kalerkantho

বিএসটিআইয়ের প্রতিবেদন হাইকোর্টে

পানের অযোগ্য পাঁচটি কম্পানির পানি

দুই সপ্তাহ পর পর নমুনা পরীক্ষার নির্দেশ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ জানুয়ারি, ২০১৯ ১১:৪৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পানের অযোগ্য পাঁচটি কম্পানির পানি

সরকার অনুমোদিত পাঁচটি কম্পানির বাজারে সরবরাহ করা জার ও বোতলজাত খাবার পানি পানের অযোগ্য। হাইকোর্টে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) দাখিল করা এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। এই পাঁচ কম্পানির বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা জানতে চেয়েছেন আদালত। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তা আদালতকে জানাতে বিএসটিআইয়ের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতি দুই সপ্তাহে একবার করে বাজার থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা অব্যাহত রাখতে বিএসটিআইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ আদেশ দেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাম্মী আক্তারের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিএসটিআই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেসুর রহমান। রিট আবেদনকারী পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. জে আর খান রবিন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্রুটস অ্যান্ড ফ্লেভার লিমিটেডের ‘ইয়ামি ইয়ামি’, সিনহা বাংলাদেশ ট্রেডস লিমিটেডের ‘এক্যুয়া মিনারেল’, ক্রিস্টাল ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ‘সিএফবি’, ওরোটেক ট্রেড অ্যান্ড টেকনোলজির ‘ওসমা’ এবং শ্রী কুণ্ডেশ্বরী ঔষধালয় লিমিটেডের ‘সিনমিন’ নামের বোতলের পানি মানহীন ও পানের অনুপযোগী।

হাইকোর্ট গত ১৪ জানুয়ারি এক আদেশে বাজারজাত করা জার ও বোতলজাত পানির গুণগত মান পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বিএসটিআইকে নির্দেশ দেন। এ নির্দেশে সরকার অনুমোদিত ১৫টি কম্পানির পানি পরীক্ষা করে বিএসটিআই। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৪ জানুয়ারি থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত বাজার থেকে জার ও বোতলের পানির ২২টি নমুনা সংগ্রহ করে বিএসটিআই। তার মধ্যে ১৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে পাঁচটি কম্পানির পানি নিম্নমানের ও পানের অযোগ্য। এ প্রতিবেদন দেখার পর আদালত বাকি সাতটি নমুনার প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

‘প্রতারণার নাম বোতলজাত পানি’ শিরোনামে গত বছর ২২ মে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ যুক্ত করে হাইকোর্টে গত বছর ২৭ মে রিট আবেদন করা হয়। এর আগে বিএসটিআইয়ের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে একটি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এই প্রতিবেদনে আদালত সন্তুষ্ট হতে না পেরে পানির মান পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। এ নির্দেশে প্রতিবেদন দাখিল করে বিএসটিআই।

এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট গত বছর ৩ ডিসেম্বর এক আদেশে বেআইনিভাবে বোতলজাত খাবার পানি বাজারে সরবরাহ বন্ধের নির্দেশ দেন। বিএসটিআই ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। এ ছাড়া আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে বিএসটিআই কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা ১৫ দিনের মধ্যে আদালতকে লিখিতভাবে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালত অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনার পাশাপাশি রুল জারি করেন। এরই ধারাবাহিকতায় হাইকোর্ট গতকাল নতুন আদেশ দিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা