kalerkantho


সবাই নির্বিঘ্নে পালন করুক উৎসব : তসলিমা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ অক্টোবর, ২০১৮ ২০:৩৯



সবাই নির্বিঘ্নে পালন করুক উৎসব : তসলিমা

শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গপূজা। আজ চলছে মহা সপ্তমী। দেশে অব্যাহতভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠদের সাম্প্রদায়িক আক্রমণ চলছেই। এর মাঝেও দেশের মোট ৩১ হাজার ২৭২ টি মণ্ডপে দুর্গা দেবীর আরাধনা করছেন ভক্তরা। এই উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে আছে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। পাঁচদিন ব্যাপী এই উৎসব সুন্দরভাবে শেষ করতে সতর্কাবস্থানে আছে সরকার।

এত সংখ্যক মন্দিরে পূজা উদযাপনের বিষয়টি দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যের কথা বলছে। বিষয়টি নজর কেড়েছে প্রখ্যাত নারীবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিনের। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি লিখেছেন, 'বাহ! বাংলাদেশে মোট ৩১,২৭২ দূর্গা পুজোর মণ্ডপ হয়েছে, ২৩৪টি ঢাকায়। আমি কোনো ধর্মে-টর্মে বিশ্বাস করি না। কিন্তু যে ধর্মীয় সম্প্রদায়কে দেশ থেকে নিশ্চিহ্ন করার প্রক্রিয়া চলছে, দুদিন পর পরই বাড়ি ঘর পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, জমি-জমা দখল করে নেওয়া হচ্ছে, ভয় দেখিয়ে গ্রাম থেকে শহর থেকে এমন কী দেশ থেকেও তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তারা যদি নিজের উৎসবটা নির্ভয়ে উদযাপন করতে পারে, ভালো তো লাগেই।'

তিনি আরও লিখেছেন, 'পাকিস্তানে যখন ক্রিশ্চানরা বা হিন্দুরা ধর্মীয় উৎসব করে, ভালো লাগে। ভারতে মুসলমানরা সংখ্যালঘু হলেও, যতটা শুনেছি, ধর্ম পালনে অসুবিধা হয় না। আশা করি ভবিষ্যতেও হবে না। ধর্ম নিতান্তই কাল্পনিক গল্প-গাঁথাকে বিশ্বাস করার আরেক নাম। অন্যের সমস্যা না করে তারা যদি তাদের বিশ্বাস থেকে আনন্দ উৎসব করে, তাহলে করুক। সংখ্যালঘু পার্সিরা উৎসব করুক, ক্রিশ্চানরা করুক, বৌদ্ধরা করুক, বাহাইরা করুক, শিয়ারা করুক, ইহুদিরা করুক। এই উপমহাদেশ হয়ে উঠুক বিচিত্র সব কল্পনাবিলাসী মানুষের নিরাপদ ভূমি।'

সবশেষে লেখিকা লিখেছেন, 'আর যারা আমার মতো ধর্মে টর্মে বিশ্বাস করে না, তাদেরও যেন ঠাঁই হয় এই পূণ্যভূমিতে।'



মন্তব্য