kalerkantho

রবিবার। ১৮ আগস্ট ২০১৯। ৩ ভাদ্র ১৪২৬। ১৬ জিলহজ ১৪৪০

এশিয়ায় প্রবৃদ্ধি হবে সবচেয়ে বেশি : ওইসিডি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ ডিসেম্বর, ২০১৪ ২৩:১৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এশিয়ায় প্রবৃদ্ধি হবে সবচেয়ে বেশি : ওইসিডি

বিশ্ব অর্থনীতি কেমন চলছে, এশিয়ার প্রবৃদ্ধি তার উপর নির্ভরশীল। তা সত্ত্বেও এশিয়ার দেশগুলোতে প্রবৃদ্ধির হার বিশ্বের অপরাপর এলাকার চেয়ে বেশি হবে, বলে মনে করেন ওইসিডির অর্থনীতিবিদ আলভারো পেরেইরা। অর্গানাইজেশন ফর ইকনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বা ওইসিডি তাদের সর্বাধুনিক ‘ইকোনমিক আউটলুক' প্রকাশ করেছে। সেই আউটলুক অনুযায়ী চীন ও ভারত পূর্বাপর এশীয় দেশগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি করবে। ভারতের অর্থনীতি বাড়বে ছয় দশমিক আট শতাংশ হারে; চীনের জিডিপি বাড়বে সাত শতাংশের কাছাকাছি। ওইসিডি'র অর্থনীতি বিভাগের অর্থনীতিবিদ আলভারো পেরেইরা ডিডাব্লিউ-র সাক্ষাৎকারে এই মত প্রকাশ করেন যে, প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতা বৃদ্ধি ও উচ্চ প্রবৃদ্ধির জন্য এশিয়ার দেশগুলোকে কাঠামোগত সংস্কার চালিয়ে যেতে হবে এবং তাদের অর্থনীতিকে আরো উন্মুক্ত করতে হবে।
ডিডাব্লিউ : এশিয়ার মুখ্য অর্থনীতিগুলো ২০১৫ এবং পরবর্তী বছরগুলোতে কী রকম ফলাফল করবে, বলে আপনি মনে করেন?
আলভারো পেরেইরা : এশিয়া বিশ্বের অন্যান্য এলাকার চেয়ে দ্রুততর প্রগতি করতে থাকবে, এবং তা শুধু ২০১৫'তেই নয়, বরং তার পরেও। চীনের অর্থনীতি কিছুটা গতিবেগ হারাবে বটে, কিন্তু ২০১৬ সালের মধ্যে টেকসই সাত শতাংশ প্রবৃদ্ধির কাছাকাছি পৌঁছবে। সে তুলনায় ভারতের অর্থনীতি বিগত কয়েক বছর ধরে ঢিমেতালে বাড়ার পর এ'বছর নিরাময়ের দিকে যাবে এবং আগামী কয়েক বছরে বাৎসরিক ছয় দশমিক পাঁচ শতাংশ হারে বাড়বে বলে আশা করা যায়।
ইন্দোনেশিয়ায় প্রবৃদ্ধি ২০১৫ সালের পাঁচ দশমিক দুই শতাংশ থেকে বেড়ে ২০১৬ সালে পাঁচ দশমিক ছয় শতাংশে পৌঁছবে, বলে আমরা প্রত্যাশা করছি।... দক্ষিণ কোরিয়াতেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আবার ওপরদিকে মোড় নিয়েছে।... তাদের প্রবৃদ্ধি আগামী দুই বছর চার শতাংশের কাছাকাছি থাকবে। জাপানে কিন্তু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দুর্বল... এ'বছরের দ্বিতীয় ও তৃতীয় চতুর্থাংশে জাপানের বাস্তবিক জিডিপি আরো কমে গেছে।...
আগামীতে এশিয়ার অর্থনীতিগুলোর মূল ঝুঁকি কী?
আলভারো পেরেইরা : এশিয়ার প্রবৃদ্ধি বিশ্ব অর্থনীতি কেমন চলছে, তার উপর নির্ভরশীল। বিশ্ব জিডিপি'র প্রবৃদ্ধি অপেক্ষাকৃত কম, যদিও তা আগামী কয়েক মাসে বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তা সত্ত্বেও তা দুর্বলই থাকবে। মার্কিন অর্থনীতি নিয়মিত হারে নিরাময়ের দিকে এগোচ্ছে, কিন্তু ইউরোপ ও জাপানের ভবিষ্যৎ ঠিক অতোটা আশাব্যঞ্জক নয়। আমরা জানি যে, এশিয়ার উত্থানের একটা বড় অংশ হলো বাণিজ্যবৃদ্ধি। কিন্তু (বিশ্ব আর্থিক) সংকট শুরু হওয়া যাবৎ, বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যও দুর্বল হয়ে পড়েছে। বাণিজ্য স্থায়ীভাবে দুর্বল হয়ে পড়লে, এশিয়ার প্রবৃদ্ধি প্রক্রিয়ার উপর তার প্রভাব পড়বে বৈকি।...
এশিয়ার দেশগুলোকে প্রবৃদ্ধির পথে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হবে?
আলভারো পেরেইরা : জাপানের উচ্চ সরকারি ঋণ একটা সমস্যা... জিডিপি'র প্রায় ২৩০ শতাংশ।... দক্ষিণ কোরিয়ায় সরকারি ঋণের পরিমাণ নিচের দিকে, জিডিপির ৪০ শতাংশ। তার পরিবর্তে বেসরকারি পরিবারবর্গের ঋণ আয়ের ১৬১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা কি না জনসাধারণের ব্যক্তিগত কেনাকাটা কমিয়ে দিতে পারে।... ভারত সরকার প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার সরলীকরণ, অবকাঠামো সংক্রান্ত প্রকল্পগুলিকে অগ্রাধিকার প্রদান, জ্বালানি শিল্পকে অংশত সরকারি নিয়ন্ত্রণ মুক্ত করা এবং এফডিআই বা প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তার ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্যম এবং বিনিয়োগের পরিকল্পনা প্রেরণা পেয়েছে। তবে প্রবৃদ্ধির হার বাড়ানোর জন্য আরো সংস্কার প্রয়োজন। আলভারো পেরেইরা ওইসিডির ইকনমিক্স ডিপার্টমেন্ট'এর একক দেশ সংক্রান্ত গবেষণা বিভাগের পরিচালক।
সূত্র: ডয়েচে ভেলে

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা