kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

\'শেখ কামালের বিয়ের উপঢৌকন সবই সরকারি তোষাখানায় জমা দেওয়া হয়েছিল\'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩০ আগস্ট, ২০১৪ ১৮:১৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



\'শেখ কামালের বিয়ের উপঢৌকন সবই সরকারি তোষাখানায় জমা দেওয়া হয়েছিল\'

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে শেখ কামালের বিয়ের মূল্যবান সব উপহার সরকারি তোষাখানায় জমা দেওয়া হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর একান্ত সচিব ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বাসসকে এ কথা বলেন।
“শেখ কামাল এবং সুলতানা কামালের বিয়েটা হয় পঁচাত্তরের প্রথমদিকে। বিয়েতে যে সব মূল্যবান উপহার পাওয়া গিয়েছিল বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে এবং বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের প্রত্যক্ষ সহায়তায় আমরা সরকারি তোষাখানায় জমা দিয়েছিলাম,” বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণকালে তাঁর একান্ত সচিব বাসসকে এ কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন


ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, 'স্বভাবতই শেখ কামালের বিয়েতে অনেক দামি দামি উপঢৌকন এসেছিল। একটা সোনার নৌকা এবং একটা মুকুট রাখা হয়েছিল অ্যাজ এ সিম্বল। বাকি সব সরকারি তোষাখানায় জমা দেওয়া হয়েছিল। যে কারণে বঙ্গবন্ধুকে বর্বরতমভাবে হত্যা করার পর তারা শ্বেতপত্র প্রকাশ করার চেষ্টা করল। তন্ন তন্ন করে ৩২ নম্বরের বাড়িটা খুঁজল। কিন্তু তারা কিছুই পায়নি। কিচ্ছু পায়নি। বিদেশ থেকেও দামি দামি উপহার এসেছিল। সেগুলোও সরকারি তোষাখানায় জমা দেওয়া হয়। ”
শেখ কামালের বিয়ে নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে একটি মিথ্যে রটনার জবাবে ফরাসউদ্দিন বলেন, সুলতানা কামালের বাবা দবির উদ্দিন আহমেদ সাহেব ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ার। দস্তুরমত আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সুলতানা কামাল এবং শেখ কামালের বিয়ে হয়। শেখ জামালের স্ত্রী ছিলেন সৈয়দ হোসেন সাহেবের মেয়ে। জামালের ফুফাতো বোন। তাদের দুজনের বিয়েও একেবারে পারিবারিকভাবে পাকা হয়। জামাল এবং কামালের বিয়েটা ৭৫ এর প্রথম দিকে অর্থ্যাৎ মার্চের মধ্যে হয়েছে। পঁচাত্তরের ওই সময়টাই একটু আনন্দের।
তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধুর পরিবারের প্রতিটি আনুষ্ঠানিকতার সাথে আমি যুক্ত ছিলাম। নিজে সব প্রত্যক্ষ করেছি। জামাল যাকে বিয়ে করেছিলো, সৈয়দ হোসেন সাহেবের মেয়ে। সে একবার লেকের পানিতে পড়ে গিয়েছিলো। আমি তাকে তুলে এনেছিলাম। আমার মাঝে মাঝে মনে হয় সেদিনই মরে গেলে বোধহয় ভালো ছিল । এমন নির্মমভাবে আর্মিদের গুলিতে মরার চেয়েতো ভালো হত!”
শেখ কামালের বিরুদ্ধে ব্যাংক ডাকাতির অপপ্রচার সম্পর্কে ফরাসউদ্দিন বলেন, “এটা খুব ইন্টারেস্টিং। শেখ কামাল তখন ইয়ং ম্যান। একটা আদর্শ আছে। স্বাধীনতা সংগ্রামে পার্টিসিপেট করেছেন। অ্যাবসুলেটলি নো রিলেশনশিপ (অব কামাল) উইথ এনি ব্যাংক ডাকাতি। ”
তিনি বলেন, দেশে তখন একটা প্রতিকুল অবস্থা বিরাজ করছে। সন্ত্রাস দমন করার চেষ্টা চলছে। জাসদের কিছু হঠকারিতা কাজ করছিল। কিছু হলেই সর্বহারাদের উপদ্রব। স্বভাবতই সে (শেখ কামাল) একটা মাইক্রোবাস নিয়ে তাঁর কিছু বন্ধুবান্ধব নিয়ে ব্যাংক পাড়ায় টহল দিচ্ছিলেন। একটা পুলিশের গাড়িও টহল দিচ্ছিল। তারা ভাবছে যে এরা বোধহয় সশস্ত্র। এরা বোধ হয় ডাকাতি করতে বের হয়েছে। এভাবে এক গাড়ি আরেক গাড়িকে চেজ করছে। পুলিশ হয়তো মনে করেছে যে এরা ইনসার্জেন্ট।
ফরাসউদ্দিন জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরীর ‘এক জেনারেলের নিরব সাক্ষ্য’ বইয়ের বরাত দিয়ে বলেন, জেনারেল মঈনুল হোসেন কখনই আওয়ামী লীগার ছিলেন না। সোজা সিরাতুল মোস্তাকিম সেনা। বিএনপিও না। আওয়ামী লীগ ও না। ইফ এনিথিং রিটেন মে বি এন্টি আওয়ামী লীগ। তিনি আমার ক্লাসমেট। আমি তাকে জানি। খুব কাছে থেকে দেখেছি। ৫৪ থেকে তাকে জানি। কামালের বিষয়টি একদম পরিষ্কারভাবে তিনি লিখেছেন যে, “এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। ”
আমিও জানি। আমরা কয়েকজন লোক জানি। জেনারেল মঈন লিখেছেন। আরো যারা প্রত্যক্ষভাবে দেখেছেন তারা কেন জানি না মুখ খোলেন না। আমি বলছি, কারণ আমার প্রত্যক্ষ নলেজ আছে। - বাসস।



সাতদিনের সেরা