kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ধারাবাহিক তাফসির

মানুষকেই কেন নবী-রাসুল করা হলো?

অনলাইন ডেস্ক   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০৯:৪৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মানুষকেই কেন নবী-রাসুল করা হলো?

মহান আল্লাহ বলেন, ‘তাদের (কাফির) অন্তর থাকে অমনোযোগী এবং যারা জালিম তারা গোপনে শলাপরামর্শ করে (বলে), সে তো তোমাদের মতোই একজন মানুষ, তোমরা কি দেখে-শুনে তার জাদুর কবলে পড়বে? (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ৩)

তাফসির : উল্লিখিত আয়াতে মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কাফিরদের বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। তারা পবিত্র কোরআনের কোনো আয়াত মনোযোগ দিয়ে শুনত না এবং শুনলেও তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণাও করত না। এরপর তারা একে অপরের সঙ্গে কানাঘুষা শুরু করত এবং ফিসফিস করে আলাপ করত। অথচ মহান আল্লাহ তাদের অন্তর ও মুখের সব কথা সম্পর্কে অবগত।

বিজ্ঞাপন

ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনি (নবীজি) বলেন, আকাশ ও পৃথিবীর সব কথা সম্পর্কে আমার রব অবগত এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। ’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ৪)

তাদের বিশ্বাস ছিল মুহাম্মদ (সা.) আমাদের মতোই সাধারণ মানুষ। তাই সে নবী হওয়ার দাবি করতে পারে না। তাদের ধারণা, শুধু ফেরেশতাই নবী হতে পারেন। তাদের সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা বলে, এ কেমন রাসুল যে আহার করে এবং হাটবাজারে চলাফেরা করে, তার কাছে কোনো ফেরেশতা কেন অবতীর্ণ হলো না যে তার সঙ্গে সতর্ককারী হিসেবে থাকত?’ (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ৭)

মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে ঠিক কোন অপবাদ জুড়ে দিলে মানুষ তাঁর কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে কাফিররা তা নির্ধারণে দিশাহারা ছিল। একপর্যায়ে তারা কোরআনকে জাদু এবং নবীজিকে জাদুকর বলে আখ্যায়িত করে (নাউজুবিল্লাহ)। এরপর মানুষকে প্রশ্ন করে বলে, জাদু দেখার পরও কি তারা তাঁর কাছে যাবে? মূলত এ ধরনের কথা অতীতেও নবী-রাসুলদের বলা হয়েছিল। ইরশাদ হয়েছে, ‘এইভাবে তাদের পূর্ববর্তীদের কাছে যখন কোনো রাসুল এসেছে তারা তাকে বলেছে, তুমি তো জাদুকর বা উন্মাদ। ’ (সুরা : জারিয়াত, আয়াত : ৫২)

আদিমানব আদম (আ.) থেকে শুরু করে যুগে যুগে মহান আল্লাহ অসংখ্য নবী-রাসুলকে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। মানবসমাজকে সৃষ্টিকর্তার পথ প্রদর্শনের জন্য প্রেরিত নবী-রাসুলরা মানুষ ছিলেন। যেমন—ইরশাদ হয়েছে, ‘(হে নবী) আপনি বলুন, আমি তো তোমাদের মতোই একজন মানুষ, আমার কাছে ওহি এসেছে যে তোমাদের উপাস্য কেবলমাত্র একজন। ’ (সুরা : কাহফ, আয়াত : ১১০)।

মূলত আল্লাহ মানবজাতির সুপথপ্রাপ্তির জন্য মানুষের মধ্য থেকে নবী-রাসুল পাঠিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ মুমিনদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন যে তিনি তাদের মাঝে তাদের মধ্য থেকে রাসুল পাঠিয়েছেন, যিনি তার আয়াত তাদের কাছে পাঠ করেন, তাদের পরিশোধন করেন এবং কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন, যদিও তারা আগে বিভ্রান্তির মধ্যে ছিল। ’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৬৪)

তা ছাড়া ফেরেশতাদের নবী হিসেবে পাঠানোর দাবি করা অযৌক্তিক। কেননা ঔদ্ধত্যপূর্ণ মনোভাবের কারণে তাদের প্রতি অবিশ্বাসীদের অনেকেই ঈমান আনত না। ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন তাদের (মানুষ) কাছে পথনির্দেশ আসে, তখন তাদেরকে কেবল ঈমান আনা থেকে বিরত রাখে তাদের এই কথা যে ‘আল্লাহ কি মানুষকে রাসুল হিসেবে পাঠিয়েছে? বলুন, যদি ফেরেশতারা নিশ্চিন্ত হয়ে পৃথিবীতে বিচরণ করত তাহলে আমি অবশ্যই আকাশ থেকে ফেরেশতাদের রাসুল হিসেবে পাঠাতাম। ’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৯৪-৯৫)

নবী-রাসুলরা মানুষ হওয়ায় সবার পক্ষে তাঁদের সঙ্গে মেলামেশা করা সহজ ছিল। কিন্তু কাফিরদের কাছে এ যেন মহাবিস্ময়কর বিষয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি তাদেরকে (নবীদের) এমন দেহবিশিষ্ট করিনি যে তারা খাবার গ্রহণ করবে না এবং তারা চিরস্থায়ীও নয়। ’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ৮)।

আমাদের সবাইকে মহান আল্লাহ তাঁর নির্দেশনামতে চলার তাওফিক দিন।

গ্রন্থনা : মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ



সাতদিনের সেরা