kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

বিনা ভোটে আর নেতা হওয়া যাবে না

বিএনপিকে শক্তিশালী করার চেষ্টা

শফিক সাফি    

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১০:৪৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিনা ভোটে আর নেতা হওয়া যাবে না

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চরম বিপর্যয়ের পর দল পুনর্গঠন করার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এখন থেকে বিনা ভোটে কেউ দলের নেতা হতে পারবেন না। দলে ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্যরাই কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতা হতে পারবেন। এতে সংগঠন শক্তিশালী হবে। কারাগার থেকে নেতাকর্মীদের মুক্ত করতে আইনজীবীদের নিয়ে কমিটি গঠনও করা হয়েছে। পাশাপাশি চলবে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্ত করার কর্মসূচি।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী এ প্রসঙ্গে কালের কণ্ঠকে বলেন, বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটি পুনর্গঠনের কাজ চলছে। কাউন্সিলে ভোটের মাধ্যমে এখন থেকে নেতা নির্বাচিত হবেন। বিভিন্ন সংগঠনের আহ্বায়ক কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে আহ্বায়ক কমিটিকে সময় বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। বেঁধে দেওয়া সময় পর্যন্তই থাকবে আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ। এই সময়ের মধ্যে কমিটি পুনর্গঠন করতে না পারলে আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

জানা গেছে, এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নেতারা লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন। সর্বশেষ গত শনিবার গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিএনপির পুনর্গঠিত ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির (এফএসি) সঙ্গে শীর্ষ নেতাদের বৈঠক হয়। সেখানে অংশ নেওয়া দলের নির্বাহী কমিটির একজন কালের কণ্ঠকে বলেন, বৈঠকে জানানো হয়েছে, দলের সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে আগামী তিন মাসের মধ্যে কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে হবে। ইতিমধ্যে শীর্ষ পর্যায় থেকে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বেশ কয়েকটির আহ্বায়ক কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলোরও খুব শিগগিরই করা হবে।

বিনাভোটে আর দলের নেতা না করার কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এতে আর অভিযোগ উঠবে না, এই ভাই তাকে নেতা বানিয়েছে, ওই ভাইয়ের পছন্দের লোক এই পদ পেয়েছে। অর্থের বিনিময়ে পদ পাওয়ার অভিযোগও থাকবে না।’

এফএসির বৈঠকে অংশ নেওয়া বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নতুন কমিটির প্রথম বৈঠক ছিল এটি। সেখানে সাংগঠনিক বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা এসেছে।’

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, বেশ আগে দলের অঙ্গ ও সংগঠনগুলোর নেতা নির্বাচন কাউন্সিলের মাধ্যমে হতো। তাঁরা এখন মনে করছেন, এখন থেকে সেটি করতে পারলে দল সুসংগঠিত হবে। স্থায়ী কমিটির সিনিয়র এক নেতার এমন পরামর্শেই সর্বস্তরের কমিটিগুলো কাউন্সিলের মাধ্যমে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ১৯ মার্চ তিন বছর পূর্ণ হবে বিএনপির ষষ্ঠ কাউন্সিলের। এখন সপ্তম কাউন্সিল করতে হবে। সেটিকে সামনে রেখেই অঙ্গ, সহযোগী ও বিএনপিপন্থী পেশাজীবী সংগঠনগুলোকে সাজানো হচ্ছে।

জানা গেছে, ইতিমধ্যে দলের অঙ্গ সংগঠন মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক কমিটি করে দেওয়া হয়েছে, মহিলা দলের নেতাদের সঙ্গে প্রথম দফায় বৈঠক হয়েছে, পেশাজীবী চিকিৎসক সংগঠন ড্যাব, কৃষিবিদদের সংগঠন অ্যাবের আহ্বায়ক কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। বিএনপির বিদেশ বিষয়ক ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে কারা নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করবেন সেটাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

জানতে চাইলে দলের মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক লুৎফর রহমান কাজল বলেন, ‘দলের হাইকমান্ডের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি করে দেওয়ার।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা