kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ জুলাই ২০১৯। ৪ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৫ জিলকদ ১৪৪০

\'পানি সংকট মোকাবেলায় বৃষ্টির পানি হতে পারে যথার্থ বিকল্প\'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ জুন, ২০১৪ ২১:২৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



\'পানি সংকট মোকাবেলায় বৃষ্টির পানি হতে পারে যথার্থ বিকল্প\'

পানি সংকট মোকাবেলায় বৃষ্টির পানি হতে পারে যথার্থ বিকল্প। আজ দ্বিতীয় রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং সম্মেলনে দেশের পানি বিশেষজ্ঞরা এ মতামত দেন। রাজধানীর স্পেক্ট্রা কনভেনশন সেন্টারে ওয়াটার এইড বাংলাদেশ, সিএসই-ইন্ডিয়া, রেইন ফোরাম ও আইটিএন-বুয়েট যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করে।
এতে পানি বিশেষজ্ঞরা আরো বলেন, শহরাঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বিপজ্জনক হারে নিচে নেমে যাচ্ছে। ফলে সুপেয় পানির চরম সংকট ক্রমেই আরো বেশি দেখা দেবে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা রাখতে বৃষ্টির পানি বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে পানির সমস্যা সমাধানে জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত পদ্ধতিতে পানির ব্যবস্থাপনা খুবই জরুরি।
সেমিনারে পানি বিশেষজ্ঞগণ ভুগর্ভস্থ পানি ব্যবহারের সর্বোত্তম বিকল্প হিসেবে ভবিষ্যত ব্যবহার জন্য বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
সেমিনারে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর মো. ফিরোজ আহমেদ সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
প্রবন্ধে তিনি বলেন, বৃষ্টির পানি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে তা থেকেই সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। বাংলাদেশে বছরে সুপেয় পানির চাহিদা ১৬০ বিলিয়ন কিউবিক মিটার, যেখানে বাৎসরিক গড় বৃষ্টিপাতের হার ২০০ থেকে ২৫০ বিলিয়ন কিউবিক মিটার।
ভূগর্ভস্থ পানির আর্সেনিক দূষণের মত সমস্যাগুলোও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে দূর করা যেতে পারে বলে সম্মেলনে অভিমত ব্যক্ত করা হয়।
সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ওয়াটারএইড বাংলাদেশের দেশীয় প্রতিনিধি ড. মো. খায়রুল ইসলাম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রির্সাচ ইনস্টিটিউটের পরিচালক মোহাম্মদ আবু সাদেক, ইনস্টিটিউটের অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশের (আইএবি) প্রেসিডেন্ট স্থপতি আবু সাইদ এম আহম্মেদ।
ড. খায়রুল ইসলাম বলেন, আমাদের মনে রাখা দরকার ২০২১ সাল পানির সংকট উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে, এই সমস্যা সমাধানের আমাদের সমন্বিত জাতীয় সক্ষমতা প্রয়োজন।
ইন্সিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশের (আইএবি) প্রেসিডেন্ট স্থপতি আবু সাইদ এম আহম্মেদ বলেন, আমরা আবার আগের মত প্রাকৃতিক পর্যায়ে ফিরে যেতে পারব না, কিন্তু এখন আমাদের পানির যে উত্স আছে তা রক্ষা করতে যথাযথ আইন বাস্তবায়ন করতে হবে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রির্সাচ ইন্সিটিটের পরিচালক মোহাম্মদ আবু সাদেক এই সমস্যা সম্পর্কে জানতে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গবেষণার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।
তিনি বলেন, 'বাইরে থেকে কেউ এসে আমাদের দেশের বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পারবে না। টেকসই সমাধানের জন্য আমাদের পরিবেশের সাথে মানানসই পানি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি খুঁজে বের করতে হবে"।
এবারের সম্মেলনে বৃষ্টির পানির বহুবিধ ব্যবহার, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় সামাজিক ও কারিগরি বিষয়ে মোট আটটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয় ।
সম্মেলনে জাতীয় বিল্ডিং কোডে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের বিষয় যুক্ত করা এবং এ ব্যবস্থাটি বাধ্যতামূলক করে আইন করার প্রস্তাব করা হয়। নীতি-নির্ধারক, প্রকেৌশলী, স্থপতি, নগর বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

মন্তব্য