kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১            

আইএস ছেড়ে আসা শামীমা বাংলাদেশের নন, যুক্তরাজ্যের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৬:৫৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আইএস ছেড়ে আসা শামীমা বাংলাদেশের নন, যুক্তরাজ্যের

যুক্তরাজ্য শামীমা বেগমের নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া শুরুর পর বিভিন্ন পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম সুকৌশলে তাকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বা বাংলাদেশি বলার চেষ্টা করছে। তারা এমন ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করছে যে যুক্তরাজ্য শামীমাকে গ্রহণ না করলে বাংলাদেশকে গ্রহণ করতে হবে। অথচ আইএস'র শামীমা বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত বলা হলেও তার জন্ম বাংলাদেশে নয়। তিনি কখনো বাংলাদেশে ছিলেন না। তিনি ব্রিটিশ নাগরিক।

শামীমাকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বলা হলেও বিবিসির সাক্ষাৎকারে শামীমা বলেছেন, তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট নেই এবং তিনি কখনো বাংলাদেশে ছিলেনও না।

সন্ত্রাসবিষয়ক আইন পর্যবেক্ষক লর্ড চার্লি বলেছেন, শামীমা বেগমের মা যদি বাংলাদেশি হয়ে থাকেন, তবে বাংলাদেশি আইন অনুসারে শামীমাও বাংলাদেশি।

মূলত ব্রিটিশ লোকজন বলার চেষ্টা করছে যে তিনি বাংলাদেশি। 

এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে শামীমার পরিচয় তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাকে 'বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত' হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এই তরুণী ব্রিটিশ নাগরিকত্ব হারাতে যাচ্ছেন। ব্রিটিশ সরকারি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। মঙ্গলবার ব্রিটেনে বসবাসরত শামীমার মাকে এ বিষয়ে চিঠি দিয়ে অবহিত করা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন তিনি।  

এদিকে, শামীমার পারিবারিক আইনজীবী তাসনিম আকুঞ্জি জানিয়েছেন, তারা ব্রিটিশ সরকারের এই সিদ্ধান্তে 'হতাশ'। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করতে সবধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেবেন তারা। 

বিবিসি'র ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৮১ সালের ব্রিটিশ ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট অনুযায়ী একজন নাগরিকত্ব হারাতে পারেন যদি তার রাষ্ট্রহীন হওয়ার ঝুঁকি না থাকে।

শামীমা জানিয়েছেন, তিনি তার বোনের যুক্তরাজ্যের পাসপোর্ট নিয়ে সিরিয়া পাড়ি দিয়েছিলেন এবং সেই পাসপোর্ট তার কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হয় সীমান্ত অতিক্রমের পরপরই।

তাকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মনে করা হলেও তিনি বিবিসিকে বলেছেন, তার কখনো বাংলাদেশি পাসপোর্ট ছিলো না ও তিনি কখনো সে দেশে যাননি। তবে নাগরিকত্ব হারানোর আগে ব্রিটিশ বাবা-মায়ের সন্তান হলে তিনি সন্তান ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবেই বিবেচিত হতে পারেন।

ব্রিটিশ হোম অফিসের একজন মুখপাত্র বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে হোম সেক্রেটারি এটা পরিষ্কার করে বলছেন যে তার অগ্রাধিকার হলো ব্রিটেন ও এর জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

শামীমা বেগম বলেছেন, সিরিয়া যাওয়ার জন্য তিনি দুঃখিত নন। যদিও ওই গোষ্ঠীর সবার সাথে তিনি সবকিছু নিয়ে একমত ছিলেন না।

'আমি আসলে কিছু ব্রিটিশ মূল্যবোধকে সমর্থন করি এবং আমি স্বেচ্ছায় যুক্তরাজ্যে ফিরতে চাই', বিবিসিকে বলেন শামীমা।

তিনি স্বীকার করেছেন যে ২০১৭ সালে ম্যানচেস্টার অ্যারেনা হামলার ঘটনায় তিনি আঘাত পেয়েছেন। ওই ঘটনায় ২২ জন নিহত হয়েছিলো যার দায় আইএস স্বীকার করেছিলো।

'আমি কষ্ট পেয়েছি। নিরীহ মানুষ খুন হয়েছে'।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে শামীমা দুই বন্ধুর সঙ্গে লন্ডন থেকে সিরিয়ায় পালিয়ে গিয়ে আইএসে যোগ দেন। বর্তমানে শামীমার বয়স ১৯ বছর। তাকে গত সপ্তাহে এক শরণার্থী শিবিরে পাওয়া যায়। সম্প্রতি এক ছেলে সন্তানের জন্ম দেন তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা