারকীয় হত্যাযজ্ঞের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানী বাহিনী বাংলাদেশে জেনোসাইড শুরু করে। তাই এটি শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, বিশ্ব ইতিহাসের জন্যও এক কালো দিন। একারণে এই দিনটিকেই ২০১৭ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ গণহত্যা দিবস হিসেবে ঘোষণা দেয়’।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এরপর ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন ৩০ লাখ মানুষ। এত কম সময়ে এত মানুষকে হত্যা করার ঘটনা পৃথিবীতে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। আর একারণেই এটি পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়াবহতম জেনোসাইডের ঘটনা’। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষজ্ঞ, ইতিহাসবিদ, কূটনীতিক ও বিদেশী সাংবাদিকগণ তথ্য-প্রমাণসহ পরিষ্কারভাবে এটিকে গণহত্যা বলে অভিহিত করেছেন। এ কারণে এই গণহত্যার তথ্য প্রমাণের কোনো অভাব নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

স্থায়ী প্রতিনিধি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যাকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দিতে জাতিসংঘের প্রতি জোর দাবি জানান। 

মিয়ানমারের রাখাইন স্টেটসহ বিশ্বের কোথাও যেন গণহত্যা ও নৃশংসতার মতো জঘন্য অপরাধের ঘটনা না ঘটতে পারে, তার ব্যবস্থা নেয়ার কথা উঠে আসে আলোচনায়। অতীতের সংঘটিত জেনোসাইডের তথ্য প্রমাণ ও উপাদান থেকে শিক্ষা নিয়ে কীভাবে সামনের দিনগুলোতে গণহত্যার মতো ভয়াবহ ঘটনাগুলো ঠেকানো যায়, তা নিয়েও কথা বলেন বক্তারা। এছাড়া গণহত্যা সংগঠনকারী কোনো অবস্থায়ই যেন আইনের হাত থেকে পার পেতে পারেন না তার ব্যবস্থা নেয়া এবং জোনোসাইড বন্ধে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বানও জানানো হয়। 

সোমবার স্থানীয় সময় বিকেলে আন্তর্জাতিক আবহে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাংলাদেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত গণহত্যার শিকার মানুষের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে একমিনিট নীরবতা পালন করা হয়। 

জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের প্রতিনিধি ও জাতিসংঘের কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষক, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ এবং নিউইর্য়ক প্রবাসী বাঙালিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের আমন্ত্রিত অতিথিরা এতে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া এতে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুন্নেসা। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা