kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

'আমাদের বন্ধু জেমসকে বাঁচান'

বাঁধন   

১৭ মার্চ, ২০১৯ ১৪:৪৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



'আমাদের বন্ধু জেমসকে বাঁচান'

আমার বন্ধু জেমস। ছোটবেলা থেকেই বেশ বিজ্ঞানমুখী ছিলো। ডায়োড কি, ট্রানজিস্টার কিভাবে কাজ করে, ওর কাছ থেকেই শিখেছিলাম। ও একবার বললো, চল সাঁতার কাটা রোবট বানাই। আমি বললাম তাতে কি হবে? ও বললো জানিনা। কদিন পর বললো, বানিয়েছিলাম, মাঝ পুকুরে গিয়ে ব্যাটারী শেষ হয়ে ডুবে গেছে। একবার বলে উঠলো একটা ক্যামেরা যদি বেলুনের সাথে উড়িয়ে দিয়ে নিচে কি দেখা যায় সেটা টিভিতে দেখতে পেতাম! তখনো ড্রোন আসেনি।

জেমস কথায় কথায় একদিন বললো বজ্রপাত থেকে বিদ্যুত ধরে রাখলে কেমন হয়? ধর বজ্রপাত হলো আর আমরা একটা বড় ব্যাটারী চার্জ করে নিলাম। ওর অদ্ভুত টাইপের কথা শুনে হাসতাম, আবার চিন্তিত হয়ে ভাবলাম তাও কি সম্ভব? ও বলতো প্রায়ই মাথায় কেমন যেন একটা ব্যাথা করে।

কিভাবে কিভাবে জেমস জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগীতায় যশোর অঞ্চল থেকে দ্বিতীয় হয়ে গেলো। তার বিজ্ঞান প্রজেক্ট দিয়েই। ফসলী জমিতে সার দেয়া ঠিক আছে না আরো দিতে হবে এটা মাপার একটা কি যেন সিস্টেম বের করে।

তারপর যেটা হলো, ওর বাড়িতে হামলা করে ওর আবিস্কার ছিনিয়ে নেয়া হলো। আমাদের পত্রিকায় আসলো "ক্ষুদে বিজ্ঞানীকে মারধোর করে গবেষণাগারে লুটপাট"। জেমস আমাকে বললো ওরা খুব মেরেছিলো। আর বলে গিয়েছে এরপর কোন আবিস্কার করলে ওরা নিয়ে যাবে। গোপনে নজর রাখছে। ও বললো মাথায় ব্যাথা করছে। আমি আর এগুলি করবো না।

ছোটবেলায় বেশ দুরন্ত ছিলাম। বাড়ি থেকে পালিয়ে চলে যেতাম এদিক সেদিক। রাতে গিয়ে থাকতাম বন্ধু জেমসের বাড়ি। আম্মু রিক্সা নিয়ে গিয়ে খুঁজে বের করতো ওর বাড়ি থেকে। জানতো, যেখানেই যাই না কেন, রাতে ওর বাড়িতেই যাবো। আমার থাকার একমাত্র সম্বল, একমাত্র শেষ আশ্রয়।

জেমসের বাবা স্কুলের হেডমাস্টার। ইন্ডিয়াতে নিয়ে গেলেন মাথায় ব্যাথা করে কেন দেখাতে। ডাক্তার বললো মাথায় রক্তনালীতে সমস্যা আছে, চিকিতসা করতে অনেক খরচ হবে। আংকেল ছেলেকে ফেরত নিয়ে আসলেন। স্কুলের হেডমাস্টারের এত বড় চিকিতসা করাবার সামর্থ্য থাকে না। উনি কাউকে বললেন না।

অনেক বছর পার হয়ে গেছে। জেমস সেদিন হঠাৎ-ই ইনবক্সে নক দিয়ে বললো দেখতো AVM রোগটার চিকিৎসা কি? আমি হাসতে হাসতে বললাম এটা কি এইডস এর মত কিছু? বন্ধু উত্তর দেয় না। সার্চ দিয়ে দেখলাম বেশ গলাভারী নাম Arteriovenous Malformations।

মানুষের মাথায় যে রক্তনালী থাকে, সেটার একটা বড়, মোটা রক্তনালীর জায়গায় যখন অনেকগুলি ছোট ছোট নালী তৈরী হয়, তখন সেটাকে আসলে এই অদ্ভুত রোগের নামে ডাকা হয়। ছোট ছোট অনেকগুলি ভেইন একটা জালের মত ছড়িয়ে আছে, আমি তার রিপোর্টে দেখি। দেখি আর ভাবি একটা কোনভাবে বার্স্ট হইলেই সাথে সাথে শেষ।

ডাক্তার বলেছেন যত দ্রুত অপারেশন করা যায় তত ভালো। নইলে যেকোন সময় এই ভেইন বার্স্ট করতে পারে। হতে পারে সাথে সাথে মারা যাবে, হতে পারে কোমায় চলে যাবে, হতে পারে শরীরের একটা অংশ আর কাজ করবে না। জিজ্ঞাসা করলাম, বললো ডাক্তার বলেছেন যেকোন মুহূর্তে কিছু একটা হয়ে যেতে পারে।

বাংলাদেশের ডাক্তার বলেছেন বাংলাদেশে এই সার্জারি করতে পারেন, এরকম কাউকে ভরসা করা যাচ্ছে না। বাইরে নিতে হবে। ইন্ডিয়া সিঙ্গাপুর জার্মানি, অনেক জায়গায় মেইল চালাচালি করে জানলাম এই অপারেশনের খরচ অনেক। বললাম খরচ কিভাবে চালাবি? বন্ধু হাসতে হাসতে বললো একটা কিডনি বেচে দেব, হবেনা? আমি বললাম কিডনি আজকাল বেশ স্বস্তা। জেমস বললো সাথে একটা চোখ? আমি উত্তর দেইনা। সেও চুপ হয়ে যায়।

আমরা স্কুলের বন্ধুরা আছি ১২০ জনের মতো। সবাই আলোচনা করে ঠিক করলাম এই চিকিতসার খরচ আমরা তুলবো। লাগবে প্রায় ২৫-৩০ লক্ষ টাকার মতো। আমরা অল্প কিছু তুলতে পেরেছি, এখনো অনেক টাকা লাগবে। তাই আপনাদের কাছে হাত পাতছি। আমার শেষ আশ্রয়কে, আমার বন্ধুটাকে বাঁচান, আমাদের বন্ধুটাকে বাঁচান।


সাহায্য পাঠাবার ঠিকানা-

জেমস এর নিজের একাউন্টঃ

Md. Abdullah Al Faruque
A/c: 251.157.000.0090
Dutch bangla bank, Chuadanga

ওর বড় বোনের একাউন্টঃ

Mst. Nasrin Sultana
A/C 066-3209-000011049
Branch:Chuadanga
United commercial Bank ltd ( UCBL)

রকেটঃ 017229301772

বিকাশঃ 
01710225466
01723833508
01912825336

জেমস সম্পর্কে জানার জন্য ফেসবুকে খোলা হয়েছে ইভেন্ট জেমস-এর জন্য আমরা 

মন্তব্য