kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

জীবনে পরিশুদ্ধ অন্তরের প্রভাব

নুর মোহাম্মদ   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১২:০৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জীবনে পরিশুদ্ধ অন্তরের প্রভাব

মানুষ অপরাধী হয়ে জন্মায় না। তবে প্রত্যেকের মধ্যে কম বেশি অপরাধপ্রবণতা সুপ্ত অবস্থায় বিদ্যমান থাকে। পবিত্র কোরআনের ভাষায়, ‘নিশ্চয়ই মানুষের মন মন্দ কর্মপ্রবণ। ’ (সুরা ইউসুফ, আয়াত : ৫৩)

কারো চরিত্রে এ প্রবণতা সক্রিয় হয়ে অপরাধরূপে প্রকাশ পায়, আবার কারো ক্ষেত্রে সুপ্ত অবস্থা থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

আর যেকোনো অপরাধের নেপথ্যে রয়েছে অন্তরের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ সম্মতি।

প্রকৃতিগতভাবে মানুষের ভালো-মন্দ প্রবৃত্তি সমভাবে বিদ্যমান। মহান আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর তিনি তাকে তার অসৎকর্ম ও সৎকর্মের জ্ঞান দান করেছেন। ’ (সুরা আশ শামস, আয়াত : ৮)

এতদুভয়ের মধ্যে কুপ্রবৃত্তি যখন প্রভাবশালী হয়, তখন ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় পার্থক্য করার অনুভূতি অকার্যকর হয়ে পড়ে; মানুষ লিপ্ত হয় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। মানুষ যখন আল্লাহ প্রদত্ত বুদ্ধি-বিবেককে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করতে ব্যর্থ হয়, তখনই শুরু হয় তার চারিত্রিক অধঃপতন। আর এ পরিণতির কারণ হলো কুপ্রবৃত্তিকে প্রশ্রয় দেওয়া। কুপ্রবৃত্তির প্রাবল্য যেমন অপরাধের জন্য দায়ী, অনুরূপভাবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কুপ্রবৃত্তি প্রভাবশালী হওয়ার জন্য সহায়ক। মহান আল্লাহ বলেন, ‘কখনো নয়; বরং তাদের কৃতকর্মই তাদের হৃদয়ে মরিচা ধরিয়েছে। ’ (সুরা মুতাফফিফিন, আয়াত : ১৪)

আর অন্তর কলুষিত হলে তা অনুভূতিহীন হয়ে পড়ে। কুপ্রবৃত্তির আধিপত্যের কারণে মানুষ যখন মনুষ্যত্ব হারিয়ে ফেলে, তখন সে পাশবিক যেকোনো আচরণে কুণ্ঠাবোধ করে না। চরিত্রের এমন অধঃপতন থেকে উত্তরণের উপায় হলো অন্তরকে পরিশুদ্ধ করা। কারণ অন্তর পরিশুদ্ধ হলে ব্যক্তির প্রতিটি কর্ম হয় সুন্দর ও সুচারু। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই শরীরে মাংসের একটি টুকরা আছে, যা ঠিক হলে পুরো শরীর ঠিক হয়ে যায়। আর যা নষ্ট হলে পুরো শরীরই নষ্ট হয়ে পড়ে। জেনে রেখো! সে টুকরাটি হলো কালব তথা অন্তর। ’ (বুখারি, হাদিস : ৫২)

এ জন্য যুগে যুগে প্রেরিত নবী-রাসুলদের অন্যতম দায়িত্ব ছিল, উম্মতকে পরিশুদ্ধ করা। তাঁরা অপরাধপ্রবণ মানুষকে দ্বিনের আলোকে পরিশুদ্ধ করে সবচেয়ে সভ্য মানুষে পরিণত করেছেন। পরিশুদ্ধকরণের এ প্রশিক্ষণ এতটা কার্যকর ছিল যে রাসুল (সা.)-এর যুগে ভুলে কেউ কোনো অপরাধে জড়িয়ে পড়লে দণ্ডের ভয়াবহতা জেনেও রাসুল (সা.)-এর কাছে এসে স্বীকারোক্তি দিতেন এবং শাস্তির আবেদন জানাতেন, যেন নিজেকে পরিশুদ্ধ করার পাশাপাশি অপরাধের অভিযোগ মাথায় নিয়ে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হতে না হয়।

আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিহার করবে, তারাই সফল। মহান আল্লাহ বলেন, ‘সে-ই সফলকাম হবে, যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করবে। আর সে-ই ব্যর্থ হবে, যে নিজেকে কলুষিত করবে। ’ (সুরা শামস, আয়াত : ১০, ১১)

পরকালেও পরিশুদ্ধ আত্মার অধিকারীরা সফল হবেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘সেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না; সেদিন উপকৃত হবে শুধু সে, যে বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে আল্লাহর কাছে আসবে। ’ (সুরা শুআরা, আয়াত : ৮৮, ৮৯)

আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার জন্য প্রয়োজন আল্লাহ প্রদত্ত সরল-সঠিক পথে চলা এবং সদা আল্লাহকে ভয় করা। একটি পরিশুদ্ধ আত্মা গঠন করতে পারলে ঠিকানা হবে জান্নাত। ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি নিজের রবের সামনে দাঁড়ানোকে ভয় করে এবং অন্তরকে কুপ্রবণতা থেকে নিবৃত্ত রাখে, তার ঠিকানা হলো জান্নাত। ’ (সুরা নাজিআত, আয়াত : ৪০, ৪১)

অতএব বলা যায়, অপরাধমুক্ত জীবন গঠনের লক্ষ্যে কুপ্রবৃত্তি পরিহার করে আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ, বিএএফ শাহীন কলেজ, চট্টগ্রাম



সাতদিনের সেরা