kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৯ ডিসেম্বর ২০২১। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

পাপমুক্ত জীবন গড়ার আমল

মাইমুনা আক্তার   

৪ নভেম্বর, ২০২১ ১১:৪৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পাপমুক্ত জীবন গড়ার আমল

আমরা কেউ-ই অপরাধ থেকে মুক্ত নই। মানুষ সৃষ্টিগতভাবে অপরাধপ্রবণ হয়। নিষ্পাপ শুধু সেই, যাকে আল্লাহ তাআলা দয়া করে পাপমুক্ত করেন। তাই নিজেকে পাপমুক্ত করতে হলে অবশ্যই মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে। কোরআন-হাদিসের নির্দেশিত পদ্ধতিতে পাপমুক্ত হওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে। নিম্নে পাপমুক্ত হওয়ার কয়েকটি আমল তুলে ধরা হলো—

আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হওয়া : মহান আল্লাহ রহমানুর রহিম। পাপমুক্ত হওয়ার প্রথম ধাপ হচ্ছে, মহান আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না। বরং মহান আল্লাহর ওপর অগাধ বিশ্বাস রেখে কৃত পাপের জন্য অনুতপ্ত হতে হবে। হাদিসে এসেছে, ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, মুশরিকদের কিছু লোক বহু হত্যা করে এবং বেশি বেশি ব্যভিচারে লিপ্ত হয়। তারপর তারা মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে এলো এবং বলল, আপনি যা বলেন এবং আপনি যেদিকে আহ্বান করেন, তা অতি উত্তম। আমাদের যদি অবগত করতেন, আমরা যা করেছি, তার কাফফারা কী? এর প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ হয় ‘এবং যারা আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোনো উপাস্যকে ডাকে না, আল্লাহ যাকে হত্যা করা নিষেধ করেছেন, তাকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর : ৪৮১০)

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘বলুন, হে আমার বান্দারা, তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ, আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা : জুমার, আয়াত : ৫৩)

অন্য হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে আমিই গুনাহ মাফ করার ক্ষমতাবান, তাকে আমি ক্ষমা করে দিই এবং যতক্ষণ সে আমার সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক না করে, ততক্ষণ (তাকে ক্ষমা করার ব্যাপারে) আমি কোনো কিছুর পরওয়া করি না।’ (জামেউস সাগির, হাদিস : ৪২০৬)

খাঁটি তাওবা করা : পাপমোচনের অন্যতম মাধ্যম হলো, খাঁটি তাওবা করা। মহান আল্লাহর কাছে কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত ভবিষ্যতে পাপে লিপ্ত না হওয়ার দৃঢ় সংকল্প করে নেক আমল করা শুরু করলে মহান আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। উপরন্তু পাপগুলোকে নেক দ্বারা পরিবর্তন করে দেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তবে যারা তাওবা করে, ঈমান আনে ও সৎকাজ করে, আল্লাহ তাদের গুনাহ পুণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ৭০)

তাওবা করার পদ্ধতি হলো, কৃত গুনাহের ওপর আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হয়ে গুনাহ আর না করার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। এর জন্য তাওবার নিয়তে দুই রাকাত নামাজ পড়াও উত্তম। অবশ্য কোনো মানুষের সঙ্গে কৃত অন্যায়ের গুনাহ তার হক আদায় না করলে মাফ হবে না। তার হক আদায় ও তার কাছে মাফ চাওয়া তাওবার পূর্বশর্ত। (তিরমিজি, হাদিস : ৪০৬, শরহুন নবভি : ১৭/৫৭, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ২/২৩৯)

সওয়াবের কাজ করে ফেলা : গুনাহকে নিশ্চিহ্ন করার একটি পদ্ধতি হলো, আল্লাহকে ভয় করা, তাঁর কাছে অনুতপ্ত হওয়া, বেশি বেশি নেক আমল করা এবং মানুষের সঙ্গে সদাচরণ করা। আবু জার (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) আমাকে বলেছেন, ‘তুমি যেখানেই থাকো আল্লাহ তাআলাকে ভয় কোরো, মন্দ কাজের পরপরই ভালো কাজ কোরো, তাতে মন্দ দূরীভূত হয়ে যাবে এবং মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ কোরো।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১৯৮৭)



সাতদিনের সেরা