kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

একটি ঐতিহ্য সংরক্ষণের আহবান

শুভরাজ   

২৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৪:২৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একটি ঐতিহ্য সংরক্ষণের আহবান

Dodge 1917 মডেলের এই গাড়ীটি আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্যের শত বছরের সাক্ষী হয়ে আমার দাদার জমিদার বাড়ীতে বসে ক্ষয় প্রাপ্ত হচ্ছে।

আমার প্রো-পিতামহ ব্যারিস্টার খবির উদ্দীন আহমেদ (১৮৭০-১৯৩৯) তার ব্যক্তিগত এই গাড়ীটি ব্যবহার করতেন। তিনিই অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুসলমান ব্যারিস্টার ছিলেন। তিনি ১৯১৯ থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত আমৃত্যু নির্বাচিত Member of Legislative Assembly (MLA) এবং তদানীন্তন অবিভক্ত ভারতবর্ষের পরপর তিনবার রেলমন্ত্রী ছিলেন।

তিনি কোলকাতা হাই কোর্ট ও দিল্লি ফেডারাল কোর্টে দীর্ঘ কাল আইন চর্চা করেছেন। শের-এ-বাংলা এ.কে. ফজলুল হক তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ট জুনিয়র সহযোগী হিসেবে কোলকাতা হাই কোর্টে প্র্যাকটিস করেছেন। ব্যারিস্টার কে. আহমেদ এর ঐকান্তিক উৎসাহ ও আর্থিক সহযোগীতায় শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক তৎকালীন বাকেরগঞ্জ থেকে MLA নির্বাচিত হন এবং ব্যারিস্টার কে আহমেদ যখন রেল মন্ত্রী, তখন বাংলার শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য তিনি জোরালো লবিং করে জনাব, ফজলুল হককে শিক্ষা মন্ত্রী বানাতে সফল হন। অবিভক্ত বাংলাসহ সমগ্র ভারতবর্ষের তথা সারা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় রেলপথ উন্নয়ন ও সংস্কার করে আধুনিক করার পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য ব্রিটিশ সরকারের সাথে আমৃত্যু অক্লান্ত সংগ্রাম করে গেছেন। ১৯৩৯ সালে রেলমন্ত্রী থাকাকালীন এই মহান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব দিল্লীতে নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন এবং দিল্লীতেই তাঁকে সমাহিত করা হয়।

বিভিন্ন সুত্রমতে এবং বয়ঃজৈষ্ঠ্যদের কাছে শুনেছি, আমার প্রো-পিতামহ মারা যাবার পর তৎকালীন বৃটিশ সরকার তাঁর সম্মানে দিল্লীর একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার নামকরন করেন ব্যারিস্টার কে আহমেদ স্ট্রীট।

আমার পূর্ববর্তী অগ্রজ প্রজন্মের অবহেলার জন্য ব্যারিস্টার দাদার তেমন কিছুই সংগ্রহ রাখতে পারিনি। তবে, আমার বাবার ব্যক্তিগত চেষ্টায় তাঁর ব্যবহৃত গাড়ীটির ভগ্নাংশ, কিছু ছবি এবং তাঁর ব্যবহৃত নাম ফলক ঐতিহাসিক সাক্ষীর স্মৃতিচিহ্ন হিসাবে সংগ্রহে রাখার চেষ্টা করেছেন। আমরা চতুর্থ/পঞ্চম প্রজন্মের প্রতিনিধি এসে বাবা ও আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি ব্যারিস্টার দাদাসহ অন্যান্য পূর্ব পুরুষদের বিভিন্ন তথ্য উৎঘাটনের।

ব্যারিস্টার কে আহমেদ এর জন্মস্থান বাংলাদেশের চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রামে। আমি পঞ্চম প্রজন্মের প্রতিনিধি হয়ে গর্বিত এবং সেই সাথে জোর দাবি জানাচ্ছি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি যেন শিবগঞ্জ থেকে কানসাট হয়ে সোনা মসজিদ স্থল বন্দরের মহাসড়কের নাম যেন ব্যারিস্টার কে আহমেদ মহাসড়ক নামকরণ করা হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমার এই দাবিটি জাতীয়ভাবে ভেবে দেখার জন্য আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী স্থানীয় (চাঁপাই নবাবগঞ্জ ১,২ ও ৩) সকল প্রার্থীদের অনুরোধ জানাচ্ছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে ব্যক্তিগতভাবে দৃষ্টিগোচরে আনার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।

মন্তব্য