kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

রোবটের সঙ্গে বিয়ে, ইসলাম যা বলে

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা   

১৬ অক্টোবর, ২০২১ ১১:৩৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রোবটের সঙ্গে বিয়ে, ইসলাম যা বলে

প্রযুক্তির উৎকর্ষে মানুষের জীবনযাত্রার অংশ হয়ে উঠছে রোবট। এটি একটি ইলেক্ট্রো-যান্ত্রিক ব্যবস্থার নাম, যার কাজকর্ম, অবয়ব ও চলাফেরা দেখে মনে হয়, এটি স্বেচ্ছায় কাজ করছে।

এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের যুগ। তাই এদের কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও আছে। প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান বিশ্বে রোবট বিভিন্ন কাজে মূলত মানুষের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশ্বের শ্রমবাজারে অশিক্ষিত-অল্পশিক্ষিত লোকদের চাহিদা দিন দিন কমে যাচ্ছে। আগে যেখানে একটি প্রতিষ্ঠান চালাতে হাজারো জনবলের দরকার হতো, এখন সেখানে কয়েকটি অটোমেটিক মেশিন ও রোবট অল্প খরচে হাজারো মানুষের সমান আউটপুট দিতে পারে।

যুগের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রোবটের ব্যবহার যেভাবে সর্বত্র বেড়ে চলেছে, অনেকের ধারণা যে খুব শিগগির মানুষ রোবটকে জীবনসঙ্গী বানানো শুরু করতে পারে। এরই মধ্যে অনেকেই রোবটকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার আশা করে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। আদৌ কি রোবটকে স্ত্রী হিসেবে পাওয়া এবং তার সঙ্গে স্ত্রীসুলভ আচরণ করা সম্ভব? গবেষকরা বলছেন, সত্যিই এমনটি ঘটতে যাচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে!

বিজ্ঞানীদের বক্তব্য, আজকাল অনেক দেশেই রোবট অনেক জনপ্রিয় হয়ে গেছে। কোনো কোনো রেস্টুরেন্টে ওয়েটার বলতে কোনো মানুষ নেই। যা আছে রোবট। তার কারণ রোবট দিয়ে অনেক কাজ করানো যায়। সব নির্দেশ তারা সঠিকভাবে পালন করে। এখন রোবট যদি মানুষের আবেগ বুঝতে পারে, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে, তাহলে সঙ্গী হিসেবে কেন রোবটকে বেছে নেওয়া যাবে না?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, যখন রোবটরা তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খুব দ্রুত ব্যবহার করতে পারবে, তখন কিছু মানুষ তাদের সঙ্গিনী হিসেবেই এই রোবটকে বেছে নেবে।

এখন প্রশ্ন হলো, রোবটকে বিয়ে করা কি ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ? এ প্রশ্নের উত্তর পবিত্র কোরআনেই আছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর আল্লাহ তোমাদের জন্য তোমাদের থেকে জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জোড়া থেকে তোমাদের জন্য পুত্র ও নাতিদের সৃষ্টি করেছেন, আর তিনি তোমাদের পবিত্র রিজিক দান করেছেন তারা কি বাতিলে বিশ্বাস করে এবং আল্লাহর নিয়ামতকে অস্বীকার করে?’  (সুরা : নাহাল, আয়াত : ৭২)

এই আয়াতে মহান আল্লাহ জীবনসঙ্গী বা সঙ্গিনীকে একটি প্রধান নিয়ামত বলে আখ্যা দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা তোমাদেরই স্বজাতি থেকে তোমাদের স্ত্রী নির্ধারণ করেছেন, যাতে পরস্পরের ভালোবাসাও পূর্ণরূপে হয় এবং মানবজাতির আভিজাত্য এবং মাহাত্ম্যও অব্যাহত থাকে। যদি অন্য প্রজাতি থেকে তা নির্ধারণ করতেন, তাহলে তাদের মধ্যে এ রকমের মিল-মহব্বত থাকত না। সুতরাং তাঁর রহমতের এক নিদর্শনস্বরূপ তিনি আদমসন্তানকে পুরুষ ও নারী এ দুই ভাগে সৃষ্টি করেছেন। আর নারীদের পুরুষদের স্ত্রী হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। (ইবনে কাসির)

তা ছাড়া বিয়ের একটি অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, হালাল পদ্ধতিতে বংশ বিস্তার করা। রাসুল (সা.) সাহাবায়ে কেরাম বেশি সন্তান প্রসবকারী নারী বিয়ে করার নির্দেশ দিয়েছেন। হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘এমন নারীকে বিয়ে করো যে প্রেমময়ী এবং অধিক সন্তান প্রসবকারী। কেননা আমি অন্যান্য উম্মতের কাছে তোমাদের সংখ্যাধিক্যের কারণে গর্ব করব।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ২০৫০)

রোবটের মাধ্যমে কৃত্রিম উপায়ে ইসলামের দৃষ্টিতে অবৈধ পন্থায় বংশ বিস্তার করা সম্ভব নয়। অতএব কোরআন-হাদিসের আলোকে বলা যায় যে বিয়ের ক্ষেত্রে জীবনসঙ্গী হিসেবে রক্তে-মাংসে গড়া মানুষকে বেছে নিতে হবে এবং সে মুসলমান হতে হবে। সুতরাং অন্য কোনো জাতির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে জায়েজ নয়। (ফাতাওয়ায়ে শামি : ৩/৫, বাদাইউস সানায়ে : ৭/৩৬)

তাই রোবটের সঙ্গেও বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে জায়েজ বলা যায় না।



সাতদিনের সেরা