kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৫ কার্তিক ১৪২৮। ২১ অক্টোবর ২০২১। ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

আজান দেওয়ায় জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি

আব্দুল্লাহ আলমামুন আশরাফী   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১২:০৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আজান দেওয়ায় জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি

‘কে ওই শোনাল মোরে/আজানের ধ্বনি/মর্মে মর্মে সেই সুর/বাজিল কী সুমধুর/আকুল হইল প্রাণ/নাচিল ধমনী/কী মধুর আজানের ধ্বনি!...’

কবি কায়কোবাদের অমর কাব্য। যে কাব্যের ছত্রে ছত্রে পবিত্র সুর আজানের প্রতি রয়েছে সীমাহীন ভালোবাসা। যে ভালোবাসা পাঠকের হৃদয়ে একরাশ স্নিগ্ধ আবেশ ছড়িয়ে দেয় নিমেষেই।

মুমিনের হৃদয়ে আজানের ধ্বনির প্রভাব : আজান মানে ইথারে ইথারে বেজে ওঠা আল্লাহর বড়ত্বের জয়গান। আজান মুমিনের প্রাণের স্পন্দন। যে পবিত্র সুর মুমিনের জীবনজুড়ে ভালো লাগার আবেশ ছড়ায়। আজানের মনকাড়া সুরলহরী হৃদয় মাঝে স্নিগ্ধতার ঝংকার তোলে। ইথারে ইথারে যখন আল্লাহু আকবারের পবিত্র আওয়াজ ধ্বনিত হয়, মুমিনহৃদয়ে তখন আনন্দের ঢেউ খেলে যায়। আজানের ছত্রে ছত্রে রয়েছে আল্লাহর বড়ত্ব, শ্রেষ্ঠত্ব ও সার্বভৌমত্বের ঘোষণা। দিগ-দিগন্তে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ব জাহানের একচ্ছত্র মালিক রাব্বুল আলামীনের শ্রেষ্ঠত্বের জয়ধ্বনি। প্রতিদিন পাঁচবার আজানের পবিত্র ধ্বনি শুনে মুমিনের হৃদয়ে ঈমানের জোয়ার বয়ে যায়। আজান শুনে মুসলমানরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আল্লাহর কুদরতি পায়ে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে।

আজান দেওয়ায় বিশেষ মর্যাদা : ইসলামে মুয়াজ্জিন তথা আজানদাতার রয়েছে বিশেষ মর্যাদা। বিচারদিবসে (কিয়ামতের দিন) মুয়াজ্জিন বিশেষ সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত হবেন। মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘কিয়ামতের দিন মুয়াজ্জিনরাই হবে মানুষের মধ্যে সর্বোচ্চ গর্দানবিশিষ্ট। মানে একজন মুয়াজ্জিন সেদিন সর্বাধিক সম্মানিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হবেন। (মুসলিম, হাদিস : ৩৮৭)

আজান দেওয়ার মর্যাদা অনেক বেশি : আজান দেওয়া এতটাই ফজিলতপূর্ণ যে একজন প্রকৃত মুমিন আজান দেওয়ার মতো সওয়াবে পূর্ণ বরকতময় এই আমলটি সম্পাদন করতে ভীষণভাবে আগ্রহী থাকে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যদি মানুষ জানত যে আজান দেওয়া ও নামাজে প্রথম কাতারে দাঁড়ানো কত সওয়াব এবং সঙ্গে এটাও জানত যে লটারি ছাড়া তা লাভ করা সম্ভব নয়, তবে অবশ্যই মানুষ (এ দুটি আমল লাভ করার জন্য) লটারির সাহায্য নিত।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৬১)

আজান জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায় : আজান দেওয়া জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের উপায়। যারা নিয়মিত আজান দেয়, হাদিস শরিফে তাদের জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির ঘোষণা এসেছে। জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি পাওয়ার চেয়ে বড় সফলতা আর কী হতে পারে!  আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি সওয়াবের আশায় সাত বছর আজান দেবে, তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির সনদ লিখে দেওয়া হবে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২০৬)

শয়তান আজান অপছন্দ করে : আজানের পবিত্র সুর এমন লোকদের অন্তরাত্মায় আলোর ঝলকানি ছড়িয়ে দেয়, যারা তাদের জ্ঞানবুদ্ধিকে কাজে লাগায়। বিশ্বজাহানের মালিকের কাছে আত্মসমর্পণ করে। পক্ষান্তরে যারা আল্লাহপ্রদত্ত জ্ঞানবুদ্ধিকে কাজে লাগায় না তারা তা অপছন্দ করে, তা নিয়ে ঠাট্টা করে। আজানের আলো থেকে বঞ্চিত থাকে।  ইরশাদ হয়েছে— ‘আর তোমরা যখন (মানুষকে) নামাজের জন্য ডাকো (অর্থাৎ আজান দাও)  তখন তারা তাকে (সে ডাককে) কৌতুক ও ক্রীড়ার লক্ষ্যবস্তু বানায়। এসব আচরণ এ কারণে যে তারা এমন সম্প্রদায়, যারা তাদের বোধশক্তিকে কাজে লাগায় না।’ (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ৫৮)

আজানকে অপছন্দ করা শয়তানের বৈশিষ্ট্য। শয়তান আজানের পবিত্র ধ্বনিকে সহ্য করতে পারে না। এতে তার শরীরে অস্থিরতা শুরু হয়ে যায়। একটি হাদিস থেকে এ বিষয়টি প্রতীয়মান হয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যখন আজান দেওয়া হয়, তখন শয়তান বায়ু নির্গমন করতে করতে এত দূরে চলে যায় যে সেখান থেকে আজান শোনা যায় না।’ (বুখারি, হাদিস : ৩২৮৫)

তাই আসুন, আমরা আজানের মাহাত্ম্য চেতনায় ধারণ করে নিজেদের জীবনকে আলোকিত করি। 



সাতদিনের সেরা