kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ধারাবাহিক তাফসির

আল্লাহ প্রতিশ্রুতি পূরণ করেন

অনলাইন ডেস্ক   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১১:০৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আল্লাহ প্রতিশ্রুতি পূরণ করেন

মহান আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর আমি তাদের প্রতি আমার প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করি, আমি তাদের ও যাদের ইচ্ছা রক্ষা করি এবং জালিমদের ধ্বংস করি। ’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত : ৯)

তাফসির : উল্লিখিত আয়াতে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি পূরণের কথা বলা হয়েছে। যারা নবী-রাসুলদের অবাধ্যতা করেছে তিনি তাদের আজাব দিয়ে বিনাশ করেন এবং যারা তাদের অনুসরণ করেছে তাদের আজাব থেকে রক্ষা করেন। তার কৃত প্রতিশ্রুতি কখনো লঙ্ঘন হয় না।

বিজ্ঞাপন

এর মাধ্যমে কঠিন মুহূর্তে রাসুল (সা.)-কে সুসংবাদ শোনানো হয় যে মহান আল্লাহ সর্বদা অঙ্গীকার পালন করেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তা মহান আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি, আল্লাহ তার প্রতিশ্রুতি ব্যতিক্রম করেন না, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না। ’ (সুরা রুম, আয়াত : ৬)

অতীতের নবী-রাসুলদের মাধ্যমে মহান আল্লাহ অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নবী-রাসুলদের অনুসরণকারীদের জন্য পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি যেমন রয়েছে তেমনি অবাধ্যদের জন্য রয়েছে শাস্তির প্রতিশ্রুতি। ইরশাদ হয়েছে, ‘মুমিন নারী ও পুরুষের মধ্যে যে কেউ ভালো কাজ করবে, নিশ্চয়ই আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং তাদেরকে তাদের কাজের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার দেব। ’ (সুরা নাহল, আয়াত : ৯৭)

দুনিয়া ও আখিরাতে সাফল্যের প্রধান শর্ত হলো, আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা আল্লাহ ও তার রাসুলের আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে এবং তার অবাধ্যতা থেকে সতর্ক থাকে তারাই সফলকাম। ’ (সুরা নুর, আয়াত : ৫২)

মহান আল্লাহ মুমিনদের দুনিয়া ও আখিরাতে রক্ষা করেন। তিনি নবী-রাসুল ও মুমিনদের কঠিন মুহূর্তে সুরক্ষা দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘পরিশেষে আমি আমার নবী-রাসুল ও মুমিনদের উদ্ধার করি, এভাবে আমার দায়িত্ব মুমিনদের উদ্ধার করা। ’ (সুরা ইউনুস, আয়াত : ১০৩)

আরো ইরশাদ হয়েছে, ‘অতঃপর আমি রক্ষা করি যারা ঈমান এনেছে এবং যারা তাকওয়া অবলম্বন করত। ’ (সুরা হামিম সিজদা, আয়াত : ১৮)

ঈমানদারদের জন্য মহান আল্লাহ পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব ও দ্বিন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও ভালো কাজ করে আল্লাহ তাদের প্রতিশ্রুতি দিতেছেন যে তিনি অবশ্যই তাদের পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব দেবেন যেমন তিনি তাদের পূর্ববর্তীতের প্রতিনিধিত্ব দিয়েছেন এবং অবশ্যই তাদের জন্য দ্বিনকে প্রতিষ্ঠিত করবেন, যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়ভীতির বদলে অবশ্যই নিরাপত্তা দেব। ’ (সুরা নুর, আয়াত : ৫৫)

মুমিনদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বিজয়ের প্রতিশ্রুতি এসেছে। তিনি বলেন, ‘আমার প্রেরিত বান্দাদের সম্পর্কে আমার এই বাক্য স্থির হয়েছে যে অবশ্যই তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। এবং আমার বাহিনীই বিজয়ী হবে। ’ (সুরা সাফফাত, আয়াত : ১৭১-১৭৩)

অনেক সময় আল্লাহর প্রতিশ্রুতি বিলম্বে বাস্তবায়িত হয়। এ ক্ষেত্রে মুমিনদের কর্তব্য হলো, ধৈর্য ধারণ করা ও অপেক্ষা করা। পার্থিব জীবনে এর বাস্তবায়ন না হলেও আখিরাতে তা সুনিশ্চিত। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমি আমার রাসুল ও মুমিনদের সাহায্য করব পার্থিব জীবনে এবং সেই দিন, যেদিন সাক্ষীরা দাঁড়িয়ে থাকবে। যেদিন জালিমদের কোনো ওজর-আপত্তি কাজে আসবে না, তাদের জন্য রয়েছে লানত, তাদের জন্য আছে নিকৃষ্ট আবাস। ’ (সুরা মুমিন, আয়াত : ৫২)

গ্রন্থনায় মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ



সাতদিনের সেরা