kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

যে দুই কারণে মানুষ বেশি জান্নাত ও জাহান্নামে যাবে

মুহাম্মাদ হেদায়াতুল্লাহ   

১৬ অক্টোবর, ২০২১ ১১:২২ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



যে দুই কারণে মানুষ বেশি জান্নাত ও জাহান্নামে যাবে

নৈতিকতা মানুষের অভ্যন্তরীণ গুণ। মানুষের বাহ্যিক কথাবার্তা, আচার-ব্যবহার, আলাপচারিতা, লেনদেন সর্বোপরি পুরো দৈনন্দিন জীবনযাপনে নৈতিকতার প্রভাব ফুটে ওঠে। আখলাক এর আরবি প্রতিশব্দ। বিখ্যাত আরবি ভাষাবিদ আল্লামা আবদুল কাহির আল জুরজানি এর পরিচিতিতে বলেন, ‘অন্তরের প্রতিক্রিয়া যা বাহ্যিক আচার-ব্যবহারের মাধ্যমে কোনো ধরনের চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রকাশ পায়।  তার কর্ম ভালো হলে তা উত্তম চরিত্র বলে গণ্য হবে। আর কর্ম মন্দ হলে তা মন্দ চরিত্র হিসেবে গণ্য হবে। (আত তারিফাত, পৃষ্ঠা : ১০১)

নৈতিকতার মাপকাঠি : পবিত্র কোরআনের অসংখ্য আয়াতে নৈতিকতার মূল কথা বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার, সদাচরণ ও আত্মীয়দের দানের নির্দেশ দেন এবং অশ্লীলতা, অসৎ কাজ ও অবাধ্যতা থেকে নিষেধ করেছেন, তিনি তোমাদের উপদেশ দেন যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো।’ (সুরা : নাহাল, আয়াত : ৯০)

মহানবী (সা.)-এর চরিত্রের নমুনা : মহানবী (সা.) ছিলেন উত্তম চরিত্রের সব গুণাবলির আধার। তাঁর সব গুণে মুগ্ধ ছিলেন পরিচিতজনরা। সাআদ বিন হিশাম (রা.) থেকে একটি দীর্ঘ হাদিসে বর্ণিত আছে, তিনি উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করেন, হে উম্মুল মুমিনিন, আমাকে মহানবী (সা.)-এর চরিত্র সম্পর্কে কিছু বলুন। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আপনি কি পবিত্র কোরআন পাঠ করেননি? তিনি বলেন, হ্যাঁ, করেছি। আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল্লাহ (সা.)-এর চরিত্র ছিল কোরআনসদৃশ।’ (মুসলিম, হাদিস : ৭৪৬)

নৈতিকতার মাপকাঠি : পবিত্র কোরআনের অসংখ্য আয়াতে নৈতিকতার মূলকথা বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায়বিচার, সদাচারণ ও আত্মীয়দের দানের নির্দেশ দেন এবং অশ্লীলতা, অসৎ কাজ ও অবাধ্যতা থেকে নিষেধ করেছেন, তিনি তোমাদের উপদেশ দেন যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো।’ (সুরা নাহল, আয়াত : ৯০)

জান্নাত-জাহান্নামে যাওয়ার প্রধান দুই কারণ : আবু হুরাইরা (রা.) বর্ণনা করেন, মানুষকে সবচেয়ে বেশি জান্নাতে নেবে এমন কিছু সম্পর্কে রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর ভয় ও সুন্দর চরিত্র।’ অতঃপর মানুষকে যা জাহান্নামে বেশি নেবে এমন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়। তিনি বলেন, ‘মুখ ও লজ্জাস্থান।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২০০৪)

