kalerkantho

সোমবার । ২৬ আগস্ট ২০১৯। ১১ ভাদ্র ১৪২৬। ২৪ জিলহজ ১৪৪০

ভোটে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে : সিইসি

বিশৃঙ্খলা হলে হস্তক্ষেপ-গ্রেপ্তার করতে পারবে সেনাবাহিনী

বিশেষ প্রতিনিধি    

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৩:৫৪ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বিশৃঙ্খলা হলে হস্তক্ষেপ-গ্রেপ্তার করতে পারবে সেনাবাহিনী

ছবি : কালের কণ্ঠ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকক্ষ (বুথ) থেকে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরা সরাসরি কোনো তথ্য সম্প্রচার করতে পারবেন না। তবে ভোটকক্ষের ছবি তোলা যাবে। তবে সম্প্রচার করা যাবে ভোটকেন্দ্র থেকে। ভোটগ্রহণে প্রিসাইডিং অফিসারদের অনুমতি নিয়ে ভোটকেন্দ্রে সীমিত আকারে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক ঢুকতে পারবেন। আর কোনো জায়গায় বিশৃঙ্খলা হলে সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ এবং গ্রেপ্তার করতে পারবে।

গতকাল শনিবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা এ সিদ্ধান্ত জানান। এ সময় সিইসি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের ওপর হামলার ঘটনাকে দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত আখ্যায়িত করে বলেন, ‘ওই ঘটনা নির্বাচনী তদন্ত কমিটিতে পাঠানো হবে। কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া হবে না। আইনে যেভাবে আছে সেভাবেই তারা দায়িত্ব পালন করবে। কোনো জায়গায় বিশৃঙ্খলা হলে হস্তক্ষেপ করতে পারবে তারা।

এর আগে গতকাল সকালে এক বৈঠকে বসেন নির্বাচন কমিশনাররা। বৈঠকে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ অনুমোদন এবং আচরণবিধি প্রতিপালনে বিজ্ঞাপন প্রচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকের পর বিকেলে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন সিইসি। বৈঠকের পর সিইসি জানান, ভোটের সময়ে মোবাইল ব্যাংকিং বন্ধ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক ফোরজি থেকে টুজিতে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়নি।

সাংবাদিকদের বিষয়ে সিইসি বলেন, নির্বাচনে ভোটকক্ষের দৃশ্য  টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে না। ভোটকক্ষ থেকে বাইরে এসে বারান্দায় বা মাঠে এসে সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে। সাংবাদিকদের প্রতিটি কেন্দ্রে সীমিত আকারে যেতে হবে। কারণ একসঙ্গে অনেকে গেলে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটে। সে ক্ষেত্রে কতজন একসঙ্গে যেতে পারবেন, তা নির্বাচনকেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ধারণক্ষমতা বিবেচনা করে অনুমোদন দেবেন। তিনি বলেন, ভোটকক্ষে মোবাইল ফোনে ছবি তোলা যাবে; কিন্তু মোবাইল ফোনে কথা বলা যাবে না। সাংবাদিকদের মতো নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের বিষয়েও একই ধরনের নির্দেশনা মানতে হবে।

সিইসি বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কাজে যেন কোনো ধরনের ব্যাঘাত না ঘটে। প্রিসাইডিং অফিসারের ব্যবস্থাপনা মানতে হবে। প্রিসাইডিং অফিসাররা তাঁদের কক্ষের ধারণক্ষমতা বিবেচনা করে কতজন সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষককে অনুমোদন দেন সেটা তাঁর বিষয়।’

এ সময় নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে প্রার্থী বা তাঁর প্রতিনিধি ভোটারদের কোন প্রতীকে ভোট দিয়েছেন তার ছবি দেখাতে বলেন। তাই আমরা বলছি, ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে যেতে পারবেন না।’

ড. কামাল হোসেনের ওপর হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে সিইসি বলেন, ‘ড. কামাল হোসেনের ওপর হামলার ঘটনাটি দুঃখজনক। তিনি একজন সিনিয়র সিটিজেন ও একজন প্রখ্যাত ব্যক্তি। তাঁর ওপর হামলা হওয়াটা কখনোই প্রত্যাশিত নয়, কাঙ্ক্ষিত নয়। এ ক্ষেত্রে ফৌজদারি অপরাধ হয়েছে। ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে যেভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তা হবে। তারা (ঐক্যফ্রন্ট) আমাদের কাছে বিষয়টি দেখার জন্য আবেদন করেছে। আমরা এটা দেখার জন্য নির্বাচনী তদন্ত কমিটির কাছে পাঠাব। তারা প্রতিবেদন দিলে সেই অনুসারে ব্যবস্থা হবে।’ তিনি বলেন, ‘কাল-পরশুর মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের আইজিকে চিঠি দেব, তাঁরা যেন কোনো প্রার্থী বা রাজনীতিক, কোনো কর্মীকে ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকলে বিনা ওয়ারেন্টে বা নিষ্প্রয়োজনে হয়রানি না করেন, তা বলে দেব।’ বিভিন্ন স্থানে গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অহেতুক কেউ গ্রেপ্তার হয়েছে, তা বলা যাবে না। তাদের বিরুদ্ধে হয়তো মামলা-মোকদ্দমা ও ওয়ারেন্ট থাকতে পারে। সেই কারণে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে থাকতে পারে। এটা তাৎক্ষণিকভাবে  বলতে পারব না।’

এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘আমরা মনে করি, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়েছে। সৎ প্রার্থীরা তাঁদের প্রচারণা চালাতে পারছেন। প্রচারে তাঁদের কোনো বাধা নেই। স্থানীয়ভাবে ফৌজদারি অপরাধ ঘটলে সে ক্ষেত্রে তাঁরা মামলা করবেন বা আমাদের কাছে পাঠাবেন।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া হবে না। তবে বিশেষ পরিস্থিতি হলে তারা হস্তক্ষেপ এবং গ্রেপ্তার করতে পারবে। যদি ম্যাজিস্ট্রেট থাকেন বা কোনো একটি এলাকা/কেন্দ্রে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যে ইমিডিয়েট হস্তক্ষেপ করার দরকার হয়, তাহলে সেনাবাহিনী ব্যবস্থা নেবে। সেটা আইনেই বলা আছে। সিআরপিসিতে আইনে যেভাবে আছে, সেভাবেই তারা দায়িত্ব পালন করবে।’

নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন ও হামলার ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে সিইসি বলেন, ‘আচরণবিধি লঙ্ঘনে কতজনকে সাজা দেওয়া হয়েছে সেই তথ্য নেই। আমাদের কাছে আচরণবিধি ভঙ্গের যেসব অভিযোগ আসছে, তা ইলেকট্রোরাল ইনকোয়ারি কমিটির কাছে পাঠিয়ে দেব। কিছু রিটার্নিং অফিসারদের  কাছে পাঠাব। তাঁরা এগুলো স্থানীয়ভাবে দেখবেন। স্থানীয়ভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হলে রিটার্নিং অফিসার এর ব্যবস্থা নেবেন। এ ছাড়া নির্বাচনী ম্যাজিস্ট্রেট আছেন, তাঁরাও দেখবেন। আমরা ১২২টি নির্বাচনী তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তারা বিষয়গুলো দেখছে।’

ব্রিফিংয়ের সময় সিইসির সঙ্গে আরো ছিলেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, কবিতা খানম ও নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা