kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

আত্মশুদ্ধি কেন প্রয়োজন

মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.)   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৬:০৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আত্মশুদ্ধি কেন প্রয়োজন

মানুষ শুধু তার দৈহিক অবয়বের নাম নয়; বরং মানুষের মূল উপাদান হলো তার অভ্যন্তর। যাকে কলব (অন্তর) ও রুহ (আত্মা) বলা হয়। সহিহ বুখারির হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, মানুষের বাহ্যিক আমল শুদ্ধ বা অশুদ্ধ হওয়াটা নির্ভর করে তার অভ্যন্তরীণ অবস্থার সুস্থতা ও অসুস্থতার ওপর। মানবদেহ যেমন সুস্থ থাকে এবং অসুস্থ হয় এবং শরীর সুস্থ রাখার জন্য খাদ্য, বাতাস ইত্যাদি উপকরণের প্রয়োজন, অসুস্থ হলে ওষুধ ও চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, তেমনি মানুষের ভেতরাংশকে সুস্থ রাখতে কিছু উপায় ও উপকরণ অবলম্বন করতে হয়, তা হলো নিজের মহান স্রষ্টা ও প্রতিপালককে চেনা, তাঁর স্মরণ ও কৃতজ্ঞতার মধ্যে থাকা এবং সর্বদা তাঁর নির্দেশ ও বিধান মান্য করে চলা।

বিজ্ঞাপন

মানুষের অভ্যন্তরাংশের অসুস্থতা হলো আল্লাহর স্মরণ ও ইবাদত থেকে বিমুখ থাকা ও তাঁর নির্দেশ-নির্দেশনার বিপরীত কাজ করা। মানবাত্মার অসুস্থতা সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তাদের অন্তরে আছে ব্যধি। সুতরাং আল্লাহ তাদের ব্যধি আরো বৃদ্ধি করেছেন। ’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১০)

আত্মার সুস্থতা ও অসুস্থতা : আত্মার ব্যধি হলো, কুফর, শিরক, মুনাফিকি, হিংসা, বিদ্বেষ, অহংকার, গর্ব, লোভ, কৃপণতা, ক্ষমতার মোহ, সম্পদের মোহ, আত্মমুগ্ধতা ইত্যাদি। সুস্থতা হলো, স্বীয় প্রতিপালক আল্লাহকে চেনা, সব লাভ ও ক্ষতি, সুখ ও দুঃখের মালিক হিসেবে আল্লাহকে মেনে নেওয়া, তাঁর দেওয়া অনুগ্রহগুলোর কৃতজ্ঞতা আদায় করা, বিপদ-আপদে ধৈর্যধারণ করা। আর সব বিষয়ে আল্লাহর ওপর আস্থা রাখা, তার দয়া-অনুগ্রহের প্রত্যাশা করা, তাঁর জবাবদিহি ও শাস্তিকে ভয় করা, সন্তুষ্টি অর্জনে সচেষ্ট হওয়া, আন্তরিকতা ও ইখলাসের সঙ্গে তাঁর সব নির্দেশ মান্য করা।

কোরআনই প্রধান আরোগ্য : সকল প্রকার আধ্যাত্মিক রোগ থেকে আরোগ্য লাভের প্রধান অবলম্বন পবিত্র কোরআন। আল্লাহ বলেন, ‘আমি কোরআনে এমন বিষয় অবতীর্ণ করেছি, যা মুমিনদের জন্য সুচিকিৎসা ও অনুগ্রহস্বরূপ। ’ (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৮২)

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘বলুন, কোরআন মুমিনদের জন্য সুপথ ও আরোগ্যস্বরূপ। ’ (সুরা হা-মিম-সাজদা, আয়াত : ৪৪)

শারীরিক রোগ ও আত্মার রোগের পার্থক্য : শারীরিক রোগ ও আধ্যাত্মিক রোগের আরেকটি বড় পার্থক্য হলো, শরীরের রোগ চোখে দেখা যায় এবং অন্যান্য ইন্দ্র দ্বারা অনুভব করা যায়। বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা যায়। বাহ্যিক রোগের চিকিৎসাও হয় বাহ্যিক উপায়-উপকরণের মাধ্যমে। অন্যদিকে আধ্যাত্মিক রোগ চোখেও দেখা যায় না, শিরা ইত্যাদির স্পন্দন দ্বারা তা বোঝা যায় না। একইভাবে রোগের চিকিৎসাও বাহ্যিক ওষুধ-পথ্যের মাধ্যমে হয় না। আধ্যাত্মিক ব্যধির চিকিৎসা শুধু কোরআন ও হাদিসের নিয়মেই হতে পারে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে মানুষের বাহ্যিক আমল, আচার-আচরণ ও অভ্যন্তরীণ বিশ্বাস ও চরিত্রাবলি সব কিছু সংশোধনের পূর্ণ নিয়মাবলি বিদ্যমান আছে।

আরোগ্য লাভের পথ ও পদ্ধতি : উম্মতের মধ্যে সাহাবায়ে কেরাম (রা.) ও তাবেঈন থেকে বর্তমান যুগের বুজুর্গ পর্যন্ত, যিনি যা অর্জন করেছেন তা শুধু কোরআন ও সুন্নাহর নিয়ম অনুসরণ করেই অর্জন করেছেন। তবে এ বুজুর্গরা যেমন নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত ইত্যাদি আমলের প্রতি যত্নবান ছিলেন, তেমনি সত্যপথে চলা, ইখলাস বা নিষ্ঠার সঙ্গে আমল করা, বিনয়, ধৈর্য, শোকর, আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস, দুনিয়াবিমুখতা ইত্যাদির প্রতিও অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন। তাঁরা যেমন মিথ্যা, প্রতারণা, চুরি, অশালীন চলাফেরা ইত্যাদি গুনাহকে ভয় করতেন এবং তা থেকে বেঁচে থাকতেন, তদ্রুপ অহংকার ও গর্ব, অপরকে অপমান ও হেয় করা, ক্ষমতা ও সম্পদের মোহ, লোভ, কৃপণতা ইত্যাদি আধ্যাত্মিক রোগ ও গুনাহকেও হারাম মনে করতেন এবং তা থেকে বেঁচে থাকার সর্বাত্মক চেষ্টা করতেন।

‘দিল কি দুনিয়া’ থেকে

মো. আবদুল মজিদ মোল্লার ভাষান্তর

 



সাতদিনের সেরা