kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০২২ । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

৮ মাসে ৩৬৪ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

শিক্ষার্থীদের হতাশা দূর করা নিয়ে যা ভাবছেন ইসলামী শিক্ষাবিদরা

আতাউর রহমান খসরু   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৫:৫৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শিক্ষার্থীদের হতাশা দূর করা নিয়ে যা ভাবছেন ইসলামী শিক্ষাবিদরা

চিলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে দেশে ৩৬৪ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে বলে জানিয়েছে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশন। এর মধ্যে স্কুলগামী কোমলমতি শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ স্তরের শিক্ষার্থীরাও আছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৯৪ জন স্কুল শিক্ষার্থী এবং সর্বনিম্ন ৪৪ জন মাদরাসা শিক্ষার্থী রয়েছে। গড়ে প্রতি মাসে ৪৫.৫ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে।

বিজ্ঞাপন

আঁচল ফাউন্ডেশনের দাবি, তারা ১৫০টি স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদ মাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে।

শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার এই উচ্চহার দেশের শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের চিন্তিত করছে। তারা বলছেন, শিশু, কিশোর, তরুণ ও যুবকদের এই আত্মহত্যা সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতি তাদের হতাশারই সাক্ষ্য দেয়। শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা কেন জাতি হিসেবে আমাদের বেশি চিন্তিত করে তা জানতে চেয়েছিলাম খুলনা আলিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা আ খ ম যাকারিয়ার কাছে। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরাই তো আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তারাই সমাজ ও রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেবে। সুতরাং তাদের আত্মহত্যা সমাজকে বেশি চিন্তিত করে এবং ভাবিয়ে তোলে। ’

তবে উদ্বেগজনক এই পরিস্থিতির জন্য কাউকে এককভাবে দায়ী মনে করেন না জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক। তিনি বলেন, জরিপে অনেকগুলো কারণ উঠে এসেছে, যা এককভাবে কারো ওপর চাপানো যায় না। তবে শিক্ষক হিসেবে আমি নিজে একটি দায় অনুভব করছি। শিক্ষক, অভিভাবক, সামাজিক ব্যবস্থাসহ অনেকেরই এখানে দায় আছে। কোনো সন্দেহ নেই, নানা ধরনের হতাশা, নৈরাশ্য ও অসংযমই শিক্ষার্থীদের আত্মহননের পথে ঠেলে দিচ্ছে। কিন্তু তরুণদের কি হতাশ হওয়ার সুযোগ আছে? বিশেষত যখন তার ধর্মবিশ্বাস হয় ইসলাম?

ড. তাজাম্মুল হক বলেন, ‘ইসলামে অনিশ্চয়তা ও হতাশা বলতে কিছু নেই। ইসলাম তরুণদের আল্লাহভীরু হতে এবং সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর নির্ভর করতে শেখায়। হয়তো সাময়িক কোনো কষ্ট, বিপদ কিংবা বাধা চলার পথকে রুদ্ধ করে। সময় ও সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে দুঃসাধ্য সাধন করাই হচ্ছে তারুণ্যের ধর্ম, তারুণ্যের গুণ হচ্ছে স্বপ্ন দেখা, বারবার স্বপ্ন তৈরি করা। ’

তিনি আরো বলেন, ‘তরুণ ও যুবকদের জন্য ইসলামের বহুবিদ সুসংবাদ আছে। কেননা শৈশব ও বার্ধক্যে মানুষ পরনির্ভর থাকে। শৈশবে চিন্তার অপূর্ণতা আর বার্ধক্যকে চিন্তাশক্তির বিলোপ ঘটে। একমাত্র যৌবনই চিন্তার সুস্থতা ও পূর্ণতার স্বরূপ ও দর্পণ। পরিপূর্ণ জীবন ও প্রাণের জন্য ইসলামের সব সুসংবাদ। ’

শিক্ষার্থীদের আত্মহননের পথ থেকে ফিরিয়ে আনার উপায় কী? অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা আ খ ম যাকারিয়া মনে করেন, ইসলামের মহান শিক্ষা তাদের আত্মসংযম শেখাতে পারে এবং জীবনের প্রতি আশাবাদী করে তুলতে পারে। যেমন তাদের বোঝাতে হবে যে আমাদের দেহ, প্রাণ ও জীবন আল্লাহর সম্পদ। আল্লাহ তা আমাদের আমানত হিসেবে দিয়েছেন। আত্মহত্যা সেই আমানতকে ধ্বংস করারই নামান্তর। আর আত্মহত্যার পর তাওবার সুযোগ থাকে না, তাই আত্মহত্যা মহাপাপ। তাদের আমরা আরো শেখাতে পারি যে জীবনে যে সংকটগুলো আমরা সমাধানের অযোগ্য মনে করছি, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা এবং আল্লাহর কাছে তার পরিপূর্ণ সমাধান আছে। সুতরাং আত্মহত্যার অর্থ হলো আল্লাহর প্রতিই অনাস্থা প্রকাশ করা।

তাজাম্মুল হক মনে করেন এই ক্ষেত্রে সবারই দায়িত্বশীল হওয়ার প্রয়োজন আছে। অভিভাবক, পরিবার, সহপাঠী, বন্ধুমহল, সমাজ, রাষ্ট্র সবারই সচেতন হওয়ার প্রয়োজন আছে। তবে শিক্ষক হিসেবে আমি নিজেদেরটা বলতে চাই। আত্মহত্যার পেছনে যে কারণগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের দায়-দায়িত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেগুলো দূর করতে সচেষ্ট হতে হবে। যেমন সেশন জট, পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া, সময়মতো চাকরি না পাওয়া ইত্যাদি।

তার মতে আধুনিক কারিকুলামভিত্তিক ও আউটকাম বেস এডুকেশন (OBE) শিক্ষা পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের জন্য এ জাতীয় সমস্যার সমাধানে সহায়ক হতে পারে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সার্বিকভাবে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিস্থিতি ও প্রতিবেশ নিশ্চিত করাও প্রয়োজন। এ ছাড়া আত্মহত্যার কারণগুলো নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণা হতে পারে।



সাতদিনের সেরা