kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩ কার্তিক ১৪২৮। ১৯ অক্টোবর ২০২১। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

মহানবী (সা.)-এর বিনয় ও নম্রতা

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১১:৫২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মহানবী (সা.)-এর বিনয় ও নম্রতা

বিনয় মানুষের অন্যতম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। বিনয় মানুষকে উচ্চাসনে সমাসীন করে এবং গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্বে পরিণত করতে সহায়তা করে। নিম্নে বিনয় প্রকাশ করার পদ্ধতি তুলে ধরা হলো—

পরিবারের সঙ্গে বিনয় : আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) নিজ হাতে কোনো দিন কাউকে আঘাত করেননি—কোনো নারীকেও না, খাদেমকেও না। তবে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ এর ব্যতিক্রম। আর যে তাঁর অনিষ্ট করেছে তার থেকে প্রতিশোধও নেননি। তবে আল্লাহর মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়—এমন বিষয়ে তিনি প্রতিশোধ নিয়েছেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৩২৮)

খাদেমের সঙ্গে নম্রতা ও বিনয় : আনাস (রা.) বলেন, আল্লাহর শপথ, আমি ৯ বছর রাসুল (সা.)-এর সেবায় নিয়োজিত ছিলাম। কিন্তু আমার জানা নেই যে কোনো কাজ আমি করেছি, অথচ তিনি সে ব্যাপারে বলেছেন, এরূপ কেন করলে? কিংবা কোনো কাজ করিনি, ওই ব্যাপারে বলেছেন, কেন অমুক কাজটি করলে না?’ (মুসলিম, হাদিস : ২৩০৯)

শিশুদের সঙ্গে নম্রতা ও বিনয় : আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুল (সা.)-এর কাছে শিশুদের আনা হতো। তিনি তাদের জন্য বরকত ও কল্যাণের দোয়া করতেন এবং ‘তাহনিক’ (মিষ্টি জাতীয় কিছু চিবিয়ে মুখে দিতেন) করতেন। একদিন একটি শিশুকে আনা হলো, তিনি তাকে কোলে তুলে নিলেন। শিশুটি তাঁর কোলে প্রস্রাব করে দিল, পরে তিনি পানি চেয়ে নিলেন এবং প্রস্রাবের ওপর পানির ছিটা দিলেন, আর তা ধুলেন না। (মুসলিম, হাদিস : ২৮৬)

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘নবী করিম (সা.) আনসারদের বাড়িতে গমন করতেন এবং তাদের বাচ্চাদের সালাম দিতেন। আর তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন। (ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৪৫৯)

ভিক্ষুকের সঙ্গে নম্রতা : আনাস (রা.) বলেন, ‘একদা আমি রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে হাঁটছিলাম। তখন তাঁর গায়ে একটি গাঢ় পাড়যুক্ত নাজরানি চাদর ছিল। এক বেদুঈন তাঁকে পেয়ে চাদর ধরে সজোরে টান দিল। আনাস (রা.) বলেন, আমি নবী করিম (সা.)-এর কাঁধের ওপর তাকিয়ে দেখলাম যে জোরে চাদর খানা টানার কারণে তাঁর কাঁধে চাদরের পাড়ের দাগ বসে গেছে। তারপর বেদুঈন বলল, হে মুহাম্মাদ, তোমার কাছে আল্লাহর দেওয়া যে সম্পদ আছে, তা থেকে আমাকে দেওয়ার জন্য আদেশ করো। তখন নবী করিম (সা.) তার দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলেন এবং তাকে কিছু দান করার জন্য আদেশ করেন।’ (বুখারি, হাদিস : ৬০৮৮)

আদেশ-নিষেধে নম্রতা : আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘একবার এক বেদুঈন মসজিদে প্রস্রাব করে দিল। লোকেরা উঠে তার দিকে গেল। রাসুল (সা.) বলেন, তার প্রস্রাব করায় বাধা দিয়ো না। অতঃপর তিনি এক বালতি পানি আনালেন এবং তাতে ঢেলে দিলেন।’ (বুখারি, হাদিস : ৬০২৫)

ইবাদতে বিনয়-নম্রতা : ইবাদত-বন্দেগিতে বিনয়-নম্রতা একনিষ্ঠতা ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা আল্লাহর জন্য বিনম্রচিত্তে দাঁড়িয়ে যাও।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৩৮)

ইবাদতে মানুষের প্রতি নম্রতা : আনাস (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘আমি দীর্ঘ করার ইচ্ছা নিয়ে সালাত শুরু করি। কিন্তু পরে শিশুর কান্না শুনে আমার সালাত সংক্ষেপ করে ফেলি। কেননা শিশু কাঁদলে মায়ের মন যে খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে তা আমি জানি।’ (বুখারি, হাদিস : ৭০৯)



সাতদিনের সেরা