kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি থেকে বাঁচতে তামাকমুক্ত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র জরুরি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩০ মার্চ, ২০১৯ ১৯:১৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি থেকে বাঁচতে তামাকমুক্ত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র জরুরি

বিশ্বে হৃদরোগ, ক্যান্সার, বক্ষব্যাধি এবং অন্যান্য অনেক প্রতিরোধযোগ্য রোগ এবং মৃত্যুর অন্যতম কারণ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, তামাক সেবনের ফলে প্রতি বছর বিশ্বে ৭০ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৮ সালে বাংলাদেশে তামাকজনিত রোগে মৃত্যুবরণ করেছে প্রায় এক লাখ ২৬ হাজার মানুষ।

তামাকজাত দ্রব্যের মধ্যে মধ্যে সিগারেট, বিড়ির মতো ধোঁয়াযুক্ত পণ্যগুলো শুধু সেবনকারীর স্বাস্থ্যেরই মারাত্মক ক্ষতি করে না, বরং আশেপাশের মানুষেরও সমান ক্ষতি করে। সিগারেটের ধোঁয়ায় সাত হাজারেরও বেশি ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ থাকে। যার প্রভাবে অধূমপায়ীরাও মারাত্মক রোগসমূহে আক্রান্ত হয়ে থাকে। 

পরোক্ষ ধূমপানের ফলে ফুসফুসের ক্যান্সার, হৃদরোগ, শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা, স্ট্রোক ও প্রজনন সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিন্তু গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস) ২০১৭-এ দেখা যায়, হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও প্রায় ১৩ ভাগ মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়। তার মানে দাঁড়াচ্ছে, এসব স্থানেও লোকে বিনা বাধায় ধূমপানের সুযোগ পাচ্ছে। অথচ, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০১৫ অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র পাবলিক প্লেসের অন্তর্ভুক্ত, যা শতভাগ তামাকমুক্ত হতে হবে। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখেছি পরিস্থিতি পুরোই ভিন্ন।

গত শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগরের শিশু হাসপাতালে গিয়ে খুবই ভয়াবহ পরিস্থিতি চোখে পড়ল। হাসপাতালের মূল ফটকের কোথাও ‘হাসপাতাল এলাকায় ধূমপান নিষেধ’ এমন কোনো সতর্কবার্তা চোখে পড়েনি। আর হাসপাতাল কম্পাউন্ডের ভিতরে ‘ধূমপান নিষেধ’ লেখা থাকলেও সেখানে বসেই অবাধে ধূমপান করছিল অনেকে। আধা ঘণ্টায় সেখানে অন্তত ১০ জনকে ধূমপান করতে দেখা গেছে। সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হলো, হাসপাতালের ভিতরেই ফেরি করে সিগারেট বিক্রি হচ্ছিল। কিন্তু নিরাপত্তারক্ষীরা ধূমপায়ীদের তো বাধা দেয়ইনি, বিক্রেতাকেও নিষেধ করেনি! অথচ, আইন অনুসারে পাবলিক প্লেসে ধূমপান করলে তিনশ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। আর সেই স্থানটি ধূমপানমুক্ত রাখতে না পারলে কর্তৃপক্ষের পাঁচশ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। কিন্তু এর কোনোটাই বাস্তবে মানতে দেখা যায় না।

এক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সচেতন হওয়া জরুরি। কারণ, প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক রোগী এবং দর্শনার্থী হাসপাতালে আসেন। এছাড়া সেখানে চিকিৎসক, সেবিকা, টেকনিশিয়ানসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রয়েছেন। স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে তামাক ব্যবহারের হার কমাতে এবং রোগী ও অন্যান্যদের পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচাতে হাসপাতালগুলো তামাকমুক্ত রাখা জরুরি। হাসপাতালগুলো শতভাগ তামাকমুক্ত হলে সেখানে কর্মরত চিকিৎসক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং আগত রোগী, দর্শনার্থী ও অন্যান্যদের মধ্যে তামাক থেকে বিরত থাকার প্রবণতা বাড়বে। 

লেখক: মাহামুদ সেতু, মিডিয়া ম্যানেজার, অ্যান্টি টোব্যাকো প্রোগ্রাম, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ। 

মন্তব্য