kalerkantho

বুধবার । ১৭ আগস্ট ২০২২ । ২ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৮ মহররম ১৪৪৪

বর্ণাঢ্য আয়োজনে আয়া সোফিয়ায় হাফেজদের সম্মাননা

অনলাইন ডেস্ক   

১৮ মে, ২০২২ ১৬:৩৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বর্ণাঢ্য আয়োজনে আয়া সোফিয়ায় হাফেজদের সম্মাননা

ইস্তাম্বুলের বিখ্যাত আয়া সোফিয়া গ্র্যান্ড মসজিদে আবার হাফেজদের সম্মাননা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত সোমবার (১৬ মে) পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করায় ৩৮ শিক্ষার্থীকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। স্থানীয় ইমাম, শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের অভিভাবক, পর্যটকসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন বর্ণাঢ্য এ আয়োজনে।  

পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় সম্মাননা অনুষ্ঠানটি।

বিজ্ঞাপন

উদ্বোধনী বক্তব্যে ইমাম হাতিপ সেকেন্ডারি স্কুলের প্রিন্সিপাল বেরাম কেফেলি বলেন, ‘পবিত্র কোরআন হিফজ প্রকল্পের আওতায় আমাদের শিক্ষার্থীরা হাফেজ হয়েছেন। পাশাপাশি তারা নিজেদের অ্যাকাডেমিক পড়াশোনাও অব্যাহত রেখেছেন। সবাইকে জানাই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। ’ হিফজ সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদ বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠান পর্ব শেষ হয়েছে।  

গত সপ্তাহে দুই ধাপে তুরস্কের দুই প্রদেশে হিফজ শেষ করা শিক্ষার্থীদের সম্মাননা দেওয়া হয়। দেশটির সিরনাক প্রদেশে দুই শত শিক্ষার্থী ও কিরিক্কাল অঞ্চলে ৩২ শিক্ষার্থী কোরআন হিফজ সম্পন্ন করায় এ সম্মাননা দেওয়া হয়।  

গত বছরের ২৯ মে আয়া সোফিয়া গ্র্যান্ড মসজিদে প্রথম বারের মতো হাফেজদের সম্মাননা অনুষ্ঠান হয়। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ তাতে অংশ নেন। সেই সময় ১৩৬ হাফেজকে সম্মননা দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের নাতি উমর তায়্যিব ও সংসদীয় প্রধান মুস্তফা শানতুবের ছেলে উমর আসেম শানতুব ছিলেন।

আলজাজিরা নেটের তথ্য মতে ২০০২ সালে তুরস্কে ১৬৭৭টি কোরআন হেফজের মাদরাসা ছিল। দুই দশক পর তা বৃদ্ধি পেয়ে ১৮ হাজার ৬৭৫-এ দাঁড়িয়েছে। তুরস্কের ধর্ম বিভাগের তথ্য মতে, প্রতিবছর এসব মাদরাসায় ১৫ হাজারের বেশি হাফেজ কোরআন পাঠ সম্পন্ন করেন।  

তুরস্কে গত দুই দশকে মেয়েদের কোরআন শেখাতে অনেক মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। গত ২০ বছর ধরে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় নারীদের হিফজ মাদরাসা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ‘আদর্শ ও নিষ্ঠাবান প্রজন্ম’ তৈরির বাসনা থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।  ইসলাম শিক্ষার প্রসার করে আদর্শ নাগরিক গড়ে তুলতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়।

উল্লেখ্য, তুরস্কের হাফেজের সংখ্যা বৃদ্ধি ও সবাইকে কোরআন পাঠে যোগ্য করে তুলতে নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির ধর্ম বিষয়ক অধিদপ্তর। এজন্য স্কুলগুলোতে ব্যাপকভাবে কোরআন বিষয়ক বিভিন্ন আয়োজন করা হয়। তাছাড়া ইমাম হাতিপ স্কুলে বিশেষভাবে এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। তুরস্কের কোরআনের প্রতি অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।  

এর আগে তুরস্কের ধর্মবিষয়ক অধিদপ্তরের শিক্ষাসেবা বিভাগের প্রধান কাদির দিনতাশ জানান, ২০২১ সালে তুরস্কের ১১ হাজার ৭৭৩ শিক্ষার্থী পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করে সনদ গ্রহণের উপযুক্ত হয়েছেন।  

সূত্র : টিআর নিউজ এজেন্সি 



সাতদিনের সেরা