kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১                     

চকবাজার অগ্নিকাণ্ড

সেবা দিতে প্রস্তুত স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল

আলতাফ হোসেন মিন্টু, মিটফোর্ড হাসপাতাল থেকে    

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৭:৫৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেবা দিতে প্রস্তুত স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল

চিকিৎসা নিচ্ছেন রিকশাচালক মান্নান

চকবাজার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহত হয়ে মিটফোর্ড হাসপাতালে এ পর্যন্ত আটজন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। আহতরা হচ্ছেন মো. তুষার (১৮), মো. মান্নান (৬০), হেলাল সিকদার (১৮), আহসান (৬০), মো. সাঈদ (৩০), মো. রিপন (৩৫), নাসির (৩৫) ও মো. সুজন (৪০)। এদের মধ্যে পাঁচজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। হেলাল সিকদারের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে রেফার্ড করা হয়। মান্নান ও সুজনকে মিটফোর্ড হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগের ২ নং বেডে ভর্তি রাখা হয়েছে।

মিটফোর্ড হাসপাতালে ক্যাজুয়েলটি বিভাগের ২ নং বেডে হাত-পা ব্যান্ডেজ করা শোয়া আহত মান্নানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, পুরান ঢাকার বংশাল থানার সাতরোজা আবুল হাসনাত রোডে তার বাড়ি। পেশায় তিনি একজন রিকশাচালক। বুধবার রাতে তিনি লালবাগ চুরিহাট্টা এলাকায় যাত্রী নিয়ে যান। সেখানে যাত্রী নামিয়ে তিনি ঘটনাস্থলে দিয়ে আসতেছিলেন। হঠাৎ করেই আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান এবং সেখানে লোকজনের ভীড় থেকে চিৎকার আর কান্নার শব্দ শুনতে পান। তখন তিনি রিকশা নিয়ে অন্যপথ ধরে আসার চেষ্টা করেন। এসময় ওপর থেকে আগুনে পুরা দেয়ালের একটি অংশ তার গায়ের ওপর পড়লে তিনি রিকশা থেকে পড়ে যান। এরপর তিনি কোনরকমে সেখান থেকে উঠে তার রিক্সাটি নিয়ে বাড়িতে চলে আসেন। পরে তার স্বজনরা মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করেন। তিনি মাথায়-বুকে ও হাতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় চিকিৎসা নিতে আসেন আহত নাসির। তার সাথে কথা হলে তিনি জানান, পেশায় তিনি একজন রাজমিস্ত্রী। তিনি যে মালিকের কাজ করেন তার কাজের জন্য ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়েছিলেন। এমন সময় বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটার বিস্ফোরিত হয় বিকট শব্দে। সেখান থেকে আগুন ধরে যায়। ট্রান্সমিটারের নীচে একটি গাড়ি রাখাছিল। ট্রান্সমিটারের আগুনে গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডারের ওপর পড়লে সেখান থেকে আগুন দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তখন মানুষ ছুটোছুটি শুরু করে। আমি তাদের সাথে দৌড়ে নিরাপদে যাওয়ার চেস্টা করলে মাটিতে পড়ে যাই। তখন আমার ওপর দিয়ে অনেক মানুষ দৌড়ে যান। মানুষের পায়ের পারায় আমি আহত হই। প্রথমে আমি সেখান থেকে বাড়িতে চলে যাই। ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে যাই। পরে সকালে ঘুম থেকে জেগে দেখি আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে। শরীরের ব্যাথায় আমি উঠতে পারছিলাম না। এরপর আমি কোনমতে উঠে আমার পরিবারের সাহায্যে হাসপাতালে এসেছি।

মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি হওয়া আরেক রোগি মো. সুজন জানান, তিনি ঘটনাস্থলে দিয়ে আগুন লাগার সময় আসছিলেন। এ সময় হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। মানুষ আতংকিত হয়ে পড়ে। সাথে সাথে আগুন দেখে ছুটোছুটি করতে গিয়ে তিনি পড়ে যান। পরে ঘটনাস্থল থেকে লোকজন তাকে প্রথমে একটি গাড়িতে করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসা নেন তিনি। 

এ ব্যাপারে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. আব্দুর রশীদ জানান, দুর্ঘটনার কথা শোনার সাথে সাথে আমরা জরুরি ও ক্যাজুয়েলটি বিভাগসহ সকল ডাক্তারদের সজাগ করে রাখি। ঘটনার পর থেকে এ পর্যন্ত আমাদের এখানে আটজন রোগী এসেছেন। পাঁচজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেই। দুজন ভর্তি আছেন। আর একজনের অবস্থা বেশি খারাপ হওয়ায় আমরা তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেছি। এছাড়াও আমরা প্রস্তুত আছি। যদি লাশ রাখার জন্য মরচুয়ার লাগে তার ব্যবস্থাও আমাদের করা রয়েছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা