kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২২ আগস্ট ২০১৯। ৭ ভাদ্র ১৪২৬। ২০ জিলহজ ১৪৪০

রাজধানীতে গোলটেবিল বৈঠকে নেতৃবৃন্দ

নির্বাচন মানেই সংখ্যালঘু নির্যাতন, প্রতিরোধে প্রস্তুত থাকার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক    

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২১:২৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নির্বাচন মানেই সংখ্যালঘু নির্যাতন, প্রতিরোধে প্রস্তুত থাকার আহ্বান

'নির্বাচন মানেই সংখ্যালঘু নির্যাতন'-অতীতের রেকর্ডগুলো সেটাই প্রমাণ করে। যে কারণে নির্বাচন আসলেই সংখ্যালঘুরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এরপর সংখ্যালঘু নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত সংসদ সদস্যরা আবারো মনোনয়ন পাওয়ায় এই আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে। তাই যে কোন ধরনের নির্যাতন-নিপীড়ন প্রতিরোধে সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে। নির্বাচন কমিশনকেও সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

আজ শুক্রবার (১৪ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে 'জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা'-শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ এ আহ্বান জানান বক্তারা।

বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট এবং সমমনা ১০টি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মাইনরিটি জনতা পার্টির সভাপতি শ্যামল কান্তি রায়।

আলোচনায় অংশ নেন ঐক্য ন্যাপের সভাপতি ও মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক পংকজ ভট্টাচার্য্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মেজবাহ কামাল, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজল দেবনাথ, খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশনের নির্মল রোজারিও, মানবাধিকারকর্মী কে এম এনায়েত হোসেন, পূজা উদযাপন পরিষদের অ্যাডভোকেট হারাধন সরকার প্রমুখ।

আলোচনায় অংশ নিয়ে পংকজ ভট্টাচার্য্য স্বাধীন বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিরাষ্ট্রকরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত বাংলাদেশের সংবিধানের চার মূলনীতিতে ধর্ম নিরপক্ষেতার কথা বলা হয়েছে। যে রাষ্ট্রে সকল ধর্মের মানুষ সমঅধিকার ভোগ করবে। কিন্তু রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক করা হয়েছে। আদিবাসী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে রাষ্ট্র ব্যর্থ হচ্ছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনে সকল দল অংশ নিয়েছে। কিন্তু কেউ ইচ্ছামতো প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবে, আবার কেউ ঘর থেকে বের হতে পারবে না। সর্বত্রই আমরা এক দলেরই শ্লোগান শুনতে পাচ্ছি। কিন্তু কেন? এইভাবে তো মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে দেশবাসীকে ঐক্যদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

হত্যা-নির্যাতন প্রতিরোধ ও আত্মরক্ষায় গ্রামে গ্রামে কমিটি গঠনের আহ্বান জানান অধ্যাপক মেজবাহ কামাল। তিনি বলেন, ২০০১ থেকে শুরু করে ২০১৪ সালের নির্বাচনের কথা মনে পড়লে উদ্বিগ্ন না হওয়ার কারণ নেই। নির্বাচন চলাকালে যেসব নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, সেসব ঘটনার কোনো বিচার হয়নি। বরং মন্ত্রী-এমপিরা নতুন করে নির্যাতন চালিয়েছেন। সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি দখল করেছেন। অর্পিত সম্পত্তি নিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে।

অধ্যাপক মেজবাহ আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময় দেশে জনসংখ্যা বাড়লেও সংখ্যালঘুর সংখ্যা কমেছে। নিপীড়ন চালিয়ে তাদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। এই অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য জাতীয় সংসদে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান তিনি।

বৈঠকে বক্তারা বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ব্যাপকভাবে হিন্দুসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন হয়েছে। সেই নির্যাতনের বিষয় নিয়ে পরবর্তীতে ক্ষমতাসীন সরকার কোনো বিচার করেনি। ২০১৪ সালের নির্বাচনকে ঘিরে একইভাবে নির্যাতন-নিপীড়নের ঘটনা দেখেছি। তাই আগামী নির্বাচন নিয়েও জনমনে নানা শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারণ সংখ্যালঘু নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত এমপিদের মনোনয়ন না দেওয়ার দাবি জানালেও তা রাজনৈতিক দলগুলো আমলে নেয়নি।

বক্তারা আরো বলেন, প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি না হওয়ায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বারবার আক্রান্ত হচ্ছে। তারা এলাকা, এমনকি দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। তাই অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে জাতীয় সংসদে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। বৈঠকে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানানো হয়।

নিরাপত্তা দিতে হটলাইন
নির্বাচনকালে দেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিয়ে একটি হটলাইন (+৮৮০৯৬১২১০০৩০০) খোলা হয়েছে। সংখ্যালঘুদের ২২টি সংগঠনের পক্ষ থেকে চালু করা এই হটলাইনটি তাৎক্ষণিক সেবা দিবে। কেউ আক্রান্ত হলে বা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে ওই নম্বরে ফোন করার জন্য গোলটেবিল বৈঠক থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ডিসি-এসপিকে স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে দেশের সকল জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাগো হিন্দু পরিষদ। আজ শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী মনোরঞ্জন ঘোষাল, জাগো হিন্দু পরিষদের সভাপতি সঞ্জয় বনিক, সাধারণ সম্পাদক নিতাই দেবনাথ প্রমুখ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা