kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০২২ । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

মক্কার ঐতিহাসিক পাহাড়ে বর্ণিল সাজে কোরআনের প্রথম আয়াত

অনলাইন ডেস্ক   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৫:২৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মক্কার ঐতিহাসিক পাহাড়ে বর্ণিল সাজে কোরআনের প্রথম আয়াত

মক্কার ঐতিহাসিক নুর পাহাড়ে লেজার লাইটে পবিত্র কোরআনের প্রথম আয়াত প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়। ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীর ঐতিহাসিক জাবালে নুর পাহাড়ে লেজার লাইটে পবিত্র কোরআনের প্রথম আয়াত প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পবিত্র মসজিদুল হারাম থেকে চার কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত এ পাহাড়ের গারে হেরায় মহানবী মুহাম্মদ (স.)-এর ওপর পবিত্র কোরআনের মধ্যে সর্বপ্রথম এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। আয়াতটি হলো- ‘(হে নবী) আপনি আপনার রবের নামে পড়ুন, যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন। ’ (সুরা ইকরা, আয়াত : ১) 

সৌদি সংবাদ মাধ্যম আরব নিউজ সূত্রে জানা যায়, মুসলিমদের কাছে জাবালে নুরের ঐতিহাসিক মূল্য রয়েছে এবং তা মক্কার গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনার অন্যতম বলে জানান  মক্কার ইতিহাস কেন্দ্রের পরিচালক ড. ফাওয়াজ দাহাস।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘ইতিহাসে তা হেরা পর্বত নামে পরিচিত হলেও পরবর্তীতে এর নাম জাবালে নুর বা আলোর পর্বত করা হয়। কারণ এখানেই পবিত্র কোরআনের প্রথম আয়াত নাজিল হয়েছিল যার মাধ্যমে পুরো পৃথিবী আলোকিত হয়েছিল। ’ 

ড. ফাওয়াজ আরো বলেন, মহানবী মুহাম্মদ (সা.) এই পর্বতে জীবনের শুরুতে একাধারে কয়েক দিন অবস্থান করতেন। সেই সময়ের বহুশ্বরবাদ বিশ্বাসকে প্রত্যাখ্যান করে তিনি এখানে অবস্থান করতেন এবং মহান রবের মহত্ত্ব অনুধাবনের চেষ্টা করতেন। তাই বিশ্বের অন্যান্য শহরগুলোর মধ্যে মক্কার অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো, শহরটি যেন একটি উন্মুক্ত জাদুঘর। এখানকার প্রতিটি পর্বত, উপত্যকা ও প্রস্তরখণ্ডের রয়েছে স্বতন্ত্র ইতিহাস যার সঙ্গে মিশে আছে মহানবী (সা.) ও তাঁর সাহাবিদের গল্প।  

জাবালে নুরের বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল-আজহারি বলেন, জাবালে নুরের ওপর স্থাপিত লেজার লাইটে প্রজ্জ্বলিত পবিত্র কোরআনের প্রথম আয়াতটি দর্শনার্থীদের মধ্যে ভিন্ন ধরনের অনুভূতি তৈরি করেছে। তা দেখে দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয় আধ্যাত্মিক আবহ, ভক্তি ও শ্রদ্ধা।

দর্শনার্থীদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতাকে আরো সমৃদ্ধ করতে ইসলামের ঐতিহাসিক স্থানগুলো আরো আকর্ষণীয় করাই সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ এর অন্যতম লক্ষ্য। প্রাক-ইসলামী যুগ থেকে বর্তমান সময় উপস্থাপনের মাধ্যমে মহানবীর ইতিহাসকে দর্শনার্থীদের কাছে পরিচিত করাই সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোর অন্যতম উদ্দেশ্য। এখানে সাংস্কৃতিক ও পর্যটন স্পট ছাড়াও থাকবে রিভিলেশন গ্যালারি ও হলি কোরআন মিউজিয়াম।  

এরই অংশ হিসেবে সাময়া ইনভেস্টমেন্ট কম্পানির মাধ্যমে মক্কায় মিউজিয়াম অব রিভেলেশন ও মিউজিয়াম অব মাইগ্রেশন দুটি সাংস্কৃতিক প্রকল্প গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া মক্কার রয়েল কমিশন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে ৬৭ হাজার বর্গমিটারের চেয়েও বড় স্থানজুড়ে হিরা সাংস্কৃতিক জেলা প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে।

জাবালের নুরের বাসিন্দা মুহাম্মদ আল-হুসাইনি বলেন, ‘সাংস্কৃতিক প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়ক ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা স্থাপনাগুলো সুসংগঠিত হবে। আমরা পুরো প্রকল্পের সমাপ্তির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। তা আধ্যাত্মিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটাবে। ’ 

সূত্র : আরব নিউজ



সাতদিনের সেরা