kalerkantho


সংসদে হাউজ বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট বিল পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ অক্টোবর, ২০১৮ ২৩:২১



সংসদে হাউজ বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট বিল পাস

গৃহায়ণ ও ইমারত নির্মাণ প্রযুক্তি সম্পর্কে কারিগরী পরামর্শ নেওয়ার জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদনের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে ‘হাউজ বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট আইন-২০১৮’ বিল পাস হয়েছে। ‌আজ সোমবার গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বিলটি পাস করার প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে বিলের ওপর আনীত জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। 
 
বিলে বলা হয়, যেহেতু সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন ২০১১ দ্বারা সংবিধানের চতুর্থ তফশিলের ৩ ক এবং ১৮ অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত হওয়ায় এবং উচ্চ আদালত কর্তৃক সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিল হওয়ায় সামরিক সরকারের অধ্যাদেশগুলোর কার্যকারিতা লোপ পায়। তবে ২০১৩ সালের ৬ নং আইন দ্বারা কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকর রাখা হয়। অধ্যাদেশসমূহের আবশ্যকতা বিবেচনা করে সরকার প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জন ক্রমে নতুনভাবে আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেয়। 
 
আইনে সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে গৃহায়ণ ও ইমারত নির্মাণ প্রযুক্তি সম্পর্কে কারিগরী পরামর্শ নেওয়ার জন্য দেশি, বিদেশি বা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদনের বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া আইনে গৃহায়ণ ও ইমারত নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয়ে গবেষণার জন্য ফেলোশিপ ও বৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা প্রবতর্নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
 
বিলে বলা হয়েছে, হাউজ বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালনার ২১ জন সদস্যের একটি পরিচালনা পর্ষদ থাকবে। সেক্ষেত্রে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী পর্ষদের চেয়ারম্যান এবং একই মন্ত্রণালয়ের সচিব পদাধিকার বলে ভাইস চেয়ারম্যান হবেন। তবে মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী থাকলে তারা ভাইস চেয়ারম্যান হবেন এবং সচিব মহোদয় সদস্য হিসেবে থাকবেন। 
 
এ ছাড়া কমিটিতে সরকারি প্রতিনিধিদের বাইরে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ জন অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একজন অধ্যাপক, রিয়েল এস্টেট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ রিহ্যাবের সভাপতি বা মনোনীত প্রতিনিধি, ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মনোনীত একজন ফেলো, ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্ট মনোনীত একজন ফেলো, ইমারত ডিজাইন প্রণয়নে নিয়োজিত পরামর্শ প্রকৌশলীদের থেকে সরকার মনোনীত একজন প্রতিনিধি, ইমারত নির্মাণ ফার্মসমূহ থেকে একজন মনোনীত প্রতিনিধি এবং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের দুইজন প্রতিনিধি থাকবেন। হাউজ বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক পর্ষদের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
 
আরো বলা হয়েছে, সরকার গৃহায়ণ ও ইমারত নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিগণের মধ্য থেকে নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে মহাপরিচালক নিয়োগ দেবে। ‘ইনস্টিটিউট’ ইমারত নকশা প্রণয়ন ও নির্মাণ, নির্মাণ উপকরণ-শিল্প এবং মানব বসতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যার ওপর কারিগরি ও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান এবং গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এ ছাড়া দুর্যোগ সহনীয়, আধুনিক কৌশল, টেকসই নতুন উপকরণ এসব বিষয়ে যৌথ সমীক্ষা পরিচালনা ও গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ করবে রিসার্চ ইনস্টিটিউট। 
 
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গবেষণা ও পরীক্ষার মাধ্যমে গৃহায়ণ ও নির্মাণ ক্ষেত্রে যুগোপযোগী জ্ঞান আহরণ, দেশীয় নির্মাণ উপকরণের সর্বোত্তম ব্যবহার এবং পরিবেশ বান্ধব দুর্যোগ সহনীয় সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৩ জানুয়ারি ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘হাউজ বিল্ডিং রিসার্চ সেন্টার প্রকল্প’ অনুমোদন করেন। এরপর ১৬ অক্টোবর ১৯৭৭ সালে ‘হাউজ বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৭’ জারি করা হয়। 
 
সম্প্রতি অধ্যাদেশটি সংশোধন ও পরিমার্জন করে নতুন আইন আকারে বাংলা ভাষায় প্রণয়ন করা হয়। আইনটি বাস্তবায়িত হলে পরিবেশবান্ধব, দুর্যোগ সহনীয়, ব্যয় সাশ্রয়ী ও ব্যাপক জনগোষ্ঠীর ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে সকলের জন্য আবাসন সহজলভ্য করার স্বার্থে সুপরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করা যাবে।


মন্তব্য