kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বিশ্বের সবচেয়ে ছোট আকারের কোরআন যেখানে

অনলাইন ডেস্ক   

৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ১৫:৩৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিশ্বের সবচেয়ে ছোট আকারের কোরআন যেখানে

প্রাচীন দুর্লভ বস্তু ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে সমাজে। নিজস্ব প্রচেষ্টায় সংগৃহীত বিরল সামগ্রি এক সময় অনন্য মর্যাদায় নিয়ে যায় ব্যক্তিকে। তেমনই জর্দানের ইবরাহিম আহমদ নাওয়ার ঐতিহ্যবাহী নানা বস্তু সংরক্ষণ করে স্থান পেয়েছেন খবরের পাতায়।  

আনাদোলু এজেন্সির খবরে জানা যায়, আহমদ নাওয়ারের সংরক্ষণে আছে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম কোরআনের কপি।

বিজ্ঞাপন

কোরআনের সবচেয়ে ছোট কপি ছাড়াও তার কাছে আরো অনেক দুর্লভ সামগ্রিও আছে। ওমানের আল সালত নামক শহরে ‘জাতীয় ঐতিহ্য জাদুঘর’ নামে তিনি একটি স্থায়ী সংরক্ষণাগার স্থাপন করেছেন ।  

৬২ বছর বয়সী নাওয়ার জানান, ‘পবিত্র কোরআনের এ কপি দেখতে আসা বিশেষজ্ঞদের মতে এটিই সবচেয়ে ছোট আকৃতির কোরআন। এর প্রস্থ ১ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার এবং দৈর্ঘ্য ২ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার। ’ 

তিনি আরো বলেন, ‘দর্শনার্থীদের মতে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্র আকৃতির কোরআনের মুদ্রিত কপির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে ১ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার ও ২ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার। কিন্তু আমার সংরক্ষিত কপি এর চেয়েও বেশি ছোট। তাই সবাই মনে করেন যে আমার সংরক্ষিত এ কপি সবচেয়ে ছোট আকৃতির কোরআন। ’

ক্ষুদ্রাকৃতির কোরআনের কপিতে এর মুদ্রণ ইতিহাস সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই। তবে তাতে পুরো কোরআন রয়েছে। সূচীপত্রসহ এ কপির পৃষ্ঠাগুলো খুবই পাতলা ও কোমল। পাতার মধ্যে আছে নানা রকমের সাজ। তবে তা ম্যাগনিফাইং মাইক্রোস্কোপ ছাড়া পড়া বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার।  

নাওয়ার বলেন, ‘১৯৮০ সালের দিকে আল সালত এলাকার এক ব্যক্তি থেকে তা সংগ্রহ করি। ৪০ বছর আগে সেই লোকের বয়স ছিল ৭৫ বছর। তিনি ছিলেন শহরের সবচেয়ে প্রবীন ব্যক্তি। তার বাবার কাছ থেকে তিনি কোরআনের এ দুর্লভ কপি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিলেন। ’ 

তিনি আরো বলেন, ‘গত শতাব্দির ৮০ এর দশকে জাতীয় পত্র-পত্রিকায় এ নিয়ে বেশ লেখালেখি হয়েছিল। তা দেখে অনেক বিশেষজ্ঞ বলেছিলেন যে এর বয়স এক শয়ের বেশি হবে। ধারণা করা হয়, বিংশ শতাব্দির প্রথম দশকে তা মুদ্রিত হয়েছিল। ’ 

নাওয়ার জানান, কাগজের ইতিহাস সম্পর্কে অভিজ্ঞরা এ কপির উন্নত মানের পৃষ্ঠা, মজবুত বাধাই ও সুন্দর মুদ্রণ দেখে অবাক হন। এত সূক্ষ্মভাবে তা বাধাই করা কেবল ইরানি কিংবা তুর্কিদের পক্ষেই সম্ভব। তবে অনেকের বিশ্বাস যে তা তুর্কিরাই করেছেন। কারণ কোরআনের মুদ্রণ আরবি ভাষায় হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘মহান আল্লাহর কৃপায় আমি মাইক্রোস্কোপের সাহায্যে এ কপির সুরা বাকারা অংশটুকু পাঠ করেছি। অত্যন্ত ছোট্ট লিপি হওয়ায় এতে প্রায় ১০ দিন লেগেছে। এছাড়াও এক শুক্রবার এর সুরা কাহাফ অংশটুকুও পড়েছি। ’

আল সালত শহরে প্রাচীন সামগ্রি সংরক্ষণে ‘ঐতিহ্য জাদুঘর’ নিজস্ব প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠলেও তাতে দুর্লভ ও অভিনব নানা সামগ্রি সংরক্ষিত আছে। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও জাদুঘরটি ২৫ হাজারের বেশি প্রাচীন সামগ্রিতে সমৃদ্ধ। ১৯ শতাব্দির শুরুর কাল থেকে নানা বস্তু স্থান পেয়েছে এ জাদুঘরে।  

এসব দুর্লভ সামগ্রি সংরক্ষণ করতে নাওয়ারকে লাখ লাখ ডলার ব্যয় করতে হয়েছে। নিজের দৃঢ় আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে তিনি বিভিন্ন দেশ ও প্রাচীন শহরের লোকদের কাছ থেকের বিশাল অংকের অর্থের বিনিময়ে তা সংগ্রহ করেন। ফলে তার জাদুঘর জর্দানের আল সালত শহরে ঘুরতে আসা সব পর্যটকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।  

প্রচীন ইতিহাস ঐতিহ্য ঘিরে গড়ে উঠেছে জর্দানের আল সালত শহর। গত ২৭ জুন জাতিসংঘের শিক্ষা, বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটি এ শহরকে ‌‘সহনশীলতা ও ঐতিহ্য আতিথেয়তার শহর’ হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির অনুমোদন দেয়।  

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি



সাতদিনের সেরা