kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৪ অক্টোবর ২০১৯। ৮ কাতির্ক ১৪২৬। ২৪ সফর ১৪৪১       

সংসদ ভবন এলাকায় চলছে মাছ উৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ জানুয়ারি, ২০১৯ ০২:৫৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সংসদ ভবন এলাকায় চলছে মাছ উৎসব

পানি শুকিয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের লেকে মাছ ধরা শুরু হয়েছে। আর সেই মাছ ওই এলাকায়ই খুচরা বিক্রি করা হচ্ছে। অফিস শেষে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দল বেঁধে তা কিনছেন। আর এ নিয়ে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রীতিমতো উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। আজ বৃহস্পতিবারও মাছ বিক্রি চলবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সংসদ ভবনের লেকটি সংস্কারের কাজ চলছে। এ কারণে লেকের পানি শুকানোর হচ্ছে। আর পানি শুকানোর কারণে প্রতিদিনই ধরা পড়ছে রুই, কাতলা, বাইন, শোল, শিং-মাগুর, চিতল, বোয়ালসহ হরেক রকমের মাছ। অবশ্য আগেই লেকের মাছ ট্লোরের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে। মাছ বিক্রি থেকে সংসদ সচিবালয় পেয়ে ৬ লাখ ৪২ হাজার টাকা। ট্লোর পাওয়া মাছ ব্যবসায়ী লেক থেকে মাছ ধরে নিয়ে সংসদের মূল ভবনের পূর্ব পাশে এমপি হোস্টেলের প্রবেশ মুখে বাঁশ দিয়ে ঘিরে মাছের অস্থায়ী হাট বসানো হয়েছে।

মাছ ব্যবসায়ি গণি মিয়া জানান, প্রতিদিনই জেলে এসে মাছ ধরছে এবং সেখানেই তা বিক্রি হচ্ছে। তাজা মাছ হওয়ায় মাছে ক্রেতাও বেশী। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করে পারছেন না। যতদিন মাছ পাওয়া যাবে ততদিন এই মাছ বিক্রি চলবে। তবে দু’এক দিনের মাছ ধরার কাজ শেষ হবে বলেও তিনি জানান।

গতকাল বুধবার বিকেলে মাছের হাটে ব্যাপক ভীড় দেখা যায়। অনেককেই মাছ ভর্তি ব্যগ নিয়ে বের হলেও অনেকেই শেষ পর্যন্ত মাছ কিনতে পারেনি। আর বড় মাছগুলো আগেই কারা বুকিং দিয়ে রেখেছেন। যে কারণে অনেকের ইচ্ছা থাকলেও ৭/৮ কেজি ওজনের রুই-কাতলা কিনতে পারেননি। তবে অনেককে এক থেকে দুই কেজি ওজনের তেলাপিয়া কিনতে দেখা যায়। মাছের মূল্যও তুলনামূলক কম বলে ক্রেতারা জানান।

মাছের হাটে ঝুলানো তালিকা অনুযায়ী, প্রতি কেজি রুই মাছ এক কেজি পর্যন্ত ১৩০ টাকা, এক থেকে দুই কেজি ওজনের মাছ ১৮০ টাকা, ৩ থেকে ৫ কেজি ওজনের মাছ ৩০০ টাকা, ৫ থেকে ৮ কেজি ওজনের মাছ ৪০০ টাকা এবং ৮ কেজির ঊর্ধ্বে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি ওজনের কাতল মাছ ১২০ টাকা, এক থেকে ২ কেজি ওজনের মাছ ১৭০ টাকা, ৩ থেকে ৫ কেজি ওজনের মাছ ২৫০ টাকা, ৫ থেকে ৮ কেজি ওজনের ৩৬০ টাকা, ৮ কেজির ঊর্ধ্বে ৪২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তেলাপিয়া মাছ ৫০০ গ্রামেরে নীচে হলে ৮০ টাকা, ৫০০ গ্রামের বেশি ওজনের ১০০ টাকা, ২ কেজির ঊর্ধ্বে ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিতল মাছ দেড় কেজি পর্যন্ত ৩৫০ টাকা এবং ৫ থেকে ৮ কেজি ওজনে ৬৫০ টাকা। শোল মাছ ৫০০ গ্রাম ওজনের ২৫০ টাকা ও এক কেজির ঊর্ধ্বে ৩৫০ টাকা। ২৫০ গ্রাম ওজনের বাইন ৪০০ টাকা কেজি ও ৫০০ গ্রাম ওজনের বাইম ৬০০ টাকা। শিং-মাগুর ৪৫০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, সংসদের লেকে প্রতি বছর মাছের পোনা ছাড়া হলেও এভাবে মাছ ধরা ও বিক্রির ঘটনা এই প্রথম। এর আগে বিভিন্ন সময়ে টিকিট বিক্রি করে সৌখিন মত্স্য শিকারীদের বরশী দিয়ে মাছ ধরা চলতে দেখা গেছে। এই খাত থেকে একটি নিয়মিত আয় ছিল সংসদ সচিবালয়ের। লেক সংস্কারের পর আবারো নতুন পানি তুলে মাছে পোনা ছাড়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা