kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

আন্তর্জাতিক অঙ্গণে আরবি ভাষার অপরিহার্যতা

ড. আবু সালেহ মুহাম্মদ তোহা   

১৮ ডিসেম্বর, ২০২১ ১৬:৩৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আন্তর্জাতিক অঙ্গণে আরবি ভাষার অপরিহার্যতা

প্রতি বছর ১৮ ডিসেম্বর বিশ্ব আরবি ভাষা দিবস পালিত হয়। ছবি - সংগৃহীত

আরবি পৃথিবীর প্রায় ৪০০ মিলিয়নের বেশি মানুষের প্রধান ভাষা। এছাড়াও ২৪টি দেশের রাষ্ট্রভাষা, জাতিসংঘের অন্যতম একটি দাপ্তরিক ভাষা এবং ইসলাম ধর্মীয় ভাষা হিসেবে পৃথিবীর সব মুসলমানের প্রাণের ভাষা। আরব জনগোষ্ঠী এবং বিশ্বের সব মুসলমান তাদের দৈনন্দিন জীবনে এ ভাষা ব্যবহার করে থাকেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার দাপ্তরিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের পাশাপাশি ট্রেড ল্যাংগুয়েজ হিসেবে এ ভাষা পৃথিবীর সব দেশের পণ্যের মোড়কে স্থান পায়।

বিজ্ঞাপন

ধর্মীয় মর্যাদার পাশাপাশি এ ভাষার রয়েছে বিস্তৃত সাহিত্যসম্ভার এবং আর্থ-সামাজিক গুরুত্ব।

আরবি ভাষার ধর্মীয় গুরুত্ব : পৃথিবীতে নানাবিধ ভাষা রয়েছে। সব ভাষাই মহান আল্লাহর দান। তিনিই মানুষকে কথা বলা শিখিয়েছেন। ভাষা ও বর্ণের ভিন্নতা তাঁর অন্যতম নিদর্শন। যে কোন ভাষায় তাঁর কাছে প্রার্থনা করা হলে তিনি তা কবুল করেন। ভাষা কোন ধর্মের প্রতিনিধিত্ব না করলেও ধর্ম তার নির্দেশনাবলী প্রকাশ এবং উপাসনার মাধ্যম হিসেবে একটি ভাষাকে গ্রহণ করে। সেটি সে ধর্মের দাপ্তরিক ভাষা। ইসলাম ধর্মের দাপ্তরিক ভাষা আরবি। আরবি ভাষায় কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে। মহানবী (সা.) আরবি ভাষী হওয়ায় তাঁর কথা, কাজ ও সম্মতি বা হাদিস আরবি ভাষায় বর্ণিত হয়েছে। আরবি মুসলমানদের ধর্মের ভাষা। আরবি ভাষা ইসলামী জ্ঞানচর্চা ও মুসলিম সমাজ-সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। ধর্ম চর্চার জন্য আরবি ভাষা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য হিসেবে বিবেচিত।  

আরবি ভাষার মর্যাদা : মহান আল্লাহ আরবি ভাষায় ওহি অবতরণ করায় সব ভাষার মধ্যে আরবি এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী হয়েছে। কোরআনের ভাষা, হাদিসের ভাষা, ইবাদতের ভাষা, কবরের ভাষা এবং জান্নাতের ভাষা আরবি। কোরআনের ১১টি আয়াতে এ নির্দেশনা এসেছে যে, কোরআন সম্পূর্ণ আরবি ভাষায় নাজিল হয়েছে। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘আমিই আরবি ভাষায় কোরআন অবতরণ করেছি, যাতে তোমরা উপলব্ধি করতে পারো। ’ (সুরা ইউসুফ, আয়াত : ২) 

হাদিসে বলা হয়েছে- ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমরা তিন কারণে আরবদের ভালোবাসবে। যেহেতু আমি আরব, কোরআনের ভাষা আরবি এবং জান্নাতবাসীদের ভাষা আরবি। (শুয়াবুল ঈমান, হাদিস : ১৬১০)

যেসব দেশের রাষ্ট্রীয় ভাষা : আরবি ২৪টি দেশের রাষ্ট্রীয় ভাষা। ১. বাহরাইন ২. ইরাক ৩. জর্ডান ৪. কুয়েত ৫. লেবানন ৬. ওমান ৭. ফিলিস্তিন ৮. কাতার ৯. সৌদি আরব ১০. সিরিয়া ১১. সংযুক্ত আরব আমিরাত ১২. ইয়ামেন ১৩. আলজেরিয়া ১৪. শাদ ১৫. কমোরোস ১৬. জিবুতি ১৭. মিশর ১৮. লিবিয়া ১৯. ইরিত্রিয়া ২০. মৌরিতানিয়া ২১. মরক্কো ২২. সোমালিয়া ২৩. তিউনিশিয়া ২৪. সুদান।

জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা : আরবি  জাতিসংঘের একটি অন্যতম দাপ্তরিক ভাষা। জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এর দাপ্তরিক ভাষা ছিল পাঁচটি। ইংরেজি, চাইনিজ, ফরাসি, রুশ ও স্প্যানিশ। ১৯৭৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ সভার ২৮তম অধিবেশনে ৩১৯০নং সিদ্ধান্তে আরবি ভাষাকে এর দাপ্তরিক ভাষার স্বীকৃতি দেয়া হয়। এদিনকে স্মরণীয় করে রাখতে ২০১২ সালের অক্টোবরে ইউনেস্কোর নির্বাহী পরিষদের ১৯০তম অধিবেশনে ১৮ ডিসেম্বরকে বিশ্ব আরবি ভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়।  

আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে আরবি ভাষা : রেমিট্যান্স অর্জন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আরব দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক সুদৃঢ়করণে আরবি ভাষা চর্চা সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা বা রেমিট্যান্সের বড় অংশ আসে আরবি ভাষাভাষী দেশ থেকে। প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে অসংখ্য মানুষ আরবদেশগুলোতে পাড়ি জমায়। তারা আরবি ভাষায় দক্ষ হলে আরো অধিক বেতন ও নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা লাভ করতে সক্ষম হতো। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আরব দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক সুদৃঢ়করণে আধুনিক আরবি ভাষা চর্চার ব্যাপক ও সুদূর প্রসারি পরিকল্পনা গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, আরবি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।



সাতদিনের সেরা