kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ অক্টোবর ২০২২ । ২১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

কারো মেহমান হিসেবে কত দিন থাকা যাবে?

মুফতি মাহমুদ হাসান   

১ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১০:২৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কারো মেহমান হিসেবে কত দিন থাকা যাবে?

মেহমান হয়ে অন্যের ঘরে যাওয়ার আগে কিছু করণীয় রয়েছে। সেখানে এমন কাজ করা অনুচিত, যা মেজবানের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়ে। নিম্নে এমন কিছু বিষয় কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে বর্ণনা করা হলো -

১. মেজবানকে আগে জানানো বা পূর্বানুমতি নেওয়া, যেন মেজবান হঠাৎ বিব্রত না হয় এবং অসময়ে মেহমান হয়ে মেজবানের কষ্টের কারণ না হয়।

২. সালামের মাধ্যমে অনুমতি নিয়ে ঘরে প্রবেশ করা।

বিজ্ঞাপন

পবিত্র কোরআনে কারো বাসায় প্রবেশের আগে সালামের মাধ্যমে অনুমতি গ্রহণের নির্দেশ রয়েছে। (দেখুন—সুরা : আহজাব, আয়াত : ৫৩)

৩. বিনা অনুমতিতে সঙ্গে অতিরিক্ত লোক না আনা। তদ্রূপ দাওয়াতের সংখ্যার বেশি আগমন করে মেজবানকে বিব্রত না করা। একদা এক সাহাবির দাওয়াতে নবীজি (সা.)-এর সঙ্গে জনৈক ব্যক্তি চলে আসার কারণে নবীজি (সা.) মেজবানের কাছে আগে অনুমতি নিয়ে তাকে প্রবেশ করালেন। (বুখারি, হাদিস : ৫৪৬১)

৪. মেজবানের আয়োজিত স্থানে সন্তুষ্টচিত্তে অবস্থান করা। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ৫/৩৪৪)

৫. আপ্যায়নের দোষ-ত্রুটি না ধরা; বরং সম্ভব হলে কোনো আয়োজনের প্রশংসা করা। নবীজি (সা.) কোনো খাদ্য অপছন্দ হলে কম গ্রহণ করতেন; কিন্তু কোনো মন্তব্য করতেন না। (দেখুন—বুখারি, হাদিস : ৩৫৬৩)

৬. নিজ থেকে কোনো কিছু না চাওয়া। কেননা এতে মেজবান বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। হ্যাঁ, কারো সঙ্গে অকৃত্রিম সম্পর্ক হলে চাইতে পারে। (ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া : ৮/১৫৪)

৭. মেজবানের ঘরবাসীর জন্য রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের দোয়া করা। একদা নবীজি (সা.) সাদ ইবনে উবাদাহ (রা.)-এর ঘরে গেলে তিনি রুটি ও চর্বি দ্বারা আপ্যায়ন করালে নবীজি (সা.) ঘরবাসীর জন্য এ দোয়া করলেন : ‘নেককাররা তোমাদের ঘরে খাবার গ্রহণ করুন, ফেরেশতারা তোমাদের জন্য মাগফিরাতের দোয়া করুন এবং রোজাদাররা তোমাদের ঘরে ইফতার করুন। ’ (মুসনাদে আহমাদ : হাদিস : ১২৪০৬)

নবীজি (সা.) থেকে এ দোয়াও বর্ণিত হয়েছে : ‘হে আল্লাহ, তাদের রিজিকে বরকত দিন! তাদের ক্ষমা করুন এবং রহম করুন। ’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৭২৯)

অন্যত্র এ দোয়াও বর্ণিত হয়েছে—‘হে আল্লাহ, যে আমাকে খাওয়াল তুমিও তাকে খাওয়াও, যে আমাকে পান করাল তুমিও তাকে পান করাও। ’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২৩৮০৯)

৮. মেহমানের সামনে উপস্থিতকৃত খানাপিনার কিছু অংশ রেখে দেওয়া, যাতে মেহমান এ কথা ভেবে লজ্জিত না হয় যে মেহমান হয়তো বা পরিতৃপ্ত হয়নি। (মালফুজাতে হাকিমুল উম্মত : ১২/২০৩)

৯. আপ্যায়ন পর্ব শেষে দ্রুত প্রস্থান করা। তদ্রূপ মেহমান এত সময় অবস্থান করবে না যা মেজবানের জন্য কষ্টের কারণ হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘খাবার শেষ হলে প্রস্থান করো এবং কথাবার্তায় লিপ্ত হয়ো না। ’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৫৩)

হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন : ‘কোনো ব্যক্তির জন্য বৈধ নয় যে সে তার ভাইয়ের কাছে অবস্থান করে তাকে পাপে নিপতিত করবে। সাহাবিরা বলেন, হে আল্লাহর রাসুল, কিভাবে সে তাকে পাপে নিপতিত করবে? তিনি বলেন, সে তার কাছে (এমন বেশিদিন) থাকল, অথচ মেজবানের এমন সামর্থ্য নেই যা দ্বারা সে মেহমানদারি করবে। ’ (মুসলিম, হাদিস : ৪৮)

১০. মেজবানের অনুমতি ছাড়া তার ঘর ত্যাগ করবে না। ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেন, ‘কারো ঘরে গেলে তার অনুমতি ছাড়া তার ঘর ত্যাগ করবে না। কেননা যতক্ষণ তুমি তার ঘরে আছ সে তোমার দায়িত্বশীল আমির। ’ [কিতাবুল আসার, আবু হানিফা (রহ.) (আবু ইউসুফ-এর বর্ণনায়) : হাদিস : ৪১৩]



সাতদিনের সেরা