মহানবী (সা.)-এর চরিত্রের নমুনা : মহানবী (সা.) ছিলেন উত্তম চরিত্রের সব গুণাবলির আধার। তাঁর সব গুণে মুগ্ধ ছিলেন পরিচিতজনরা। সাআদ বিন হিশাম (রা.) থেকে একটি দীর্ঘ হাদিসে বর্ণিত আছে, তিনি উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করেন, হে উম্মুল মুমিনিন, আমাকে মহানবী (সা.)-এর চরিত্র সম্পর্কে কিছু বলুন। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আপনি কি পবিত্র কোরআন পাঠ করেননি? তিনি বললেন, হ্যাঁ করেছি। আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল্লাহ (সা.)-এর চরিত্র ছিল কোরআন সদৃশ।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ৭৪৬)

আর তাই মহান আল্লাহ প্রিয়নবীর সুন্দর চরিত্রের কথা বর্ণনা করে ঘোষণা দিয়েছেন, আল্লাহর অনুগ্রহে আপনি তাদের প্রতি কোমল হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন, আপনি যদি রূঢ় ও কঠোর মনের হতেন তাহলে তারা আপনার আশপাশ থেকে সরে পড়ত।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৫৯)

অজ্ঞদের এড়িয়ে চলার নির্দেশ : মহান আল্লাহ প্রিয়নবী (সা.)-কে সমাজের অজ্ঞদের অবান্তর প্রশ্ন এড়িয়ে চলতে বলেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আপনি ক্ষমা অবলম্বন করুন। সৎকাজের নির্দেশ দিন এবং অজ্ঞদের এড়িয়ে চলুন।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৯৯)

অপর আয়াতে আল্লাহ প্রিয় বান্দাদের গুণাবলি সম্পর্কে বলেন, ‘আর রহমানের বান্দা তারাই যারা ভূপৃষ্ঠে নম্রভাবে চলাফেরা করে, যখন তাদেরকে (মুমিনদেরকে) অজ্ঞরা সম্বোধন করে তখন তারা বলে সালাম অর্থাৎ শান্তি।’ (সুরা ফুরকান, আয়াত : ৬৩)

অনৈতিকতা ও পাপাচার পরিহার : মহানবী (সা.) সব ধরনে অনৈতিকতা ও পাপাচার পরিহারের নির্দেশ দিয়েছেন। আবু জর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) আমাকে বলেন, ‘তুমি যেখানেই থাক আল্লাহকে ভয় করো। মন্দ কাজ করে ফেললে এরপর ভালো কাজ করো। তাহলে মন্দের কাজের গুনাহ মুছে দেবে। মানুষের সঙ্গে সুন্দর আচরণ করো।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১৯৮৭)

আল্লাহ মানুষের কাজ দেখেন : আল্লাহর কাছে মানুষের কর্ম গ্রহণযোগ্য। মানুষের দৈহিক গঠন, অর্থ-সম্পদ কিংবা সৌন্দর্য বিবেচ্য নয়। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা তোমাদের অবয়ব দেখেন না। তোমাদের আকার-আকৃতিও দেখেন না। তবে তিনি তোমাদরে অন্তর ও কর্মগুলো দেখেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ২৫৬৪)

অন্তরের পরিশুদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ : নৈতিকতাবোধ মানুষের সফলতার চাবিকাঠি। আর সামাজিক জীব হিসেবে অন্তরের পরিশুদ্ধি জরুরি। আর তাই পবিত্র কোরআনে এ ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘সেই সফলকাম যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করবে। এবং সেই ব্যর্থ যে নিজেকে কলুষিত করবে।’ (সুরা শামস, আয়াত : ৯-১০)

অপর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘সেই সফলকাম যে অন্তর পরিশুদ্ধ করল, তার রবের নাম স্মরণ করল। অতঃপর নামাজ আদায়  করল।’ (সুরা আলা, আয়াত : ১৪-১৫) আল্লাহ তাআলাে অন্য আয়াতে বলেন, ‘মহাকালের শপথ। মানুষ অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত। কিন্তু তারা নয় যারা ঈমান আনে, ভালো কাজ করে, পরষ্পরকে সত্যের উপদেশ দেয় ও ধৈর্যের উপদেশ দেয়।’ (সুরা আসর, আয়াত : ১-৩)

মহান আল্লাহ সবাইকে নৈতিকতা অর্জনের তাওফিক দান করুন।



সাতদিনের সেরা